এই মুহূর্তে

বাংলাদেশে ভোটের মুখে যৌথবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার প্রচুর পাকিস্তানি অস্ত্র, আতঙ্কে সাধারণ ভোটাররা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্নে করতে বিশেষ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ঝাঁপিয়েছে যৌথবাহিনী। আর ওই অভিযানে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্কে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র। তাতেই ঘুম উড়েছে সাধারণ মানুষের। বাংলাদেশ সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে পাকিস্তান থেকে সমুদ্র পথে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র ঢুকেছে দেশে। মূলত জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি সহ পাকিস্তানপন্থী দলগুলির সশস্ত্র ক্যাডারদের জন্যই ওই অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল। তবে এখনও কত পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ কিংবা সেনার শীর্ষ আধিকারিকরা মুখ খোলেননি।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময়েই আন্দোলনকারীদের জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠিয়েছিল পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। স্নাইপার রাইফেল সহ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে খুনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন ইসলামি জঙ্গিরা। আইএসআইয়ের পাঠানো অস্ত্রের পাশাপাশি কুখ্যাত অস্ত্র ব্যবসায়ী ববি হাজ্জাজ ও মাহমুদুর রহমানের উদ্যোগে তুরস্ক থেকেও আগ্নেয়াস্ত্রের বেশ কয়েকটি চালান ঢাকায় এসেছিল।

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট সেনা অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেই ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজের দুটি কন্টেনারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক  দ্রব্য এসেছিল। বন্দরে ইন্সপেকশন বা যথাযথ তল্লাশি ছাড়াই এসব সংবেদনশীল পণ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ভোটের সময়ে অশান্তি পাকানোর কাজে ব্যবহারের জন্যই ওই পণ্য আনা হয়েছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। গত সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছরাগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সেতুর নিচে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানে পাকিস্তানে তৈরি রিভলভার, পাঁচটি হাতবোমা এবং রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত বোমা উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওয়াসিম আকরাম জানিয়েছেন, কিভাবে পাকিস্তানে তৈরি অস্ত্র বাংলাদেশে এলো, তা নিয়ে তদন্ত করা হবে।

শুধু মানিকগঞ্জ নয়, চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনা এবং কুমিল্লাতেও জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে পাকিস্তান ও তুরস্কে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যদিও সাধারণ মানুষের কাছে ‘অকর্মণ্য’ ও ‘অপদার্থ’ হিসাবে পরিচয় পাওয়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, ‘পাকিস্তান ও তুরস্কে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।’

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ফের ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা

বিয়ের টোপ দেখিয়ে কোটি টাকা গায়েব! ‘সারে গা মা পা’ খ্যাত গায়ক নোবেলের বিরুদ্ধে জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা

বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের ময়দানে ২৯১ জন কোটিপতি, সবচেয়ে ধনী  প্রার্থীকে চিনে নিন

বাংলাদেশে বদলে যাচ্ছে RAB এর নাম, নয়া নাম কী হচ্ছে?

করাচি–ঢাকা বিমানে লস্কর-জয়েশের যৌথ টিম ঢোকার সন্দেহ, কড়া নজরদারিতে গোয়েন্দারা

শেখ হাসিনার ভোট বয়কটের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরাই

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ