আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

প্রকৃতির রোষে লণ্ডভণ্ড উত্তরবঙ্গ, মিরিকে ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু ৮ বছরের শিশুকন্যার

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকৃতির রুদ্ররোষ কয়েকঘন্টায় তছনছ করে দিয়েছে উত্তরবঙ্গকে। লাগাতার বৃষ্টিতে ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টির জলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গ জুড়ে। এখন জলের তলায় দার্জিলিংয়ের মহাসড়ক, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি র বিস্তীর্ণ এলাকা। শনিবার ১২ ঘন্টায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। পুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। এদিকে গতকাল থেকেই মিরিকের ধসে একাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ধসে প্রাণ হারিয়েছে আট বছরের এক শিশুও। যাঁর নাম আয়ূষী। বাড়ি শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম ১নম্বর এলাকায়। জানা গিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে দশেরা উৎসবে যোগ দিতে মিরিকে মামাবাড়ি গিয়েছিল ছোট্ট আয়ূষী। কিন্তু ভোররাতের ধস কেড়ে নেয় তাঁর কোমল প্রাণ।ঘটনার খবর পেয়ে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। এবং সোমবার সকালে তিনি ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার, অন্যান্য কাউন্সিলরদের নিয়ে সরাসরি মিরিকে পৌঁছছেন।সেখানে শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

মেয়র জানান, “এই দুর্ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক। এত ছোট্ট একটি প্রাণকে আমরা হারালাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের পাশে আমরা আছি-যতটা সম্ভব সাহায্য করা হবে।” স্থানীয় সূত্রের খবর, টানা বৃষ্টিতে মিরিকের একাধিক এলাকায় নতুন করে ধস নেমেছে। সেই ধসে প্রাণ হারিয়েছেন শিলিগুড়ি একই পরিবারের তিনজন। মৃতদের নাম স্নেহা প্রধান, অনুজ প্রধান এবং অনিতা প্রধান। জানা যায়, তাঁরা মিরিকে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানেই ধসের জেরে মৃত্যু হয় বাবা-মা এবং মেয়ের। শিলিগুড়ির শালবাড়ী এলাকায় পাথরঘাটা অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন তাঁরা। আজ তাদের মৃতদেহ নিয়ে আসা হবে শিলিগুড়ির শালবাড়িতে। মিরিকে একের পর এক প্রাণনাশের ঘটনায় আঁতকে উঠেছেন শিলিগুড়ির মানুষ। তবে উত্তরবঙ্গের চলমান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি হল ছোট্ট আযূষীর অকাল মৃত্যু।

এদিকে জায়গায় জায়গায় পাহাড়ি ধসে বন্ধ হয়েছে সড়ক যোগাযোগ। পাহাড় সমতল বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২৪ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে সোমবার (৬ অক্টোবর) উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর পরেই উত্তরবঙ্গের এমন বেহাল দশা দেখে আঁতকে উঠেছেন গোটা রাজ্যবাসী।এদিকে গতকাল বিকেলের পর থেকে দার্জিলিংয়ের উঁচু এলাকাগুলিতে বৃষ্টি হয়নি। সোমবার সকালে ঝলমলিয়ে রোদ উঠেছে দার্জিলিংয়ে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে পর্যটনস্থলগুলিতে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে সকাল সকাল কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন পেতে ম্যাল ও সংলগ্ন ভিউ পয়েন্টগুলিতে ভিড় জমিয়েছে পর্যটকরা। তবে পরিস্থিতি উন্নতি হলেও আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, ধূপগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বেহুলা লখিন্দরের কাহিনী বিজড়িত পুরাতন মালদার দেবকুন্ডকে ঘিরে গন্ধেশ্বরী মাতার পুজো

মালদায় গণনা কেন্দ্রে কী করতে হবে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

সোমবার গণনার দিন কলকাতা সহ গোটা বঙ্গে ধেয়ে আসছে প্রবল দুর্যোগ

গণনায় শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী কেন?‌ সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল, শনিবারই জরুরি শুনানি

ভাঙড়ে হিংসার আগুন, তৃণমূল কর্মীর দোকান পুড়ে ছাই, দফায় দফায় বোমাবাজি

প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো ইডি অফিসারকে বিশেষ পুরস্কার সংস্থার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ