এই মুহূর্তে




মোল্লা ইউনূসের বিশেষ উপদেষ্টা আলী রিয়াজের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, উত্তাল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: প্রবাদ রয়েছে, ‘রতনে রতন চেনে’। দুঃশ্চরিত্রের জন্য পরিচিত মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসও তেমন চিনেছেন লম্পট আলী রিয়াজকে। শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই কুখ্যাত লম্পট তথা মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইয়ের এজেন্ট আলী রিয়াজকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। এবার সেই লম্পটের বিরুদ্ধেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন অতন্দ্রানু রিপা নামে এক মহিলা কবি। আলী রিয়াজের ধর্ষণে গর্ভবতী হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন। ওই অভিযোগের পরেই গোটা বাংলাদেশ জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অবিলম্বে ধর্ষণের অভিযোগে আলী রিয়াজকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে মহিলা সংগঠনগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে লম্পট বন্ধুকে বাঁচাতে আসরে নেমেছেন মোল্লা ইউনূস। বুধবার গভীর রাতেই তড়িঘড়ি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তরফ থেকে এক বিবৃতি দিয়ে অভিযোগকারিনীর যাবতীয় দাবি নস্যা‍ৎ করা হয়েছে।

সমাজমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও পোস্ট করেছেন অভিযোগকারিনী অতন্দ্রানু রিপা। তাতে তিনি বলেছেন, ‘আজ আমি খুবই শঙ্কিত তাই আপনাদের সামনে। কবিতা লেখার সুবাদেই ২০২৩ সালে আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী রিয়াজের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। ফেসবুকে আলাপের পরেই ফোনে নিজের একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতার কথা বলতেন আলী রীয়াজ। এইভাবেই আমাদের সম্পর্ক একটু-একটু করে গভীরে যাচ্ছিল। এর পর গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে উনি ঢাকাতে আসেন। এসেই আমাকে ডেকে নেন। আমিও তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। প্রথমে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রথম  কয়েকদিন থাকি। এর পরে বিভিন্ন জায়গায় তার সঙ্গে যাই। আমাকে ছাড়া উনি বাঁচবেন না এমন কথাও বলতেন, শুনতে ভালই লাগত। খুব শিগগিরই বিয়ে করে আমাকে আমেরিকায় নিয়ে যাবেন এমনটাই কথা ছিল। এর মধ্যে আমি সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়ি। আপনারা বলতেই পারেন, কেমনভাবে এমন ঘটনা ঘটল। আসলে উনি বার বার আমাকে বুঝিয়েছেন ওনার ভ্যাসেকটমি করানো হয়েছে। তাই প্রোটেকশনের প্রয়োজন নেই। আমিও এত বড় মাপের মানুষের কথা বিশ্বাস করেছি। তাছাড়া যেখানে আমাকে বিয়ে করে আমেরিকায় নিয়ে যাবেন, সেখানে তো তাঁকে অবিশ্বাস করার কোনও কারণ দেখি না।’

তবে এর পরেই আলী রিয়াজের মুখোশ খুলে যায়। রিপার কথায়, ‘আলী রিয়াজ যখন জানতে পারে আমি সন্তানসম্ভবা তখন থেকেই আমাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করল। একদিন দিলরুবা শামি নামে এক মহিলা আমাকে ফোন করে অনেক বুঝিয়েছেন। উনি ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করান। এর পরেই আলী রিয়াজ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।’

শুধু আলী রীয়াজ নয় পুলিশের বিরুদ্ধেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন রিপা। তাঁর কথায়, ‘আলী রীয়াজ যোগাযোগ বন্ধ করার পরে গত কয়েক দিন ধরে পুলিশ লাগাতার হুমকি দিয়ে চলেছে। গুম করে দিয়ে খুন করার হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বাড়িতেই নিজেকে বন্দি করে রেখেছি। বাইরে বেরোলেও বোরকা পরতে হয়।’

গত বছরের ৫ অগস্ট সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যূত হন শেখ হাসিনা। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র দৌলতে তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে আসীন হন রাজাকার তথা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির অন্যতম মদতদাতা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। ওয়াশিংটনের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী মার্কিন নাগরিক আলী রিয়াজকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রথমে তাকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান পদে নিয়োগ করা হয়। দায়িত্ব পেয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানকে বাতিলের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সংবিধানের চার মূলনীতি বদলে দেওয়ার সুপারিশ করেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত ঘোষণাও বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। যদিও বিএনপি এবং বাম দলগুলি ওই সুপারিশ নিয়ে আপত্তি জানায়। একজন মার্কিন নাগরিকের হাতে কিভাবে স্বাধীন দেশের সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হল সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন বিএনপি নেতারা। জবাবে ইউনূস জানিয়েছিলেন, ‘গদি বাঁচাতে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র নির্দেশেই আলী রিয়াজকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের মাথায় বসানো হয়েছিল।’

সংবিধান সংস্কার কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে চলতি বছরের  ফেব্রুয়ারিত আলী রিয়াজকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি পদে বসানো হয়। সম্প্রতি ওই কমিশনের কাজ শেষ হয়। এর পরেই সিআইএ’র এজেন্ট আলী রিয়াজকে কোন পদে বসানো হবে তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। বিএনপির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, সিআইএ এজেন্টকে যেন কোনও ভাবেই উপদেষ্টার পদে না বসানো হয়। এর পরেই এদিন ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসাবে আলী রিয়াজকে নিয়োগের কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী রিয়াজের বাবা মোহাববত আলি মুন্সি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের দোসর হিসাবে কাজ করেছিলেন। ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা শহরে যে বুদ্ধিজীবী নিধন যজ্ঞ চালিয়েছিল পাক হানাদার বাহিনী তাতে বিশেষ সহযোগিতা করেছিলেন। শহিদুল্লাহ কায়সার থেকে জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার মতো বিশিষ্টদের চিনিয়ে দিয়েছিলেন। ছাত্র জীবনে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আলী রিয়াজ। পড়াশোনার জন্য মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমান। ২০১২ সাল থেকেই মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট হিসাবে কাজ করা শুরু করেন। তার স্ত্রী সেগুফতা জাবিন আবার পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গ রাজ্যের নরমাল শহরের বাসিন্দা আলী রিয়াজ ও তার স্ত্রী সেগুফতা ২০১৪ সাল থেকেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জামায়াতের সন্ত্রাসীদের মোটা অর্থ পাঠিয়েছিলেন। মূলত ভারতকে চাপে রাখতে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার যে মিশন চালাচ্ছে সিআইএ তার দায়িত্বে ছিলেন আলী রিয়াজ।

 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচন কবে? ঘোষণা বৃহস্পতিবার সন্ধেয়

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চিন্তায় ঘুম উড়েছে হাসিনার

ভোটে লড়তে বুধেই ইস্তফা দিচ্ছেন ইউনূসের দুই উপদেষ্টা আসিফ-মাহফুজ

চিন থেকে নয়, ইতালি থেকে ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

অন্ধকারে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন, ইন্দো-বাংলা বণিকসভার শীর্ষ পদে হিযবুত জঙ্গি‍!

ঘুম উড়েছে ইউনূসের, ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গোপন বৈঠক খালেদার দূতের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ