বুকে অসুস্থ সন্তানকে বেঁধেই টোটো ছোটাচ্ছেন ‘আজকের দুর্গা’ বর্ধমানের সুস্মিতা

তেমনি আজ আলোচনা করব পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের 'দূর্গা'-কে নিয়ে। তিনিও আর পাঁচজনের মতো আটপৌরে বাঙালি বধূ। নাম তাঁর সুস্মিতা রোম।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকে কাঠি পড়তে আর মাত্র ২২ দিন বাকি! যার জন্যে গোটা বছর অপেক্ষায় থাকেন বাঙালি, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। তবে ভগবানকে আমরা চোখে দেখতে পাইনা ঠিকই, কিন্তু ভগবানরূপী মানুষ আমাদের চোখের সামনে হরদম ঘুরছে। কিন্তু আমরা তাদের দেখতে পাইনা। তেমনই আজও পথে ঘাটে গ্রাম বাংলায় রয়েছে অজস্র দুর্গা। কেউ কেউ শ্বশুরবাড়ির দ্বারা অত্যাচারিত, কেউ কেউ সমাজের নরপিশাচের দ্বারা। কিন্তু ১০ হাতে সকলকে পরাস্ত করে বুক চিতিয়ে বেঁচে রয়েছেন সেই সব দুর্গারা। নিজের পাশাপাশি সন্তানের মুখেও তুলে দিচ্ছেন অন্ন। তেমনি আজ আলোচনা করব পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের ‘দূর্গা’-কে নিয়ে। তিনিও আর পাঁচজনের মতো আটপৌরে বাঙালি বধূ। নাম তাঁর সুস্মিতা রোম। কিন্তু জীবনের প্রতিপদে তিনি দুর্গতিনাশিনীর ভূমিকা প্লে করছেন, প্রকৃতপক্ষে বাস্তবের দুর্গা তিনি। কোলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন চার বছরের ছেলে। স্বামীকে হারানোর পরেই শুরু হয় তাঁর সংগ্রাম। বাধ্য হয়ে ছেলের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে চলে যান বাপের বাড়ি। কিন্তু এখানেও কপাল মন্দ। যার ভরসায় বাপের বাড়ি যান, সেই বাবাকেও হারিয়ে ফেলেন। কষ্টের দিন শুরু হয় সুস্মিতা। কী করে পেট চালাবেন, ছেলের মুখে অন্ন তুলে দেবেন, তার চিকিৎসা করাবেন, ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছিলেন না।

এরপরেই তাঁর চোখ পড়ে বাবার টোটোতে। খুঁজে পেলেন বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র। পরের দিন থেকে টোটোর হ্যান্ডল ধরে প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি। তারপর রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। এখন কোলে ছেলে নিয়েই পুরোদস্তুর ভাতারের মহিলা টোটোচালক সুস্মিতা। এই টাকায় চলছে তাঁর সংসার এবং ছেলের চিকিৎসা। তাই সুস্মিতা এখন ভাতারের মানুষের কাছে ‘দুর্গা’। তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া মানুষেরা। সুস্মিতার জন্ম ভাতারে। ছোট থেকেই অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেছেন টুজি। বাবা অটো চালিয়ে পড়াশোনা করিয়েছেন তাঁকে। তবে বেশিদূর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। স্বামীর আয় ভালই ছিল। তাতে সংসার দিব্য চলে যাচ্ছিল। কিন্তু সংসারে নতুন এলেও ভগবান তাঁকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করে পাঠায়। শুরু হল তাঁর নতুন লড়াই। ছেলের যখন চার বছর বয়স, তখনই মারা যান তাঁর স্বামী। এরপরেই কিছু না ভেবে বাপের বাড়ি চলে আসেন তিনি। সেখানেও বাবাকে হারান। যেন নিমিষেই বেঁচে থাকার সব খুঁটি ভেঙে যায়। এখন ছেলেকে কোলে নিয়েই টোটো চালান তিনি। পৌঁছে দেন যাত্রীদের গন্তব্যে।

যদিও বর্তমানে নারীদের কাছে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। ট্রেন থেকে প্লেন জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, সংসার-চাকরি সব এক হাতে সামলাচ্ছেন। তাই সুস্মিতাও সমাজের মুখ ভেঙানি উড়িয়েই টোটো চালাতে শুরু করেন। সাধারণত মেয়েদের টোটো চালানো দেখে অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যায়। কিন্তু সৎ পথে রোজগার এটাই বড় কথা! সুস্মিতার কথায়, ‘সন্তান তখন খুব অসুস্থ। চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই বাবার রেখে যাওয়া টোটো চালানোর সিদ্ধান্ত নিই। gave অসুস্থ শিশুকে বাড়িতে রেখে যেতে পারিনি। তাই ওকে বুকে বেঁধেই টোটো চালাই। প্রথম দিকে অসুবিধা হতো। এখন হয় না।’ তাঁর এই আবেগঘন কাহিনী মন ছুঁয়েছে সকলের। তাই তো আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাঁকে সম্মান জানানো হয়েছে। এদিকে দুর্গাপুজোর জন্যে একটু বাড়তি রোজগারে ব্যস্ত সুস্মিতা।

পাহাড় ও সাগরের মেলবন্ধন,পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসুন ওড়িশার কটক

পেটের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিমেষেই দূর করবে এই পুষ্টিকর সবজি!

চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, মুখে রুটি তুলে দিল ছোট্ট মেয়ে, ভাইরাল মমতার দৃশ্য

ওয়েট ট্রেনিংয়ে উধাও অনিদ্রা! জিম করলেই কি মিলবে মুক্তি?

‘রাম মন্দিরের বিরুদ্ধে মিছিল করে ধ্বংস হয়ে গিয়েছেন,’ নাম না করে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

এয়ারটেলের ₹২১৯ প্ল্যানে মিলছে ২৮ দিনের ভ্যালিডিটি-সহ অবিশ্বাস্য সুবিধা

ডিভোর্স মামলা করায় আদালত চত্বরেই স্ত্রীকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মার স্বামীর

কেতুর প্রভাবে বদলাবে ভাগ্য, ৭১ দিন ধরে টাকার বৃষ্টি ৫ রাশির জাতকদের জীবনে

‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে…’, মাকে ফোনের পরেই হোমস্টে থেকে মিলল ছাত্রীর দেহ

হাসিরানির সমর্থনে নন্দীগ্রামে জোড়া সভা করবেন শুভেন্দু অধিকারী

পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খানে তল্লাশি চৌকিতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন ১১ জন

রবিতে শহরে নীতিন নবীন, নেতাদের কি বার্তা দেন, তাকিয়ে বঙ্গ বিজেপি

‘রং দেখে নয়, তোলাবাজি করলেই গ্রেফতার করুন,’ পুলিশকে নির্দেশ শমীকের

গ্রিসে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত ২, নিখোঁজ ৫