এই মুহূর্তে

ক্রিকেটের নন্দনকাননে বঙ্গভূষণে সম্মানিত রিচা, তুলে দেওয়া হল সোনার ব্যাট বল

নিজস্ব প্রতিনিধি: ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেনে বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষ। বঙ্গভূষণ সম্মানে সম্মানিত করা হল তাঁকে। ট্রফি ও চেক তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রিচার জন্য এসেছেন ভারতের মহিলা ক্রিকেটের পোস্টার গার্ল ঝুলন গোস্বামী, সিএবি সচিব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় । রিচা ঘোষের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তাঁকে সঙ্গত করেছেন প্রিন্স অফ ক্যালকাটা। উত্তরবঙ্গের আরও এক গর্বের নাম সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। তিনিও বিশ্বজয়ী রিচার হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়েছেন।

এদিন ইডেনে ফুল দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে রিচার বাবা মাকেও। রিচাকে তৈরি করেছেন তো তাঁরাই। দীর্ঘদিন ধরে সিএবি’র আম্পায়ার রিচা ঘোষের বাবা। তাঁর নিরলস পরিশ্রমের ফলেই বাংলার গর্ব ২২ বছরের তরুণী কন্যা আজ বিশ্বকাপজয়ীর দলের সদস্য। রিচার প্রতিভাকে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বোলার ঝুলন গোস্বামী। রিচাকে খুঁজে পেয়েছিলেন তিনিই। এদিন মঞ্চ থেকে সেদিনের গল্প ভাগ করে নিলেন সবার সঙ্গে।

“২০১৩ সালে ভারতীয় মহিলা দল খুব ভাল খেলতে পারেননি। বাংলার ক্রিকেটেও সেভাবে উন্নতি হয়নি। আমি তখন সিএবি সেক্রেটারি বিশ্বরূপ দে, গৌতম স্যার, বাবলু স্যারকে জিজ্ঞাসা করি আমরা কি ডিস্ট্রিক্টে ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম করতে পারি। আমার কথায় তাঁরা সমর্থন করেন। সেই সূত্রেই আমার রিচাকে দেখা। প্রথম শিলিগুড়িতে গিয়ে অনূর্ধ্ব ১৫ ও অনূর্ধ্ব ১৬ তে আমি ওকে দেখেছিলাম। আমি ফিরে বলি সিএবি কর্তাদের জানাই আমাদের কাছে কিন্তু প্রচুর ট্যালেন্টেড ক্রিকেটার আছে। তাঁদের সাপোর্ট করতে পারলে ভবিষ্য্যতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে। রিচা এত ট্যালেন্টেড ছিল, ওই বয়সে আমি আর কাউকে দেখিনি । এরপর বেঙ্গল টিমে ও সিলেক্ট হয়। সেই সময় সৌরভ স্যার প্রেসিডেন্ট, অভিষেক স্যার সেক্রেটারি । আমি বলি যে ওকে সিনিয়র টিমে সিলেক্ট করতে চাই, অনেকেই তখন বলেছিলেন ও এখনও অনেক ছোট। এখুনি সিনিয়রে আনার দরকার নেই। কিন্তু স্যারেরা আমাকে সাপোর্ট করেন। তারপর তো ইতিহাস। একের পর এক জয় পেয়েছে। গত ৪৭ বছর ধরে ভারতীয় মহিলা দল যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা পূরণ করল এবার রিচা, হরমন, স্মৃতি সকলে মিলে। ওদের অসংখ্য ধন্যবাদ। রিচার জার্নির এই শুরু, আরও অনেক দূরে এগিয়ে যেতে হবে ওকে। ”

এদিন মঞ্চ থেকে ঝুলন গোস্বামী ধন্যবাদ জানিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। আইসিসির সচিব এদিন বলেন, “আগে মহিলা ক্রিকেট তো অর্থনৈতিক দিক থেকে এত ভাল ছিল না। আজ যেখানে পৌঁছে তা ঝুলন, মিতালীদের চেষ্টায়। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আমাকে অনুরোধ করেছিলেন মহিলা ক্রিকেটকেও যেন উন্নত করা হয়। রিচাকে আমাদের সকলের তরফ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন। রিচা শুধু একজন ভাল খেলোয়ার নয়, ও যে ৬ নম্বরে এসে ব্যাটটা করে সেটা সবচেয়ে কঠিন। ওর মূল্য ভারতীয় দলে স্মৃতি, হরমন কারও থেকে কম নয়। আমরা যেন কোনও একটা দিন বলতে পারি রিচা, ভারত অধিনায়ক।”

এদিন মহারাজ জানান যে রাজ্য সরকার থেকে সিএবি একটি নতুন অ্যাকাডেমি তৈরির জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট অ্যাকাডেমি তৈরি করা হবে। এদিনের ইডেনের মঞ্চ থেকে উঠে এল কত শত গল্প। জানা গেল নব্বইয়ের দশকে দিল্লিতে পুরুষ ও মহিলা সাংসদদের নিয়ে একটি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে সেরা খেলোয়ার মনোনীত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রিচাকে সম্মান দেওয়া হল সোনার ব্যাট বল। ফাইনালে ৩৪ রান করেছিলেন রিচা। তাই প্রতিটি রানের জন্য সিএবির পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হল ৩৪ লক্ষ টাকার চেক। রাজ্য সরকার ও ক্রীড়া দফতরের পক্ষ  থেকে মুখ্যমন্ত্রী রিচার গলায় পরিয়ে দেন সোনার চেন। রাজ্যের ডিএসপি পদে যোগদানের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার তুলে দেওয়া হয় মঞ্চ থেকে বিশ্বজয়ীর হাতে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিএবির পক্ষ থেকে এদিন সম্মান জানানো হল ফ্রিডম ট্রফির রেপ্লিকা দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের মধ্যে ২০১৫ থেকে থেকে এই ফ্রিডম ট্রফি চালু হয়েছে। এতে একদিকে থাকে গান্ধিজীর ছবি, অন্যদিকে নেলসন ম্যান্ডেলার ছবি। এছাড়া থাকে দুই দেশের পতাকা।

এদিন রিচা ঘোষকে সম্মানিত করতে পেরে আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  তিনি এদিন বলেন, “খেলাধুলায় বাংলা সব্বসময় এগিয়ে থাকে। আগে হয়তো এত গুরুত্ব দেওয়া হত না। কিন্তু সবকিছুই শুরু করতে সময় লাগে। ৯১ সালে আমি যখন ইউথ অ্যান্ড স্পোর্টস মিনিস্টার হলাম, আমার হাত দিয়ে দ্রোণাচার্য সম্মান পেলেন নইমুদ্দিন, শচীন তেন্ডুলকরের কোচ রমাকান্ত আচরেকর পেয়েছিলেন। সুব্রত ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন অর্জুন পুরস্কার। অলিম্পিকে ভারত হেরে গেল, সেই সময় আমি ইন্ডিয়ান পলিসি করেছিলাম স্পোর্টসের। প্রাইভেট সেক্টর, পাবলিক সেক্টরকে নিয়ে স্পোর্টস অ্যাকাডেমি করেছিলাম। ঝুলনরা একটুর জন্য বিশ্বকাপ পায়নি, রিচারা পেয়েছে। ঝুলনদের কাজের ফল পেয়েছে ওরা। আমি রিচার পাশাপাশি ওই সব বন্ধুদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। ওর সিলেক্টর শ্যামাদেবীকে অভিনন্দন। আমাদের শ্রদ্ধা রিচার বাবা মাকে। আমি ব্ব্যক্তিগতভভাবে খুব খুশি। আমাদের মেয়েরা এগিয়ে যাক। ফুটবল, সাঁতার, তীরন্দাজি সব ক্ষেত্রে ছেলে মেয়েরা দারুণ করছে। রিচার থেকে আমরা প্রত্যাশা করব নিশ্চয়, কিন্তু মানসিক চাপ দেব না।” এদিন মঞ্চ থেকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আইসিসি সভাপতি হতে না জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে ইডেন মেতে ওঠে আতশবাজির রোশনাইয়ে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

পরিত্যক্ত অবস্থায় গুচ্ছ গুচ্ছ আধার ও প্যান কার্ড উদ্ধার ঘিরে হবিবপুরে চাঞ্চল্য

বিহারের হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে সীমান্তে মায়ের হাতে তুলে দিল স্বরূপনগর থানা

রূপনারায়ণ নদীতে নতুন প্রজাতির মাছ,নাম রাখা হল ‘বুটিস বর্গভীমি’

চাঁদের আলোয় চা বাগানে গাছের পাতা সংগ্রহ করে তৈরি হয় ‘ফুল মুন টি’

শিশু মৃত্যু নিয়ে মেদিনীপুর হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা,ঘটনাস্থলে পুলিশ

বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন মমতা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ