এই মুহূর্তে

ধোঁকা দিয়ে গরুর মাংস খাওয়ানোর জের, বন্ধুর হাতে প্রাণ গেল তরুণের

নিজস্ব প্রতিনিধি: ধোঁকা দিয়ে বন্ধুকে গরুর মাংস খাওয়ানোর ফল হল ভয়ঙ্কর। অকালেই মরতে হল আফতাব আলমকে। উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে একটি হাড়হিম ঘটনা ঘটেছে। প্রতিশোধ তুলতে সহকর্মীকে শ্বাসরোধে খুন করে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি করে দিল বীরেন্দ্র নামে এক যুবক। ইতিমধ্যে ৩১ বছর বয়সী আফতাব কে হত্যার অভিযোগে পুলিশ বীরেন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তের দাবি, আফতাব তাঁকে গরুর মাংস খেতে বাধ্য করেছিল। এবং তিনি অজান্তেই সেটা খেয়ে ফেলেন। প্রতিশোধ তুলতেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত বীরেন্দ্র সোলাপুর এলাকার বাসিন্দা। শনিবার রাতে বীরেন্দ্রকে তাঁর মামার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত আফতাব আলম বিহারের বাসিন্দা। গত ৮ জানুয়ারি মহাগাঁও গ্রামে তাঁকে সন্দেহজনক অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃতদেহ উদ্ধার করার সময় আবতাবের মুখ ও নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

এরপরেই তাঁর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, আফতাবকে খুন করা হয়েছে। এরপর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেন। আর তদন্তের সময়েই পুলিশের হাতে বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে। পুলিশ মৃত ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখতে পান যে, আফতাবের অ্যাকাউন্ট থেকে বীরেন্দ্রর অ্যাকাউন্টে কয়েক লক্ষ টাকা স্থানান্তর হয়েছে। এছাড়াও, একটি এটিএমের সিসিটিভি ফুটেজে বীরেন্দ্রকে আফতাবের সঙ্গে দেখা যায়। এই সূত্র ধরেই পুলিশ বীরেন্দ্রকে গ্রেফতার করেন। এবং জিজ্ঞাসাবাদে বীরেন্দ্র সবটা স্বীকার করেন। তিনি জানান, বেঙ্গালুরুতে আফতাবের সঙ্গে তিনি কাজ করতেন। আফতাব তাঁকে একদিন ধোঁকা দিয়ে গরুর মাংস খাইয়েছিলেন। এরপর সে তাঁর বন্ধুদের সামনে তাঁকে নিয়ে উপহাস করেন। এতেই তিনি জানতে পারেন, অজান্তেই গরুর মাংস খেয়েছেন। হিন্দুদের কাছে গরুর মাংস খাওয়া অধর্মের বিষয়। ওদিকে মুসলিমদের প্রিয় খাবার গরুর মাংস। হিন্দুরা যেহেতু গরুকে ভগবান মানেন তাই তাঁদের কাছে গরুর মাংস খাওয়া অপরাধমূলক। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে বীরেন্দ্র আফতাবকে খুন করার পরিকল্পনা করেন।

অভিযুক্ত পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ৭ জানুয়ারি তিনি আফতাবকে তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। তারপর তাঁর এক সহযোগীর সঙ্গে তাঁকে মহাগাঁও এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাঁকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরের দিন, অভিযুক্ত আফতাবের মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করে নেন। বীরেন্দ্রের বয়ানের ভিত্তিতে, পুলিশ খুনে ব্যবহৃত দড়ি, ভুক্তভোগীর আধার কার্ড, এটিএম কার্ড এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির খুনের সঙ্গে সম্পর্কিত ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় বীরেন্দ্রর একজন সহ-অভিযুক্তও জড়িত রয়েছেন। এখন তাঁকে খুঁজছে পুলিশ।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

পুলওয়ামা দিবসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রীর

মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ! রেশন কার্ড নয়, ফুড কুপন দেখালেই মিলবে খাদ্যশস্য

তেলঙ্গনার রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত ৬, ঘটনাস্থলে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন

বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ কবে? সোমবার নাকি মঙ্গলবার?

সারাক্ষণ ক্লান্তিতে ভোগেন? শরীরের এই ৫ সঙ্কেত  অবহেলা করলে বিপদ বাড়তে পারে

জঙ্গলের নদীতে একসঙ্গে জল খাচ্ছে চিতাবাঘ-কালো প্যান্থার, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলল বিরল ভিডিও

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ