বাজারে আসছে হুন্ডাইয়ের হাইড্রোজেন চালিত গাড়ি, ৭০০ কিমি দৌড়বে

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্ব এখন টেকসই পরিবহনের দিকে এগোচ্ছে, আর সেই পথে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল ইলেকট্রিক গাড়ি। তবে শুধু ব্যাটারিচালিত গাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বর্তমানে আরও এক ধাপ এগিয়ে এসেছে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল গাড়ি (FCEV)। এই প্রযুক্তির পথিকৃৎ হিসেবে স্বনামধন্য গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থা Hyundai বাজারে আনছে  Hyundai Nexo, একটি আধুনিক হাইড্রোজেন চালিত SUV, যা একবার পূর্ণ ট্যাংকে প্রায় ৭০০ কিমি পথ অতিক্রম করতে সক্ষম।

হুন্ডাই নেক্সো কী?

Hyundai Nexo বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণভাবে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে নির্মিত SUV। ব্যাটারি চালিত ইভি গাড়ির চেয়ে একেবারেই আলাদা, এই গাড়ি চলে হাইড্রোজেন গ্যাস দিয়ে, যা ফুয়েল সেল স্ট্যাকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ার একমাত্র উপপাদ্য হলো জলবাষ্প, অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণরূপে দূষণমুক্ত।

২০১৮ সালে বৈশ্বিক বাজারে চালু হওয়া এই গাড়িটি ধীরে ধীরে ভারতের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। যদিও এখনও সীমিতভাবে ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে এটি ভারতের পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

বৈশিষ্ট্য ও পারফরম্যান্স

  • রেঞ্জ: হুন্ডাই নেক্সোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল একবার হাইড্রোজেন ভর্তি করলেই এটি ৬৬৬ থেকে ৭০০ কিমি পর্যন্ত চলতে পারে (WLTP সার্টিফায়েড)।
  • রিফুয়েলিং টাইম: মাত্র ৫ মিনিটে ট্যাংক ভর্তি করা যায়, যা ব্যাটারি ইভির তুলনায় অনেক দ্রুত।
  • পাওয়ার আউটপুট: এই গাড়ির শক্তি ১৬১ হর্সপাওয়ার ও ৩৯৫ নিউটন মিটার টর্ক, যার ফলে খুবই স্মুথ ও শক্তিশালী ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
  • ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা: মাত্র ৯.২ সেকেন্ডে গাড়িটি ০ থেকে ১০০ কিমি গতিতে পৌঁছে যায়।
  • প্রযুক্তি ও আরাম: গাড়িটিতে রয়েছে আধুনিক ADAS সিস্টেম, অটোনমাস ড্রাইভিং ফিচার, টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট, এবং প্রিমিয়াম ইন্টেরিয়র।

 

পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যত

হাইড্রোজেন চালিত গাড়িগুলো বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ না করে কেবল জলীয় বাষ্প ছাড়ে। ফলে এটি শহরের দূষণ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর হাইড্রোজেন যদি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে তৈরি হয়, তবে এটি হবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি।

ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ

যদিও প্রযুক্তিটি আশাব্যঞ্জক, কিন্তু ভারতের মতো দেশে এখনও কিছু বাধা আছে:

  • পরিকাঠামো অভাব: দেশে এখনও হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশন নেই বললেই চলে।
  • মূল্য: হাইড্রোজেন গাড়ির উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি।
  • নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন: সরকারী ভর্তুকি, নীতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া এর ব্যাপক প্রসার সম্ভব নয়।

নিঃসন্দেহে বলা যায়, Hyundai Nexo শুধুমাত্র একটি গাড়ি নয়, এটি এক নতুন দিগন্তের সূচনা। ৭০০ কিমি রেঞ্জ, মাত্র ৫ মিনিটে রিফুয়েলিং, এবং সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত প্রযুক্তি — এইসব গুণে এটি ভবিষ্যতের গাড়ি বললে ভুল হবে না। ভারতের পরিবহন খাত যদি হাইড্রোজেন প্রযুক্তির দিকে মনোযোগ দেয়, তবে নেক্সো হতে পারে সেই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। তবে তার আগে প্রয়োজন যথাযথ অবকাঠামো ও সচেতনতা বৃদ্ধি।

আমেরিকা নয়, চলুন ঘুরে আসি ভারতের ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে’

নিউটাউনে তিরুপতি মন্দির বানাবেন শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি, ঘোষণা শুভেন্দুর

কালীপুজোর ক্ষণ ও তিথি, দেখে নিন একনজরে

প্রকাশিত হল CBSE-র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ২০২৭ সালের পরীক্ষাসূচি

পাউরুটির বাদামি ধার ফেলে দিচ্ছেন? তা দিয়েই বানিয়ে ফেলুন এই ৩ সুস্বাদু পদ, রইল রেসিপি

যাত্রীদের সুবিধার্থে কালীপুজোয় অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যা

বাড়ি ও অফিসের বাইরে চরবৃত্তি করছে পুলিশ! ‘মারাত্মক’ অভিযোগ অভিষেকের

অজান্তেই ক্ষতি করছেন না তো? এই ৭টি অভ্যাসে বাড়ছে চোখের সমস্যা

‘মা-বোনেদের দিকে আঙুল তুললে ভেঙে দেবে সরকার,’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

অমৃতসর-নিউ জলপাইগুড়ি কর্মভূমি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড, দাউদাউ করে জ্বলছে চারটি কামরা

লুঙ্গি ও বারমুডা পরে তারাপীঠ মন্দিরে ‘নো এন্ট্রি’, নির্দেশ কমিটির

রাজ্যের সব চিকিৎসকের ডিগ্রি খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য দফতর, বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও সপ্তম পে কমিশনের আওতায়, ঘোষণা নবান্নের

‘Maatrubhumi’ নিয়ে কেন্দ্র চাপ দিয়েছিল? সত্যিটা জানালেন সলমন