এই মুহূর্তে

ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি জয়েশের সহযোগী সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের  

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাকিস্তানি ভৃত্য মোল্লা ইউনূসের জমানায় চরমে পৌঁছেছে ভারত বিরোধিতা। তদারকি সরকারের ইন্ধনে সরাসরি ভারতকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে শুরু করেছে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। সেভেন সিস্টার্সকে বিচ্ছিন্ন করার পরে এবার ঢাকার বারিধারায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালানোর হুমকি দিল পাক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই মহম্মদের সহযোগী ইনকিলাব মঞ্চ। কোনও রাখঢাক না রেখে সংগঠনের সদস্য-সচিব তথা কুখ্যাত জঙ্গি আবদুল্লাহ আল জাবের হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বন্ধ না করলে ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে পাল্টা হামলা চালাব। দূতাবাস বন্ধ করে দেব।’ ওই হুমকির পরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিক ও কর্মীরা। বড় ধরনের হামলা থেকে বাঁচতে অনেকেই পরিবারকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয়, হুমকি দেওয়া জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ধার ধারেনি মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার।

ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরেই পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই মহম্মদের সহযোগী সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চ। ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের মদতে বাংলামোটরে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনে জঙ্গি প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করে সংগঠনটি। প্রশিক্ষণের নেতৃত্বে রয়েছেন ওসামা বিন লাদেনের আল-কায়েদার সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া হাসিনুর রহমান, কর্নেল আবদুল হকরা। তিনশো যুবকের একটি ফিঁদায়ে বাহিনীও গঠন করা হয়। কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং পটুয়াখালী-সহ একাধিক জায়গায় মাদ্রাসার পড়ুয়াদের নিয়ে মগজধোলাই করার পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জান কবুল করার শপথনামাতেও স্বাক্ষর করানো হয়েছে।

গোয়েন্দারা জেনেছেন, মূলত বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের সেভেন সিস্টার্সে নাশকতা চালানোর লক্ষ্য নিয়েই খোলা হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনের আহ্বায়ক করা হয় হিযবুত তাহরীর জঙ্গি শরিফ ওসমান বিন হাদিকে। সদস্য সচিব হন আব্দুল্লাহ আল জাবের। দুজনেই পাকিস্তানের ভাওয়ালপুরে জয়েশ-ই মহম্মদের জঙ্গি শিবিরে গিয়ে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। মাঝে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের দুই আধিকারিকের উপরে হামলার পরিকল্পনাও চালিয়েছিলেন হাদি। ওই হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জামায়াতে নেতাদের যৌনদাসী হিসাবে পরিচিত ফাতিমা তাসনিম জুমাকে। তবে বাংলাদেশের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) ওই খবর জানতে পেরে ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দাদের সতর্ক করে দেয়। ভারতীয় দূতদের উপরে হামলা হলে তার ভয়ঙ্কর মূল্য চোকাতে হবে বলেও প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়ে দেয়। এর পরেই তদারকি সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদির সঙ্গে বৈঠক করে ওই পরিকল্পনা বাতিলের অনুরোধ জানান। ভারতীয় দূতদের উপরে হামলা না চালিয়ে কিভাবে পশ্চিমবঙ্গ সহ সেভেন সিস্টার্সে নাশকতা চালানো যায় সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তার পরামর্শ দেন।

গত শুক্রবার তোলাবাজির ৩০০ কোটির বাঁটোয়ারা নিয়ে গোলমালের জেরে গুলিবিদ্ধ হন হাদি। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশমতো ওই ঘটনায় ভারতের বৈদেশিক গুপ্তচর সংস্থা ‘র’-এর হাত রয়েছে বলে সমাজমাধ্যমে প্রচার চালাতে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও ভারত বিরোধী জামায়াতে ইসলামী সহ পাকপ্রেমী দলগুলি। সেই প্রচারের মধ্যেই ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালানোর হুঙ্কার ছেড়েছেন জয়েশ–ই মহম্মদের জঙ্গি তথা ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আল জাবের। তাঁর কথায়, ‘আমরা চাইলে চোখের নিমিষে বারিধারা-সহ বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলি গুঁড়িয়ে যাবে। ইসকনকে কাজে লাগিয়ে, হিন্দুদের ভাবাবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অশান্তি জিইয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে দিল্লি। ওই ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে ভারতীয় দুতাবাসগুলি গুঁড়িয়ে দেব।’

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

শেখ হাসিনার খাসতালুকে সরস্বতী প্রতিমার ঘাড় মটকে ঝুলিয়ে দিল ইসলামী জঙ্গিরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ছিল বেশ্যাখানা, জামায়াতের নেতার মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ

হিন্দু নিধন যজ্ঞের হোতাদের জামাই আপ্যায়ন ঢাকার ভারতীয় দূতের, ক্ষোভে ফুঁসছেন মুক্তিযোদ্ধারা

জেলের গেটে প্রথমবার মৃত ছেলেকে কোলে নিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ছুঁয়ে কাঁদলেন হাসিনার দলের ছাত্র নেতা

বাংলাদেশের নরসিংদীতে ফের হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে খুন

বাংলাদেশে কোনও হিন্দু সাংসদ হতে পারবেন না, ফরমান মুসলিম নেতার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ