এই মুহূর্তে

বাংলায় এসআইআরের বলি ১৪০ জন, জ্ঞানেশকে ফের চিঠি মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) বাংলায় কার্যত নিধন যজ্ঞে পরিণত হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকার আশঙ্কায় এখনও পর্যন্ত ১৪০ জন মারা গিয়েছেন। ওই মৃত্যুমিছিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যিপাধ্যায়। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এসআইআরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিদের মাইক্রো অবজারভার হিসাবে নিয়োগকে আইন লঙ্ঘন বলেও দাবি করেছেন। রাজ্যে এসআইআর চালু হ্্যোয়ার পরে এ নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনকে ষষ্ঠ চিঠি দিলেন মমতা।

গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও ওই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অমর্ত্য সেনের মতো নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে ঝুলন গোস্বামীর মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে শুনানির নোটিশ ধরিয়েছে কমিশন। শুধু তাই নয়, বাংলায় এতদিন ভোটার তালিকার কাজে যুক্ত থাকা ইআরও ও এইআরওদের ঠুঁটো জগন্নাথ করে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিজেপি ঘনিষ্ঠ আমলাদের বিশেষ পর্যবেক্ষক ও পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই মামলায় প্রাথমিক শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের গালে বিরাট থাপ্পড় কষিয়েছে শীর্ষ আদালত।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার এসআইআর নিয়ে আপত্তি জানাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর। আগামিকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেই রাজধানীর উদ্দেশে তাঁর উড়ে যাওয়ার কথা। তার ২৪ ঘন্টা আগেই কমিশনের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো।

চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের ‘সন্দেহজনক’ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মমতা লিখেছেন, ‘গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রিপুরা ক্যাডারের চার জন আইএএস অফিসারকে পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক অবজার্ভার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে কাজ করছেন এবং আইনগত ক্ষমতা ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন। এর ফলে তথ্যের কারসাজি করে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ‘ব্যাকডোর’ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।’

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী এও লিখেছেন, ‘১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন  কিংবা ১৯৬০ সালের আইনি বিধানে মাইক্রো-অবজার্ভারদের এমন ভূমিকা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার কথা বলা নেই। আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ, দাবি-আপত্তির শুনানি, নথি যাচাই এবং অন্তর্ভুক্তি বা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ইআরও এবং এইআরও-দের হাতেই ন্যস্ত। সেখানে মাইক্রো-অবজার্ভারদের সক্রিয় হস্তক্ষেপ আইনসঙ্গত নয়।’

 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

গোলপার্কে পিকনিককে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতীদের হামলা, চলল বোমা – গুলি, আহত ২

বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদহের মোথাবাড়ি বিধানসভায় কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন

গাজলে ১১ হাজার ভোল্টের ঝুলন্ত তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চাষির মৃত্যু

চাঁচলে ভূমি সংস্কার দফতরের ঢিল ছোড়া দূরত্বে জলাশয় ভরাটের অভিযোগ

ভগবানপুরে প্রকাশ্য মঞ্চে সাধু-সন্তের ওপর ‘হামলা’, পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত

টিকিট কাউন্টারে আর লম্বা লাইন নয়, ব্যস্ত সময়ে মেট্রো সফর হবে আরও সহজ, জানুন নতুন নিয়ম

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ