এই মুহূর্তে

অতিরিক্ত কাজ ও চাপ বাড়াচ্ছে হার্টের সমস্যা? সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: আজকের প্রতিযোগিতামূলক জীবনে অনেকেই নিজেকে প্রমাণ করতে নিরলস পরিশ্রম করেন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অবিরাম চাপ আর সাফল্যের দৌড়ে নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখেন তাঁরা। কিন্তু এই অতিরিক্ত পরিশ্রম ও মানসিক চাপের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সব সময় উচ্চ পারফরম্যান্সের লক্ষ্যে কাজ করেন, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই হৃদ্রোগের আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

কেন ঝুঁকি বাড়ে

এটি শুধু সাধারণ জীবনযাত্রার ঝুঁকির কারণে নয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ক্লান্তি ধীরে ধীরে হৃদ্যন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কাজের ধরণ ও ব্যস্ততার কারণে অনেকের ওজন বাড়তে পারে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এছাড়া জয়েন্ট ও পেশিতে ব্যথা, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুন: বন্ধু বা আত্মীয় টাকা ধার চাইছে? সম্পর্ক নষ্ট না করে ‘না’ বলার ৩টি টিপস

যেসব কারণে হাই পারফরমারদের ঝুঁকি বেশি
১. দীর্ঘ কর্মঘণ্টা
যারা সপ্তাহে প্রায় ৫৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করেন (যেমন সপ্তাহে ৬ দিন প্রতিদিন প্রায় ৯ ঘণ্টা), তাঁদের করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি হতে পারে।

২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
চাপের মধ্যে থাকলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ ও শরীরে প্রদাহের ঝুঁকি তৈরি করে।

৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের অভাব
যথেষ্ট ঘুম না হলে শরীর ঠিকভাবে বিশ্রামের পর্যায়ে যেতে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

৪. অনিয়মিত বা হঠাৎ ব্যায়াম
অনেকে নিয়মিত ব্যায়াম না করে হঠাৎ ভারী শারীরিক পরিশ্রম শুরু করেন। এতে হঠাৎ করে হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আবার একেবারেই ব্যায়াম না করলেও ঝুঁকি বাড়ে।

৫. ‘সব সহ্য করে এগিয়ে যাওয়ার’ মানসিকতা
অনেক হাই পারফরমার ক্লান্তি, বুকের অস্বস্তি বা শরীরের ব্যথার মতো প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না। ফলে অনেক সময় রোগ ধরা পড়ে দেরিতে এবং চিকিৎসাও শুরু হয় দেরিতে।

যা মনে রাখা জরুরি
কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করলেই যে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়বে, এমন নয়। মূল সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন সাফল্যের পথে চলতে গিয়ে জীবনযাত্রা অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। যেমন-
>কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য না থাকা
>দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকা
>ঘুম, বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করা
>ঝুঁকি কমানোর উপায়
>প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম নিশ্চিত করা
>সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম করা
>কাজের মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া
>অফিসের চাপ বাড়িতে না টেনে আনা
>ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা
>নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাফল্যের পথে এগোনোর পাশাপাশি শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কাজের চাপের সঙ্গে যদি সুস্থ জীবনযাত্রার ভারসাম্য রাখা যায়, তবে অনেকটাই কমানো সম্ভব হৃদ্রোগের ঝুঁকি।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

নখ দেখেই বুঝবেন শরীরের অসুখ! কোন দাগ কী রোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে জানেন?

ফুল ভালবাসেন? ঘুরে আসুন ভারতের এই ৩ স্বর্গীয় জায়গায়

বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? নামমাত্র খরচে ঘুরে আসুন এই দেশগুলো

১৫ মার্চ থেকে থেমে যাবে সানাইয়ের সুর! আবার কবে বাজবে বিয়ের বাজনা?

বয়ফ্রেন্ড বা স্বামী নয়, মহিলারা কার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পছন্দ করেন? শুনলে অবাক হবেন

জানেন কি পুরুষের এই ৫ কথাই জিতে নেয় নারীর মন, বাড়ে সম্পর্কের গভীরতা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ