এই মুহূর্তে

চলে গেলেন বিবিসি’র ‘ভয়েস অব ইন্ডিয়া’ মার্ক টালি, বয়স হয়েছিল ৯০

নিজস্ব প্রতিনিধি: সংবাদ জগতে শোকের ছায়া। চলে গেলেন বিবিসি’র ‘ভয়েস অব ইন্ডিয়া’ তথা প্রখ্যাত সাংবাদিক-লেখক মার্ক টালি। সংবাদ মহলে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। জানা গিয়েছে, সাংবাদিকতার জন্য অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ী মার্ক টালি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গতসপ্তাহে তিনি দক্ষিণ দিল্লির সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরটি সংবাদমাধ্যমকে দিয়েছেন আরেক কিংবদন্তি সাংবাদিক এবং টালির ঘনিষ্ঠ বন্ধু সতীশ জ্যাকব। তিনি একটি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ‘রবিবার বিকেলে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে মার্ক মারা গিয়েছেন।’

তবে তিনি জন্মসূত্রে কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন মার্ক টালি। ২২ বছর ধরে বিবিসির নয়াদিল্লি ব্যুরো প্রধান ছিলেন তিনি। পাশাপাশি একজন বিশিষ্ট লেখক এবং জনপ্রিয় বিবিসি রেডিও ৪ অনুষ্ঠান’ সামথিং আন্ডারস্টুড’-এর উপস্থাপক ছিলেন তিনি। তাঁকে ‘ভয়েস অব ইন্ডিয়া’ বলা হত। চারবছর বয়সে দার্জিলিং-এর একটি ব্রিটিশ বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। এরপর নয় বছর বয়সে উন্নত শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে চলে যান। তিনি হ্যাম্পশায়ারের টোয়াইফোর্ড স্কুল, মার্লবরো কলেজ এবং কেমব্রিজের ট্রিনিটি হলে পড়াশোনা করেছেন। যেখানে তিনি ধর্মতত্ত্ব নিয়ে অধ্যয়ন করেন। 

প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (বিবিসি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৩০ বছর কাজ করার পর ১৯৯৪ সালের জুলাই মাসে তিন বিবিসি থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় মার্ক টালি বিবিসির ভারতেদ সংবাদদাতা ছিলেন। বিবিসি সংবাদদাতা হিসেবে তিনি ভারতের সকল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী কভার করেছেন, যার মধ্যে ছিল ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ, ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি, অপারেশন ব্লু স্টার এবং পরবর্তীকালে ইন্দিরা গান্ধির হত্যা, রাজীব গান্ধির হত্যা এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংস। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত, যখন ইন্দিরা গান্ধি জরুরি অবস্থার সময় প্রেস সেন্সরশিপ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তখন টালির ভারতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে, ২০০১ সালে, তিনি লন্ডনের বাসিন্দা মার্গারেটকে বিয়ে করেন, যার সঙ্গে তাঁর চারটি সন্তান ছিল। তবে তিনি তাঁর বান্ধবী জিলিয়ান রাইটের সঙ্গে ভারতে থাকতেন। মার্ক টালি ২০০২ সালে নাইট উপাধি পেয়েছিলেন। ভারত সরকার ২০০৫ সালে তাঁকে পদ্মভূষণে ভূষিত করেছিল। এছাড়া তিনি ভারতের মানুষের জীবন ও সমাজ খুব কাছ থেকে অধ্যয়ন করেছিলেন। সেই কারণে তিনি ভারত সম্পর্কে বেশ কয়েকটি বই লিখতে সক্ষম হয়েছিলেন, “নো ফুল স্টপস ইন ইন্ডিয়া”, “ইন্ডিয়া ইন স্লো মোশন”, “দ্য হার্ট অফ ইন্ডিয়া”, “অমৃতসর: মিসেস গান্ধী’স লাস্ট ব্যাটল” (১৯৮৫), “ইন্ডিয়া’স আনএন্ডিং জার্নি” (২০০৮) এবং “দ্য রোড অ্যাহেড” (২০১১)। তার সর্বশেষ বই, “আপকান্ট্রি টেলস: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন দ্য হার্ট অফ ইন্ডিয়া” (২০১৭) হল উত্তর ভারতের গ্রামীণ গল্পের একটি সংগ্রহ।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

‘‌বনধ নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থী’‌, মমতার নীতির সঙ্গে সহমত শশী থারুর

মোদির মাকে গালি দেওয়া যুবককে ৫ মাস পর জামিন দিল পটনা হাইকোর্ট

এপস্টিন–হরদীপ সিং পুরীর ইমেল প্রকাশ্যে, চাপে পড়ে সাফাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

ভারতে ফিরে আসুন, পলাতক ঋণখেলাপি বিজয় মালিয়াকে নির্দেশ বোম্বে হাইকোর্টের

আইসক্রিম ব্যবসা আলাদা করতেই লাভের মুখ, চমক হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের

লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পিছনে জয়েশ-ই-মহম্মদ, এবার দাবি রাষ্ট্রপুঞ্জের তদন্ত রিপোর্টে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ