এই মুহূর্তে

হিন্দু পুলিশ অফিসারকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার মূলচক্রী গ্রেফতার, মুক্তির দাবিতে পথে ইসলামি জঙ্গিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশে এখনও হিংসা থামেনি। একটি ঘটনায় আবারও আলোড়ন পড়েছে দেশজুড়ে। ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ এবার এমন হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করল ইসলামি জঙ্গিরা। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার নাগাদ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মোড়টি অবরোধ করে। যার ফলে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার (২ জানুয়ারী) দুপুরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভিতরে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত ওসির সঙ্গে প্রকাশ্যে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ছিলেন মাহদী হাসান, সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই জোর চর্চা শুরু হয় তাঁকে নিয়ে। আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। হিন্দু পুলিশ অফিসারককে খুন করার দায় স্বীকার করে মাহদী হাসান। তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দাবী করে অতীতের সহিংস আন্দোলন ঘটানোর উল্লেখ করে হুমকি দেন।

এরপরেই শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাহদী হাসানকে আটক করে পুলিশ। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়। আসলে ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যখন শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে শায়েস্তাগঞ্জ পুলিশ। নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসার অভিযোগে আটক করা হয় তাঁকে। এরপরেই এনামুলের মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করে ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তখনই মাহদী হাসানকে থানার ভিতরে ঢুকে ওসির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় এবং ওই ভিডিও ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা আন্দোলন করে গভমেন্টকে রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন, আন্দোলন কারী হয়েছেন তো কী হয়েছে? আমাদের এখানে ১৭ জন শহিদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়ে ছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বলছেন জানতে চাই।’ যদিও পরে পরিস্থিতি এমন হয় যে, পুলিশ এনামুল হাসানকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে মাহদীর বাকবিতণ্ডার এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই চর্চা শুরু হয় বাংলাদেশ জুড়ে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অবশেষে শনিবার মাহদী হাসানকে আটক করা হয়। আর তাঁকে আটক করতেই ফের ক্ষোভ শুরু হয় বাংলাদেশ জুড়ে। অশান্ত হয়ে ওঠে।

তাঁর মুক্তির দাবিতে শনিবার সন্ধ্যায় প্রথমে শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নেয় ইসলামি জঙ্গিরা। সেখানে তাঁরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ এমন স্লোগান দেয়। জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের নেতৃত্বে শাহবাগে জড়ো হয় সংগঠনের ইসলাম জঙ্গিরা। হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এরপর সেখানে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতায়েন করা হ‌য়। যদিও এদিকে ভিডিওটি নিয়ে হাসান বলেন, ‘আমি রাগের মাথায় কথা বলার সময়’ স্লিপ অফ টাং’ হওয়ার জেরে এমন কথা বলে ফেলেছি। আমরা পরে তা বুঝতে পেরেছি।’ কিন্তু প্রকাশ্যেই মাহদী হাসান স্বীকার করে নেয় যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হিন্দু পুলিশকে খুন করেছিল সে। 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গে টক্কর দিতে পাকিস্তান থেকে JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী

হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের সময়ে পুলিশ ও হিন্দুদের খুনের বিচার হবে না, অধ্যাদেশ জারি করছে ইউনূস সরকার

ভারতে ঢাকাই সিনেমার শুটিং নিষিদ্ধ করল ইউনূস সরকার

১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রিতে

পর স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠ অবস্থায় হাতেনাতে পাকড়াও জামায়াতে ইসলামীর নেতা

বাংলাদেশের ঝিনাইদহে হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণের পরে গাছে বেঁধে কেটে নেওয়া হল চুল

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ