এই মুহূর্তে

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা খেমচাঁদ সিংহ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ইম্ফল: রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহারের খানিক বাদেই মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা  ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিংহ। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধেয় তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা। এদিন খেমচাঁদের পাশাপাশি উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন বিজেপির নেমচা কিগপেন ও নাগা পিপলস ফ্রন্টের লোসি ডিখো। এর মধ্যে রাজধানী দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি শপথ নিয়েছেন কিগপেন। দুই উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন বিজেপির গোবিন্দদাস কুঞ্জথাউম ও নাগা পিপলস ফ্রন্টের খ লোকেন।

প্রায় তিন বছর আগে মেইতেইদের ‘তফসিলি তকমা’ ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল উত্তর-পূর্বের অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজ্য মণিপুর। ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে জাতিদাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েছিল মেইতেই এবং কুকি জনগোষ্ঠী। গোটা রাজ্যই অশান্তির আগুনে জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যায়। সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় আড়াইশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ঘরছাড়ার সংখ্যা ৬০ হাজারেরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল জাতীয় সড়ক। বেশ কয়েকটি জায়গায় কার্যত দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। জাতিদাঙ্গার শুরু থেকেই হিংসায় রাশ টানায় ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের বিরুদ্ধে। বিজেপির কুকি জনগোষ্ঠীর বিধায়করাও তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়ে গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেন বীরেন সিংহ। তার চার দিন বাদে ১৩ ফেব্রুয়ারি মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। প্রথমে ছ’মাসের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হলেও পরে এর মেয়াদ আরও ছ’মাস বাড়ানো হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু গত রবিবার আচমকাই দলের বিধায়কদের জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে তলব করে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। তার পরেই জল্পনা ছড়ায় যে,  অসমের বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ আর বাড়াবে না মোদি সরকার। বরং নতুন করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সেই মতো সোমবার মণিপুরের বিজেপি ও এনডিএ বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার মণিপুরের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব কার কাঁধে দেওয়া হবে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির সভাপতি নীতিন নবীন। বৈঠকে হাজির ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ ও সুনীল বনশল। ওই বৈঠকের পরেই বিজেপি বিধায়কদলের বৈঠকে খেমচাঁদ সিংহকে দলীয় নেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়।

মেইতেই জনগোষ্ঠীর নেতা খেমচাঁদ সিংহ পশ্চিম ইম্ফল জেলার সিংজামেই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পর পর (২০১৭ এবং ২০২২) জয়ী হয়েছেন। ২০১২ সালে ওই কেন্দ্রেই তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করে মাত্র ১৫৭ ভোটে কংগ্রেস প্রার্থীর হেরেছিলেন তিনি।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

‘‌ফাটাফাটি খেলা’‌ শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, বেসামাল বিরোধীরা আটকে রইল সমালোচনায়

বেধড়ক মারে শ্রবণশক্তি হারিয়েছে ছাত্রী, পাষণ্ড শিক্ষককে তিন বছরের জেলের সাজা আদালতের

বেনজির ঘটনা, হাজির হয়েও লোকসভায় ভাষণ দিতে পারলেন না মোদি

অনিল অম্বানীর সংস্থার বিরুদ্ধে ইডির তদন্তের গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের

মণিপুরে বিজেপির সরকার গড়ার পথ খুলতে প্রত্যাহার রাষ্ট্রপতি শাসন

এসআইআর নিয়ে সোমে শুনানিতে শীর্ষ আদালতে হাজির থাকতে পারেন মমতা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ