এই মুহূর্তে

হিযবুত জঙ্গি হাদির উপরে গুলি, ঢাকা পুলিশের র‍্যাডারে দুই মক্ষীরানি শামান্তা-জুমা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ভোটপ্রচারে বেরিয়ে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তথা হিযবুত তাহরীর জঙ্গি শরিফ ওসমান বিন হাদি। আপাতত রাজধানীর এভারকেয়ারে চিকি‍ৎসাধীন গত ৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার মূলপাণ্ডা। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক রিপোর্টে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, চার শিল্পপতির কাছ থেকে তোলাবাজি বাবদ আদায় করা ৩০০ কোটির বাঁটোয়ারা নিয়ে বিবাদের জেরেই হামলার শিকার হয়েছেন হাদি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ঢাকা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, হাদির উপরে হামলার ঘটনায় দুই মক্ষীরানি শামান্তা সারমিন ও ফাতিমা তাসনিম জুমার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও জামায়াতে শিবিরের নেতাদের ‘সেবাদাসী’ হিসাবে পরিচিত দুই মক্ষীরানি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। গোয়েন্দাদের জেরার হাত থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন জুমা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ৫ অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে ভারত ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করতে ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন হাদি। সেই সময়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ হন চট্টগ্রামের মহেশখালীর মেয়ে তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ফাতিমা তাসনিম জুমা। দুজনে একত্রবাসও করতে শুরু করেন। এ নিয়ে কানাঘুষোও শুরু হয়। জামায়াত নেতাদের সেবাদাসী হিসাবে পরিচিত ঝুমার ইশারাতেই চলতে শুরু করেন হাদি।

দুজনের প্রণয় সম্পর্কের মাঝে খলনায়িকা হিসাবে ঢুকে পড়েন আর এক মক্ষীরানি তথা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রী শামান্তা শারমিন। তিনি সুকৌশলে হাদির ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। দুজনে একত্রবাস করতে শুরু করেন। তাতেই চটে যান ফাতিমা তাসনিম জুমা। ইনকিলাব মঞ্চ ছেড়ে তিনি ঘনিষ্ঠ হন ইসলামী ছাত্র শিবিরের শীর্ষ দুই নেতার। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকতে শয্যাসঙ্গিনীও হন। ফলস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র শিবিরের হয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থী হন এবং জয়ী হন। ক্ষমতাশালী হওয়ার পরে ফের হাদির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চালান। কিন্তু ততক্ষণে হাদির নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন শামান্তা সারমিন। গত জুন মাসে হাদির সঙ্গে পটুয়াখালীর বাউফলের বাসিন্দা ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। তখন থেকেই হাদির হয়ে তোলাবাজি শুরু করে দেন মাসুদ। তোলাবাজি করতে গিয়ে গত বছরের নভেম্বরে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়লেও শামান্তা শারমিনের সুপারিশে জামিন পাওয়া মাসুদ গত কয়েকমাসে প্রায় তনশো কোটি টাকা তুলে হাদির হাতে দিয়েছেন। গত ৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার পর কালচারাল সেন্টারে হাদির প্রচারণা টিমের মিটিংয়ে হাজির ছিলেন তিনি। ওই দিনই ৩০০ কোটির বাঁটোয়ারা নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। গোয়েন্দারা মনে করছেন, প্রেমিক হাদিকে হারানোর ভয়ে দুই মক্ষীরানি শামান্তা সারমিন  ও ফাতিমা তাসনিমা জুমার মধ্যে কেউ মাসুদকে ব্যবহার করে তাঁর উপরে হামলা চালাতে পারে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

হিন্দু নিধন যজ্ঞের হোতাদের জামাই আপ্যায়ন ঢাকার ভারতীয় দূতের, ক্ষোভে ফুঁসছেন মুক্তিযোদ্ধারা

জেলের গেটে প্রথমবার মৃত ছেলেকে কোলে নিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ছুঁয়ে কাঁদলেন হাসিনার দলের ছাত্র নেতা

বাংলাদেশের নরসিংদীতে ফের হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে খুন

বাংলাদেশে কোনও হিন্দু সাংসদ হতে পারবেন না, ফরমান মুসলিম নেতার

‘ইউনুস একজন খুনি ফ্যাসিস্ট’, নির্বাসনের পর প্রথম জনসভায় শেখ হাসিনা

খালেদা পুত্র তারেককে ‘বসন্তের কোকিল’ বলে কটাক্ষ জামায়াতে আমীরের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ