দুর্গাপুরে দিলীপবাজি রুখতে তৃণমূলের অস্ত্র শিল্প-কৃষির মেলবন্ধন

২৪’র ভোটে দাঁড়িয়ে মমতার দেখানো রাস্তাতেই হেঁটে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষের দাপট ঠেকিয়ে দিতে কোমর বেঁধেছে তৃণমূল।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর আগে ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে বামেরা শ্লোগান তুলেছিল, ‘কৃষি মোদের ভিত্তি, শিল্প মোদের ভবিষ্যৎ’। সেই শ্লোগানের ভরসা রেখে বাংলার মানুষ দুই হাত তুলে বামফ্রন্টের হাতে ২৩৫টি আসন তুলেও দিয়েছিল। কিন্তু সেই জনমতের প্রভাবে মাথা ঘুরে গিয়েছিল মহাকরণে তৎকালীন ক্ষমতাসীন ‘খুদে বুশ’ তথা মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের। আর তাই তাঁর মুখ দিয়ে ব্রিগেডের মাঠে বেড়িয়ে এসেছিল কুখ্যাত সেই উক্তি, ‘আমরা ২৩৫, ওরা ৩০। বেশি বাড়বাড়ি করলে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেব।’ বাকিটা ইতিহাস। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম দেখে বামেদের বিসর্জন দিতে বিন্দুমাত্র সময় নেয়নি বাংলা। সেই পরিবর্তনের কান্ডারী তথা বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) কিন্তু সাফ বলেছিলেন, টাটাদের তাড়িয়েছে সিপিএম। স্পষ্ট বলেছিলেন, অনিচ্ছুকদের ৪০০ একর ফিরিয়ে দিয়ে বাকি ৬০০ একরে কারখানা হোক। তাতে কৃষি-শিল্প দুই-ই জিতে যাবে। কিন্তু সেদিন মমতাকে পাত্তা দেননি ২৩৫’র দম্ভে চূড়ান্ত ঔদ্ধত্ব্যে পূর্ণ বামেরা। আসলে সেই সময়ে বাংলার সিপিএম নেতৃত্ব একজোট হয়ে মমতার আন্দোলনকে গুরুত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বুদ্ধবাবু ছিলেন তার শরিক মাত্র। এই ২৪’র ভোটে দাঁড়িয়ে মমতার দেখানো রাস্তাতেই হেঁটে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে(Burdwan Durgapur Constituency) দিলীপ ঘোষের দাপট ঠেকিয়ে দিতে কোমর বেঁধেছে তৃণমূল(TMC)।

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়েই জন্ম হয় বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের। বর্ধমানের ২টি বিধানসভা কেন্দ্র, দুর্গাপুরের ২টি বিধানসভা কেন্দ্রে এবং ভাতার, গলসি ও মন্তেশ্বর বিধানসভা নিয়ে এই লোকসভা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এই লোকসভা কেন্দ্রের প্রেক্ষাপট সেই শিল্প-কৃষির মেলবন্ধন। দুর্গাপুরের ২টি বিধানসভা কেন্দ্রে কার্যত শিল্পাঞ্চল। গলসি আধা শিল্প, আধা কৃষি। বাকি ৪ বিধানসভা কেন্দ্র পুরোপুরি কৃষি ভিত্তিক। ২০০৯ সালে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল বামেরা। কেননা এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই, কার্যত কয়েক দশক ধরেই ছিল বাম দুর্গ। লোকে মজা করে বলতো, এখানে নাকি লেলিনের হাড় পোঁতা আছে। ২০০৯ সালে এই কেন্দ্রে বামেরা জিতেছিল ১ লক্ষের কিছু বেশি ভোটে। তৃণমূল সেই নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে লড়াই করেছিল। তাই সেখানে ছিল না তৃণমূলের প্রার্থী, ছিল কংগ্রেসের প্রার্থী। সেই প্রার্থী হয়েছিলেন দ্বিতীয়। বামেদের ঝুলিতে গিয়েছিল ৫ লক্ষ ৭৩ হাজার ভোট আর কংগ্রেস পেয়েছিল ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার ভোট। সেখানে বিজেপির জুটেছিল মাত্র ৫০ হাজার ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কিন্তু ছবি গিয়েছিল বদলে। যে ব্যবধানে ২০০৯ সালে বামেরা এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিল, প্রায় সেই একই ব্যবধানে ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয় তৃণমূল। তাও একক শক্তিতে।

২০১৪’র লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার ভোট। বামেরা পেয়েছিল ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ভোট। আর তৃতীয় স্থানে থাকা বিজেপি পেয়েছিল ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ভোট। কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছিল মাত্র ৪৪ হাজার ভোট। কার্যত সেই ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে কংগ্রেসের ভোট তৃণমূলের ঢুকেছিল এবং বামেদের কিছু ভোট বিজেপিতে চলে গিয়েছিল। সেতাই ছিল কার্যত বাম ভোট রামে যাওয়া সূচনা মুহুর্ত। সেই ভোটেই ভর দিয়ে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে জিতে যায় বিজেপি। কিন্তু সেই জয়ের ব্যবধান ছিল নামমাত্র। আড়াই হাজারেরও কম ভোটে সেই আসনে জিতেছিল বিজেপি। পেয়েছিল ৫ লক্ষ ৯৮ হাজার ভোট। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা তৃণমূল পেয়েছিল ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার ভোট। বামেরা পেয়েছিল ১ লক্ষ ৬১ হাজার ভোট। ২০০৯ সালে জন্ম নেওয়া বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৩ দলের হাতে একবার করে ঘুরে নিয়েছে। এবার তাহলে কার পালা? বাম, বিজেপি(BJP) নাকি তৃণমূল? এবারে এখানে তৃণমূল প্রার্থী করেছে দেশের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেট দলের সদস্য কীর্তি আজাদকে। বিজেপি মাঠে নামিয়েছে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে(Dilip Ghosh)। আর বামেরা ভরসা রেখেছে সুকৃতি ঘোষালের ওপর।

একুশের ভোটে এই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বর্ধমান উত্তর ও দক্ষিণ, ভাতার, গলসি, মন্তেশ্বর এবং দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। খালি দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছে বিজেপি। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রায় ১ লক্ষের কাছাকাছি ভোটে লিড তুলে বসে আছে। বাস্তবেও দেখা যাচ্ছে তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে জনজোয়ার, আর দিলীপের সঙ্গে গুটিকয় কর্মী আর সমর্থক। সব থেকে বড় কথা দিলীপের সমর্থনে নরেন্দ্র মোদি এই কেন্দ্রে কোনও সভাই করেননি। ঘটনাচক্রে দিলীপ কিন্তু কার্যত একার দৌলতেই এই কেন্দ্রে প্রচার করে গিয়েছেন, সভা করে গিয়েছেন, জনসংযোগ সেরেছেন। সেই অর্থে বঙ্গ বিজেপির কোনও বড় নেতাকেও তাঁর পাশে সেভাবে প্রচারকালে দেখা যায়নি। একার জোরেই তিনি টিকে রয়েছেন এই কেন্দ্রে ভোটের লড়াইয়ে। তিনিও জানেন, এই কেন্দ্রে জিততে হলে তাঁকে পাশে পেতে হবে বাম ভোটারদেরও। কিংবা বামেরা যত বেশি বিজেপি বিরোধী ভোট তৃণমূলের দিক থেকে টেনে নিতে পারবে ততই তাঁর জয় নিশ্চিত হবে। আর এখানেই তৃণমূল সামনে আনছে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামকে। শিল্প-কৃষির মেলবন্ধনকে। বামেদের ভুল আর মমতার সঠিক নীতিকে, যাতে বামেরা বেশি ভোট না পান। দেখার বিষয় শেষ হাসি কারা হাসেন।

পাউরুটির বাদামি ধার ফেলে দিচ্ছেন? তা দিয়েই বানিয়ে ফেলুন এই ৩ সুস্বাদু পদ, রইল রেসিপি

যাত্রীদের সুবিধার্থে কালীপুজোয় অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যা

বাড়ি ও অফিসের বাইরে চরবৃত্তি করছে পুলিশ! ‘মারাত্মক’ অভিযোগ অভিষেকের

অজান্তেই ক্ষতি করছেন না তো? এই ৭টি অভ্যাসে বাড়ছে চোখের সমস্যা

রাজ্যের সব চিকিৎসকের ডিগ্রি খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য দফতর, বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আজ ধনতেরাসের সন্ধ্যায় এই ৫ জায়গায় জ্বালান প্রদীপ, মা লক্ষ্মীর কৃপায় আসবে সুখ-সমৃদ্ধি!

‘মা-বোনেদের দিকে আঙুল তুললে ভেঙে দেবে সরকার,’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও সপ্তম পে কমিশনের আওতায়, ঘোষণা নবান্নের

অমৃতসর-নিউ জলপাইগুড়ি কর্মভূমি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড, দাউদাউ করে জ্বলছে চারটি কামরা

লুঙ্গি ও বারমুডা পরে তারাপীঠ মন্দিরে ‘নো এন্ট্রি’, নির্দেশ কমিটির

দীপাবলির আগে অমিতাভের ‘জলসা’য় বোমা হামলার হুমকি!

‘Maatrubhumi’ নিয়ে কেন্দ্র চাপ দিয়েছিল? সত্যিটা জানালেন সলমন

দীপাবলির আগে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ সূর্যকুমারের পরিবারের, খুদের ভজন শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

রিলস স্ক্রল করা বন্ধ করতে পারছেন না? জেনে নিন এই সহজ কৌশল