অপারেশন টেবলেই এন আর এস চিকিৎসকদের হাতযশে বাঁচল মা ও শিশুর প্রাণ

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মানুষের মৃত্যু কখন কীভাবে হবে তা কেউ বলে দিতে পারে না। এই নিয়ে আলোচনারও কোনও শেষ নেই। তবে মৃত্যু কবল থেকে যদি কেউ বাঁচিয়ে তুলতে পারে তা হল চিকিৎসক। এমনই একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে কলকাতার এন আএ এস হাসপাতালে। কুসুম বাসফোরে ২১ বছর বয়সে সদ্য মাতৃ স্বাদ পেয়েছেন। কুসুমের কাছে চিকিৎসকরা প্রশ্ন করেন, “কুসুম, আপনি জানেন, অপারেশন থিয়েটারে কী হয়েছিল আপনার? ২ মিনিট যে আপনার নাড়ির গতি শূন্য ছিল, জানেন?” এন আর এস মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যুর খুব কাছে গিয়েও ফিরে আসা কুসুম তাঁর ভীষণ সরল ও প্রাণখোলা হাসিতেই উত্তর দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, কুসুমের এই মারাত্মক পরিস্থিতির ঘোর এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তাঁর স্বামী অনুপ বাসফোরে। কুসুম ভেন্টিলেটর থেকে বেরিয়ে আসার পরই অনুপ তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, প্রেমের স্মৃতি সব মনে আছে তো তোমার?’ এই দম্পতি কল্যাণী ঘোষপাড়ার বাসিন্দা।

স্ত্রীর প্রাণ ফিরে পাওয়ার আনন্দে স্বামী অনুপ জানায়, “ কুসুম সবকিছুর উত্তর দিয়েছে। ভাল আছে। হাসছে। নতুন জীবন পেয়েছে। মেয়েটাও দ্রুত সুস্থ হয়ে যাক। ভোলেবাবার কাছে এটাই প্রার্থনা। ডাক্তারবাবুরা নিজের পরিবারের মতোই ওদের খেয়াল রাখছেন।”

হয়তো মিরাকল একেই বলে! গত সপ্তাহের বুধবার কুসুমকে এন আর এসের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তখন শারীরিক অবস্থা ছিল স্বাভাবিক। কোনও প্রাণহানির আশংকা ছিল না। তবে গর্ভস্থ শিশু দুর্বল ও ওজন কম থাকার কারণে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। অবস্থা বুঝে দ্রুত সিজার করার সিদ্ধান্ত নেয় এন আর এস’র চিকিৎসকরা। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার অপারেশন টেবিলে নিয়ে যাওয়ার সময় কুসুমের প্রেশার ছিল ১৩৬/৮৪। হঠাৎ অস্ত্রোপচারের মাঝেই শুরু হয় বমি। আর তার সঙ্গে বাড়তে থাকে রক্তের চাপ। খানিকক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় যায় খিঁচুনি। সঙ্গে সঙ্গে হার্ট পাম্প করাই বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন প্রসূতির ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়েছে।

তার পরেও ঈশ্বরের নামে হাল না ছেড়ে বিভাগীয় প্রধান ডাঃ রুণা বল, অধ্যাপক স্বপন দাস প্রমুখরা চেষ্টা চালিয়ে যায় তাঁকে বাঁচানোর। তড়িঘড়ি সিজার করে বাচ্চাকে ভূমিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেয় চিকিৎসকরা। অ্যানাসথেসিওলজিস্ট ডাঃ আসিফ ইকবাল, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অনুভূতি নাগরা শুরু করেন সিপিআরের। সমস্ত রকম চেষ্টার পরে আসতে আসতে উঠতে থাকে নাড়ির গতি। ফের প্রাণ ফিরে পায় ২১ বছরের কুসুম। জন্ম দেন একটি ফুটফুটে শিশু কন্যার।

তার পর তাঁকে ৪৮ ঘণ্টা ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। শনিবার সেখান থেকে লড়াই করে ফিরে আসে কুসুম। জানা যায়, এখনও ‘নিকু’-তে রয়েছে তাঁর সদ্য কন্যা সন্তান। প্রসূতির মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত ধরে নিয়ে এই ধরনের সিজার বিরল বলেই জানা যায়। এটিকে চিকিৎসাকদের ভাষায় বলা হয় ‘পেরিমর্টেম সিজারিয়ান সেকশন’। এবার শিশুকে তাঁর মায়ের কোলে সুস্থভাবে ফিরিয়ে দিয়েই নিশ্চিন্ত হবেন চিকিৎসকরা।

সূর্যের রাহুর স্বাতী নক্ষত্রে গোচর! ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সুসময় ৪ রাশির জাতকদের

পুজোর মুখে যাত্রীদের জোর ধাক্কা এয়ার ইন্ডিয়ার, টিকিটের দাম বাড়ছে ৮৫০-২১,০০০ টাকা

আলমারি ছাড়াই জামা-কাপড় রাখুন পরিপাটি, ৫ কৌশলে বদলে ফেলুন ঘরের ভোল

‘প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় নয়’, সৌদিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা দিল্লির

অল্প বয়সে দ্রুত মোটা হয়ে যাচ্ছে আপনার শিশু? জানুন এর পিছনের কারণগুলি…

স্তনে ফোলাভাব মানেই ক্যানসার নয়, তবুও সাবধানতা অবলম্বনে ভুল করলে চরম ক্ষতি

মা দুর্গার রোষ থেকে বাঁচতে চান? নবরাত্রির আগেই ঘর থেকে সরান এই ৫ জিনিস

ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিল্ড ঘরে তুলল মোহনবাগান

সাড়ে তিন বছর বাদে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট খেলতে নামছেন নোখিয়ে

কর আধিকারিকদের গ্রেফতারের ক্ষমতা বাতিল, যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত জিএসটি কাউন্সিলের

সোনারপুর ও বালিগঞ্জ স্টেশনের মাঝে ট্রাফিক ব্লক, শনি-রবি বাতিল একগুচ্ছ ট্রেন

জেলা পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ, উত্তপ্ত বসিরহাট

বস হো তো অ্যায়সা! অফিসে আসতে কর্মীদের কষ্ট দেখে BMW উপহার দিলেন মালকিন

নদী বাঁচাতে দেড় হাজার কিমি সাইকেল চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দরবারে দুই অশীতিপর