এই মুহূর্তে

নয়া কীর্তি পাকিস্তানের দালাল মোল্লা ইউনূসের,  ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বদলে হল ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ছিলেন রাজাকার বাহিনীর বিশেষ পাণ্ডা। পাক হানাদার বাহিনীর সমর্থনে প্রচার চালিয়ে বেরিয়েছিলেন। তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টায় আদাজল খেয়ে নেমেছেন মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানি হানাদারদের কুকীর্তি আড়াল করতে নতুন ছক কষেছেন। হবু আমলাদের অর্থা‍ৎ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এবার মুক্তিযুদ্ধকে ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ‘দখলদার বাহিনী’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থা‍ৎ একাত্তরে পাক বাহিনীর নৃশংসতা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ওই প্রশ্নপত্র দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছিল পরীক্ষার্থীদের। ইতিমধ্যেই ওই প্রশ্নপত্র নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেক শিক্ষাবিদ-নেটা নাগরিক বলেছেন, ‘এর জন্যই কি লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিজের প্রাণ দিয়েছিলেন?’ পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোবাশ্বর মোনেমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙে আলাদা হওয়ার যে ভুল করেছিলেন ত‍ৎকালীন নেতারা, তার প্রায়শ্চিত্ত করছি আমরা। মুক্তিযুদ্ধ বলে কিছু হয়নি। প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়েছিল। তাই প্রতিরোধ যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছি।’

গত ২৭ নভেম্বর থেকে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা। ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা আছে। গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ‘বাংলাদেশ বিষয়াবলি’ বিষয়ের পরীক্ষা ছিল পরীক্ষার ‘মহানন্দা’ সেটের ‘১’ নম্বর প্রশ্নে বলা হয়েছে, “১৯৭১ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিন।” ওই প্রশ্ন হাতে পেয়ে হতবাক হয়ে যান পরীক্ষার্থীরা। ঢাকার এক পরীক্ষার্থী বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বিডি নিউজ ২৪’-কে বলেছেন, ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ ও দখলদার বাহিনী শব্দগুলো দেখে কিছুটা খটকা লেগেছে। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থীরাও আলোচনা করেছেন।”

হবু আমলাদের মুক্তিযুদ্ধ ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টার সমালোচনা করেছেন এ ধরনের শব্দ চয়নের সমালোচনা করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন  শিক্ষক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ডক্টরাল ফেলো আসিফ বিন আলী। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধ না লিখে লিখছেন ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর না লিখে লিখছেন ‘দখলদার বাহিনী’। ডাকসুর এক নারী নেত্রী লিখছেন ‘সহস্রাধিক শহীদ’। জামায়াতের মুফতি কাজী ইব্রাহিম বলছেন, ১৬ ডিসেম্বর নাকি বিজয় দিবস না, তা ‘কালো দিবস’। বলছেন ৩২ নম্বর নাকি মুক্তিযুদ্ধের অংশ না। বিহারি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আপনার প্রাণ কাঁদে। উগ্র ডানপন্থী আরেক তরুণ বুদ্ধিজীবী এখন মুক্তিযোদ্ধাদের মব হিসেবে লিখছেন। শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু বলা যাবে না। কয় দিন পরে বলবেন, জিয়া তো বাগী ছিল। সময়ের অপেক্ষা মাত্র।”

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা যতবার চাই মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের আর বিপক্ষের এই বয়ান থেকে রাজনীতিকে বের করে বর্তমানের অধিকারের দাবিতে আনতে, ততবার তারা ফেরত নিয়ে যায় ওই বয়ানেই। যারা এই কাজ করছেন, তারা যে ইতিহাসের জন্য করছেন, কিংবা বিহারিদের প্রতি দরদ থেকে করছেন, তা কিন্তু নয়। আসল কথা, এরা এখন এদের মুখোশ খুলে ফেলছে। এরা ৫৪ বছর আগে পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেননি, তাই বারবার মুক্তিযুদ্ধকে আক্রমণ করতে ব্যস্ত।”

এম শাহজালাল পারভেজ নামের একজন নেটা নাগরিক প্রশ্নপত্রের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সকল শ্রেণির মানুষ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল। ২০২৫ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে দখলদার বাহিনী এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিরোধ যুদ্ধ বলে কেন প্রচার করা হচ্ছে? ভুলে যাবেন না নিজের জন্ম নিয়ে যদি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে মানুষ আপনাকে বেজন্মা বলবে।” সাবিবুল ইসলাম নামের এক পরীক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, “পিএসসি এখন জামাতিদের দখলে। তাই ৪৭তম বিসিএস এর প্রশ্ন…পাকিস্তানি বাহিনী হইয়া গেছে দখলদার বাহিনী…আর মুক্তিযুদ্ধ হইয়া গেছে প্রতিরোধ যুদ্ধ! দেখতে থাকি আমরা।”

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ও গবেষক সালেক খোকন বিডিনিউজ ২৪ ডটকমকে বলেন, “দখলদার বলে তারা (পিএসসি) পাকিস্তান শব্দটিকে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল কিনা, এটি বরং তাদের প্রশ্ন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ নামক স্বাধীন দেশ তো পাকিস্তান থেকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, লাখো শহীদের রক্ত, ত্যাগ আর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বেই অর্জিত হয়েছে। সেই দেশের প্রশ্নপত্রে বরং এমন শব্দের ব্যবহার আমাদের পাকিস্তান প্রেমকেই স্পষ্ট করে। এটা স্বাধীনতার ইতিহাসকে এক ধরনের বিভ্রান্তি ফেলার চেষ্টা কিনা সেই সন্দেহটিও থেকে যায়। আগে আমরা ইতিহাসের অতিরঞ্জন করা দেখেছি। এখন দেখছি ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়া চেষ্টা। এটি দুঃখজনক। এখানে পাকিস্তান কর্তৃক বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞের ঘটনাটিও কৌশলে হালকা করে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মনে করি, যা প্রত্যাশিত নয়। কেননা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সূর্যের মতো সত্য, এটি আমাদের শেকড়ের ইতিহাস। এটিকে বির্তকিত, বিকৃত ও বদলে ফেলার চেষ্টা আগেও হয়েছে, এখনও হয়তো হচ্ছে।”

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ঢাকার অদূরে গাজীপুরে হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে খুন করল সন্ত্রাসীরা

চট্টগ্রামের পরে এবার লক্ষ্মীপুরে, বাইরে থেকে দরজা আটকে ৭ হিন্দু বাড়িতে আগুন

কিশোরগঞ্জের ৯৬ বছরের প্রাচীন হিন্দুদের চৌদ্দমাদল মেলা বন্ধ করল ইউনূস সরকার

ভারতীয় হওয়ায় আইসিসির প্রতিনিধিকে ভিসা দিল না ইউনূস সরকার

প্রেমিককে বেঁধে রেখে তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ, ফের ভয়াবহ ঘটনা ইউনূসের দেশে

চিনের ইন্ধনে ভোটের মুখেই বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ