এই মুহূর্তে

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি, গণনা কবে?

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সব জল্পনার অবসান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ওই দিন গণভোটও হবে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই শুরু হবে গণনা। আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা ঘোষণা করেছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন। স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রথম ভোটে লড়তে পারছে না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল আওয়ামী লীগ। এবারের লড়াই মূলত ত্রিমুখী। খালেদা জিয়ার বিএনপির সঙ্গে লড়াই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতে ইসলামী এবং পাকিস্তানপ্রেমী জাতীয় নাগরিক পার্টির।  সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা-কালো। গণভোটের ব্যালটের রং হবে গোলাপি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার অংশ নেবেন। ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।

ঘোষিত নির্ঘন্ট অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ১১ জানুয়ারি এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, প্রচার শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।

বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা। ৩০০ আসন বিশিষ্ট জাতীয সংসদে হাসিনার দল আওয়ামী লীগ জয়ী হয় ২২২ আসনে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের  জাতীয় পার্টি জয়ী হয় ১১টি আসনে। আওয়ামী লীগ জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, কল্যাণ পার্টি একটি করে আসনে জয়ী হয়েছিল। নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন ৬২টি আসনে। যদিও ওই নির্বাচন বয়কট করেছিল খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। পাকিস্তান প্রেমী ইসলামি দলগুলিও অংশ নেয়নি। ওই ভোট নিয়ে ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে।

নিয়মানুযায়ী, আগামী জানুয়ারিতে ত্রয়োদশ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বছরের ৫ অগস্ট সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান শেখ হাসিনা। প্রাণ বাঁচাতে ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেন। এর তিন দিন বাদে ৮ অগস্ট সেনা সমর্থিত তদারকি সরকার ক্ষমতা দখল করে। ভেঙে দেওয়া জাতীয় সংসদ। তবে সাধারণ নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু করে দেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁকে পিছন থেকে ইন্ধন জোগাতে থাকে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। তবে সেনার চাপে শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাজামাঝি ভোট হবে বলে ঘোষণা করতে বাধ্য হন ইউনূস।

গতকাল বুধবারই (১০ ডিসেম্বর)বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে দেখা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ঘন্ট পেশ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ওই বৈঠকের পরেই নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আমেদ সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করা হবে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

‘ইউনুস একজন খুনি ফ্যাসিস্ট’, নির্বাসনের পর প্রথম জনসভায় শেখ হাসিনা

খালেদা পুত্র তারেককে ‘বসন্তের কোকিল’ বলে কটাক্ষ জামায়াতে আমীরের

বিপিএলে গড়াপেটায় জড়িত বাংলাদেশ বোর্ড সভাপতি, বিস্ফোরক দাবি বিসিবি পরিচালকের

চট্টগ্রামে এক আঙিনায় ১৫ মণ্ডপে বাগদেবীর আরাধনা

গণহত্যাকারী জামায়াতকে বিজেপির সঙ্গে তুলনা ইউনূসের বিদেশ উপদেষ্টার

দেড় বছর আগেই মৃত, বাংলাদেশের ভোটে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব সামলাবেন ‘ভূত’ শিক্ষক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ