এই মুহূর্তে

Barracpore Cantonment Board এলাকায় জলকর বছরে ৯৬০টাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে পরিবর্তনের আগেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) জানিয়ে দিয়েছিলেন জোড়ফুল যে সব পুরসভায়(Municipality) ক্ষমতা দখল করবে সেই সব পুরসভায় কোনও জলকর(Water Tax) নেওয়া হবে না। সেই অবস্থান তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাওয়ার পরেও বজায় রেখেছেন। এখনও বাংলার বুকে তৃণমূল(TMC) পরিচালিত কোনও পুরসভায় নেওয়া হয় না কোনও জলকর। অথচ এই বাংলার বুকেই একটি Cantonment Board এলাকায় জলকর নিচ্ছে নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) সরকার। বছরে ৯৬০ টাকা করে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন মুখ পুড়ছে গেরুয়া ব্রিগেডের। পাশাপাশি তাঁদেরকে পড়তে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখেও, বাংলার কোনও পুরসভাতে বিজেপি(BJP) ক্ষমতায় না এসেই যদি একটি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মোদি সরকার বছরে প্রায় হাজার টাকা জলকর নিতে পারে তাহলে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় এলে তখন কী হাল হবে আমজনতার? যে এলাকার এই জলকর ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে সেটির অবস্থান উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। জায়গাটি হল Barracpore Cantonment Board এলাকা।

আরও পড়ুন ‘তোমার দেখা নাই রে তোমার দেখা নাই’, ক্ষোভ বাড়ছে বঙ্গ বিজেপিতে

দেশের কোনও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকাতেই কোনও রাজনৈতিক দল সরাসরি ভোটে অবতীর্ণ হতে পারে না। সেই এলাকা থাকে সরাসরি দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণে। এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রতি বছর অর্থও বরাদ্দ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ওই এলাকায় নিত্যদিনের পরিষেবা দিতে একটি বোর্ড গঠন করা হয় এলাকাবাসীর ভোটদানের মাধ্যমে। সেই নির্বাচনে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করতে পারেন না। ঘুরপথে নির্দল প্রার্থী হিসাবে তাঁরা অংশগ্রহণ করেন। তাই দেখা যায় সরাসরি রাজনৈতিক দলের হাতে চলে না গেলেও কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের প্রভাব সেই সব বোর্ডে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের বোর্ডের হাতেই ছিল সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্পত্তিকর ও জলকর নির্ধারণের দায়িত্ব। কিন্তু মোদি জমানায় সেই নিয়ম পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। এখন এই কর নির্ধারণ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রক। তাঁরাই এখন Barracpore Cantonment Board এলাকায় প্রতি মাসে জলকর বাবদ ৮০ টাকা অর্থাৎ বছরে ৯৬০ টাকা ধার্য করেছে। আর সেই ঘটনার জেরেই এখন মুখ পুড়ছে বিজেপির।

আরও পড়ুন কাকে বিশ্বাস করবেন, রাজ্য পুলিশের DG’র দেহরক্ষীই কিনা ডাকাত

Barracpore Cantonment Board এলাকায় প্রায় ১২০০ বাড়ি আছে। আগে থেকেই এই এলাকায় জলকর ছিল। দিতে হত সম্পত্তি করও। প্রথমে এই এলাকায় জলকর হিসাবে মাসিক ১৫ টাকা করে বছরে ১৮০ টাকা নেওয়া হত। পরে তা বাড়িয়ে মাসে ৪৫ টাকা অর্থাৎ বছরে ৫৪০ টাকা করা হয়। কিন্তু এবার সেই জলকরের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে মাসে ৮০ টাকা ও বছরে ৯৬০ টাকা করা হয়েছে। আর তা ঘিরেই এখন ক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছে এই ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের সেই ক্ষোভ আরও বেড়েছে এই ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ভোট বাতিল করে দেওয়ার ঘটনায়। মাস দুই আগেই এই ভোট হওয়ার কথা ছিল। তার জন্য বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। পরে সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে ভোট বাতিল করে দেওয়া হয়। পরিবর্তে এখন এই বোর্ডের কাজকর্ম দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় বোর্ডের CEO মমতা কানসের হাতে। তাঁর বক্তব্য, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি নির্ধারিত ফরম্যাট অনুযায়ী সকলের সম্পত্তিকরের মূল্যায়ণ করা হয়েছে। সেই হিসাবেই জলকর নির্ধারিত হয়েছে। যদিও কারও কিছু বক্তব্য থাকে তাহলা তা শুনানির মাধ্যমে অবশ্যই শোনা হবে। যা পরিস্থিতি তা দেখে সকলেই ধরে নিয়েছেন যে এলাকায় থাকতে হলে এই জলকর মেনে নিতেই হবে। কিন্তু গোটা ঘটনায় মুখ পুড়ছে বিজেপির। কেননা তাঁরাই এখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আওতায় থাকা এই সব ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে জলকর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাঁদেরই ঘাড়ে চাপচ্ছে এখন।

Published by:

Koushik Dey Sarkar

Share Link:

More Releted News:

বাংলার শিক্ষকদের ১,২৭৩ কোটি টাকা আটকে মোদি আসছে আরামবাগে সভা করতে

দুর্নীতি-সই নকলের অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড অধ্যাপক

পরীক্ষা ভাল না হওয়ায় আত্মঘাতী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে ঢোকায় ছেলেদের টেক্কা মেয়েদের

মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের মুখে জগন্নাথ ধামের কাজের গতি বাড়ল দিঘায়

প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে সন্তানকে খুন, মাকে ফাঁসির সাজা আদালতের

Advertisement

এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ

দার্জিলিং

কালিম্পং

জলপাইগুড়ি

আলিপুরদুয়ার

কোচবিহার

উত্তর দিনাজপুর

দক্ষিণ দিনাজপুর

মালদা

মুর্শিদাবাদ

নদিয়া

পূর্ব বর্ধমান

বীরভূম

পশ্চিম বর্ধমান

বাঁকুড়া

পুরুলিয়া

ঝাড়গ্রাম

পশ্চিম মেদিনীপুর

হুগলি

উত্তর চব্বিশ পরগনা

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

হাওড়া

পূর্ব মেদিনীপুর