আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

শিমলার রামমন্দিরে মুসলিম মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান, বিতর্ক তুঙ্গে

নিজস্ব প্রতিনিধি: কী কাণ্ড! রাম মন্দিরে বসেছে মুসলিম পরিবারের মেয়ের বিয়ের রিসেপশন, ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড। ঘটনাটি ঘটেছে, হিমাচল প্রদেশের শিমলার একটি রাম মন্দিরে। যা নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। বিতর্কিত সুর চড়াতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনীতি শিবিরগুলি। এই নিয়ে এখন শিমলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডল উত্তপ্ত। এই ঘটনায় হিন্দু সংগঠনগুলিও তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। আসলে শিমলার এক মুসলিম পরিবার তাঁদের মেয়ের বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য রামমন্দিরের একটি হল বুক করে ছিল, তা থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। এ নিয়ে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির সদস্যরা আপত্তি জানালে বিষয়টি তিব্র আকার নেয়। তাঁদের অভিযোগ, মন্দির চত্বরের ভেতরে কোনও নিকাহ (ইসলাম বিবাহ অনুষ্ঠান) হতে দিলে হিন্দুধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে।

এরপর তাঁরা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি মন্দির চত্বরে নিকাহ অনুষ্ঠিত হয়, তবে তাঁরা প্রতীকী হিসেবে মাথা মুণ্ডন করে প্রতিবাদ জানাবে। কিন্তু মুসলিম পরিবারটি জানায়, তাঁরা হলটি শুধুমাত্র সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্যেই বুক করেছেন, নিকাহ বা বিয়ের জন্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, এই রাম মন্দিরটি সুদ সভা মন্দিরের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। কিন্তু বিতর্ক তীব্র হলে কমিটির চেয়ারম্যান রাজীব সুদ স্পষ্ট করে জানান, কোনও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নয়, বরং শুধুমাত্র একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য বুকিংটি নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া অনুষ্ঠানটি মূল মন্দিরের ভিতরে নয়, বরং মন্দিরের কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে কোনও প্রার্থনা বা মুসলিম ধর্মীয় কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত হবেনা। নিয়ম ভাঙলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে এবং পুলিশ আসবে। বিয়েটি মসজিদে সম্পন্ন করা হবে। মন্দিরের হলে শুধুমাত্র একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হবে এবং অনুষ্ঠানস্থলের নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত আয়োজন করা হয়েছে। তাই এই ধরনের বিতর্ক অপ্রয়োজনীয়।

কনের বাবা মোহাম্মদ নাসিরও এই বিতর্ককে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন যে অনুষ্ঠানটি নিছকই একটি সামাজিক সমাবেশ। তাঁদের অতিথিরা অনেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের। তিনি বিষয়টিকে সংঘাতের পরিবর্তে সামাজিক সম্প্রীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য আবেদন জানান। তবে বিতর্ক বাড়তে দেখে মন্দির কমিটি আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। রাজীব সুদ ব্যাখ্যা করেছেন যে, গত পাঁচ বছরে এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় ১৫-১৬টি সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। তবে, এবারের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হলে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তবে রাম মন্দিরের কর্তৃপক্ষের স্পষ্টীকরণের পরেও হিন্দু সংগঠনগুলির ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। দেবভূমি সংঘর্ষ সমিতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে মন্দির চত্বরে এমন কোনও ঘটনা ঘটলে হিংসাত্মক প্রতিবাদ করা হবে। কিন্তু হিন্দু মন্দির চত্বরে এ ধরনের কোনও অনুষ্ঠান করা উচিত নয় বলেই জানিয়েছেন অধিকাংশ মানুষ। 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বেহুলা লখিন্দরের কাহিনী বিজড়িত পুরাতন মালদার দেবকুন্ডকে ঘিরে গন্ধেশ্বরী মাতার পুজো

গণনায় শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী কেন?‌ সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল, শনিবারই জরুরি শুনানি

প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো ইডি অফিসারকে বিশেষ পুরস্কার সংস্থার

বাণিজ্যিক গ্যাসের পরে এবার পেট্রল-ডিজেলের দাম লিটারপিছু ৪-৫ টাকা বাড়ছে?

চাকরি না পেয়ে আমেরিকায় আত্মঘাতী ভারতীয় তরুণ, অন্ধ্রে ছেলের দেহের অপেক্ষায় ঋণগ্রস্ত বাবা

উজ্জয়নের মহাকাল মন্দির চত্বর খুঁড়তেই মিলল একবিংশ শতাব্দীর বিশাল শিবলিঙ্গ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ