ওয়েনাডে নিখোঁজ বাংলা ও অসমের ৬০০’র বেশি পরিযায়ী শ্রমিক

কেরলের ওয়েনাডে ভূমিধ্বসের কারণের নিখোঁজদের তালিকায় নাম উঠেছে বাংলা ও অসমের কয়েকশ শ্রমিকের। যদিও এ রাজ্যের প্রশাসনের কাছে এমন তথ্য নেই।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: দু’দিন আগেও সবকিছু ছিল ছবির মতো সাজানো গোছানো। মঙ্গলবারের প্রবল বর্ষণে সব তছনছ করে দিয়েছে কালান্তক ভূমিধ্বস(Landslide)। মাটিতে মিশে গিয়েছে একের পর এক বাড়ি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাদার স্তূপে আটকে বড় বড় বোল্ডার। যতদূর দেখা যায়, শুধু এই দৃশ্য। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাথর, কাদামাটির স্তূপ সরিয়ে দেহ উদ্ধারের কাজে হাত লাগিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পাশাপাশি চলছে জলমগ্ন এলাকা থেকে দুর্গতদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনার কাজ। বৃহস্পতিবার সকালে এটাই কেরলের(Kerala) ওয়েনাডের(Wayanad) চুরালমালা, মুন্ডাক্কাই, আত্তামালা এবং নুলপুঝা গ্রামের ছবি। মৃতের সংখ্যা এদিন প্রায় ৩০০ ছুঁইছুঁই। তার মাঝেই কেরলের এই ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে অসম(Assam) ও বাংলায়(Bengal)। কেননা সামনে এসেছে, ওয়েনাডে ভূমিধ্বসের কারণের নিখোঁজদের(Missing) তালিকায় নাম উঠেছে বাংলা ও অসমের কয়েকশ শ্রমিকের(Migrant Labors)।

আরও পড়ুন পুজোর অনুদান নিয়ে মামলা কলকাতা হাইকোর্টে, উঠল তদন্তের দাবিও

ওয়েনাডের স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, কালপেট্টা অঞ্চলের একটি চা বাগানে কাজ করতেন ৬০০ জন পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরা প্রধানত পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশেরই কোনও খোঁজ নেই। কেউ কেউ সতর্কতা শুনে নিরাপদ জায়গায় চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু অধিকাংশই থেকে যান। তাঁরা কী অবস্থায় কোথায় আছেন, বলা কঠিন। কাদা আর বালির স্তূপে চাপা পড়া বাড়িগুলিতে কেউ আটকে আছেন কিনা সেটাও জানার উপায় নেই। যদিও সেই কাদা আর বালির স্তূপ ঘেঁটে ঘেঁটে প্রাণের খোঁজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সেনা জওয়ানেরা। আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করতে তাঁরা হাতে হাত দিয়ে মানবসেতু তৈরি করেছেন তাঁরা। দু’দিকের স্থলভাগ থেকে ভয়াল খরস্রোতা নদীর উপরে দড়ি টাঙিয়ে কোনও রকমে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মানুষকে। মাঝে সেনা জওয়ানেরা দু’হাত বিছিয়ে দড়ি ধরে সংযোগ রক্ষার চেষ্টা করছেন। শিশুদের কোলে তুলে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, চুরলমালায় উদ্ধারকাজে আছেন ১২২ ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটেলিয়ন মাদ্রাজের জওয়ানেরা। এ ছাড়াও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশের প্রশিক্ষিত বাহিনী।

আরও পড়ুন ‘বাংলায় বিজেপির অনেকেই তৃণমূলের দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন’, অভিষেকের দাবি ঘিরে জল্পনা পদ্মে

কালপেট্টার চা বাগানে বাংলার আড়াইশোরও বেশি শ্রমিক কাজ করতেন। এদের কারও বাড়ি আলিপুরদুয়ারে, কারও জলপাইগুড়িতে, কারও বা দার্জিলিং জেলায়। কেউ থাকতেন উত্তর দিনাজপুরে, কেউ বা দক্ষিন দিনাজপুরে। কারও কারও বা বাড়ি মালদা ও মুর্শিদাবাদে। তবে বাংলার বুকে এই শ্রমিকদের নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনও খবর নেই। কোনও জেলা প্রশাসনের কাছে এই মর্মে কোনও খবর আসেনি, রাজ্য প্রশাসনের কাছেও এদের নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনও খবর আসেনি। ওয়েনাডের যে অঞ্চলে ধ্বস নেমেছে সেখানে ১২টি গ্রামে প্রায় ২২ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। এর মধ্যে ১২টি গ্রাম সম্পূর্ণ ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার বাড়ি ছিল যা এখন কাদা-বালির নীচে চাপা পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মুন্ডাক্কাই এবং চুরালমালা। ছোট একটা সাজানো গোছানো গ্রাম। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই চুরালমালা। প্রতি বছর বহু পর্যটক এখানে দৃষ্টিনন্দন জলপ্রপাতের আকর্ষণে ছুটে আসেন। সূচিপাড়া জলপ্রপাত ছাড়াও রয়েছে ভেলোলিপাড়া এবং সীতা হ্রদ। আর এই হ্রদ এবং পাহাড়ের কোলেই গড়ে উঠেছে গ্রামটি। ওখানে যে কোনও বসতি অঞ্চল ছিল, মঙ্গলবার থেকে তা বোঝাই যেন দায় হয়ে উঠেছে। ধসের পর থেকে কালপেট্টা থেকে নুলপুঝা পর্যন্ত ওয়েনাডের ভৌগোলিক চিত্রটাই বদলে গিয়েছে। মানচিত্র থেকে প্রায় মুছে গিয়েছে মুন্ডাক্কাই।

আজকের রাশিফল: ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন, শনির কৃপায় লাভবান হবেন কারা?

আমেরিকা নয়, চলুন ঘুরে আসি ভারতের ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে’

নিউটাউনে তিরুপতি মন্দির বানাবেন শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি, ঘোষণা শুভেন্দুর

কালীপুজোর ক্ষণ ও তিথি, দেখে নিন একনজরে

প্রকাশিত হল CBSE-র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ২০২৭ সালের পরীক্ষাসূচি

পাউরুটির বাদামি ধার ফেলে দিচ্ছেন? তা দিয়েই বানিয়ে ফেলুন এই ৩ সুস্বাদু পদ, রইল রেসিপি

যাত্রীদের সুবিধার্থে কালীপুজোয় অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যা

বাড়ি ও অফিসের বাইরে চরবৃত্তি করছে পুলিশ! ‘মারাত্মক’ অভিযোগ অভিষেকের

‘মা-বোনেদের দিকে আঙুল তুললে ভেঙে দেবে সরকার,’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

অমৃতসর-নিউ জলপাইগুড়ি কর্মভূমি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড, দাউদাউ করে জ্বলছে চারটি কামরা

লুঙ্গি ও বারমুডা পরে তারাপীঠ মন্দিরে ‘নো এন্ট্রি’, নির্দেশ কমিটির

অজান্তেই ক্ষতি করছেন না তো? এই ৭টি অভ্যাসে বাড়ছে চোখের সমস্যা

রাজ্যের সব চিকিৎসকের ডিগ্রি খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য দফতর, বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও সপ্তম পে কমিশনের আওতায়, ঘোষণা নবান্নের