জানুন ভারতের বৃহত্তম শিবমন্দিরের অবাক করা ৭ টি তথ্য

Share:

বৃহদেশ্বর মন্দির (Brihadeeswarar Temple) দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুরে অবস্থিত এক অনন্য স্থাপত্য বিস্ময়। প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো এই মন্দিরটি চোল সাম্রাজ্যের শক্তি, শিল্পরুচি ও প্রকৌশল দক্ষতার এক অসাধারণ নিদর্শন। চোল সম্রাট রাজা রাজা চোল-১ ১১শ শতকে এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। এটি রাজরাজেশ্বর মন্দির নামেও পরিচিত এবং UNESCO World Heritage Site হিসেবেও বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। জেনে নেওয়া যাক মন্দিরটির ৭টি বিস্ময়কর তথ্য

১. দ্রাবিড়ীয়ান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বৃহদেশ্বর মন্দিরের সবচেয়ে আলোচিত রহস্যগুলির মধ্যে অন্যতম হলো এর বিশাল শিখর বা ‘বিমান’-এর ছায়া স্পষ্টভাবে মাটিতে পড়ে না। প্রায় ২১৬ ফুট উচ্চতার এই শিখর এমনভাবে নির্মিত হয়েছে যে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী ছায়া মূল কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। যদিও বিজ্ঞানীরা এর পেছনে স্থাপত্যগত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তবুও সাধারণ মানুষের কাছে এটি আজও এক বিস্ময়কর রহস্য।

২. এই বিশাল মন্দির নির্মাণে প্রায় ১,৩০,০০০ টনেরও বেশি গ্রানাইট পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মন্দিরের আশেপাশে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো গ্রানাইটের পাহাড় বা খনি নেই। এত বিপুল পরিমাণ পাথর সেই যুগে কীভাবে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল, তা আজও ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের বিস্মিত করে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই এত বিশাল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া সত্যিই অবাক করার মতো।

৩. মন্দির নির্মাণে কোনো সিমেন্ট, চুন, বালি বা আঠালো উপাদান ব্যবহার করা হয়নি। পাথরগুলিকে বিশেষ কৌশলে একটির সঙ্গে আরেকটি জুড়ে বা ‘ইন্টারলকিং’ পদ্ধতিতে স্থাপন করা হয়েছিল। এই অসাধারণ প্রকৌশলের কারণেই হাজার হাজার বছর পরেও মন্দিরটি অটুটভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যবিদ্যার এটি এক অনন্য উদাহরণ।

৪. মন্দিরের প্রধান বিমানের একেবারে উপরে রয়েছে প্রায় ৮০ টন ওজনের একটি বিশাল একক পাথর। এত ভারী পাথর সেই সময় কীভাবে এত উঁচুতে তোলা হয়েছিল, তা সত্যিই বিস্ময়ের বিষয়। বর্তমান নির্মাণকারী ও গবেষকের মতে, ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ঢালু পথ তৈরি করে ধীরে ধীরে হাতি ও ঘোড়ার মাধ্যমে পাথরটি উপরে তোলা হয়েছিল। এটি প্রাচীন ভারতীয় প্রকৌশল দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন।

৫. মন্দিরের প্রবেশমুখে অবস্থিত ১৩ ফুটের নন্দী মূর্তিটি একটিমাত্র পাথর খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ২৫ টন ওজনের এই নন্দী ভারতের অন্যতম বৃহৎ নন্দী মূর্তিগুলির একটি। এর সূক্ষ্ম কারুকার্য ও নিখুঁত গঠন শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় বহন করে।

৬. এত বিশাল ও জটিল মন্দির নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল মাত্র সাত বছর। বর্তমান যুগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এমন নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা কঠিন। এটি প্রমাণ করে যে চোল যুগে প্রশাসনিক দক্ষতা, পরিকল্পনা ও শ্রমশক্তির সমন্বয় কতটা উন্নত ছিল।

৭. বৃহদেশ্বর মন্দিরের ভিত্তি এমনভাবে নির্মিত যে এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও অক্ষত রয়েছে। অনেক গবেষক একে ‘ভাসমান ভিত্তি’ বা ‘ফ্লোটিং ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। এই বিশেষ ভিত্তি কাঠামো মন্দিরটিকে নানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিঘাত থেকেও রক্ষা করেছে বলে মনে করা হয়।

কাঁওয়ার যাত্রীদের উপর পুষ্পবৃষ্টি, শ্রাবণী মেলায় ১৫ কোটি টাকার আর্থিক অনুদানের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রেশন দুর্নীতির অভিযোগে গুমায় খাদ্যমন্ত্রীর হানা, গ্রেফতার ডিলার শ্যামল সাহা

রাজ্যে গুন্ডাদমন আইনে স্থগিতাদেশের আর্জি, কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের

একসময়ে চিকিৎসার সামর্থ্য ছিল না, বর্তমানে ধনকুবের মেসির সম্পত্তি কত, জানেন?

যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর! রাজ্যে চালু হল আরও ৫টি সরকারি বাস, জানুন রুট

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রক্ষাকবচ পেলেন মানস ভুঁইয়া, হাইকোর্টে মিলল সাময়িক রেহাই