আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সার্ভিক্যাল ক্যানসার রুখতে এগোচ্ছে উন্নত দেশ, পিছিয়ে উন্নয়নশীল বিশ্ব

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বর্তমানে  বিশ্বজুড়ে নারীদের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি সার্ভিক্যাল ক্যানসার। অথচ সঠিক সময়ে টিকাকরণ, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণা জানাচ্ছে, বর্তমান গতিতে এগোতে পারলে উচ্চ আয়ের দেশগুলি ২০৪৮ সালের মধ্যেই সার্ভিক্যাল ক্যানসার কার্যত নির্মূল করার লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলিতে সেই অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর, ফলে বিশ্বে স্বাস্থ্য বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।পর্যাপ্ত টিকার অভাব, স্বাস্থ্য পরিষেবার সীমাবদ্ধতা, নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের ঘাটতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আগামী শতাব্দী জুড়েও আক্রান্তের হার খুব সামান্যই কমতে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের। 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, HPV টিকার বিস্তার, কম খরচে স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক স্তরে চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোই হতে পারে এই লড়াইয়ের মূল চাবিকাঠি। কারণ সার্ভিক্যাল ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা টিকাকরনের মাধ্যমে   প্রতিরোধ করা সম্ভব  । মেডিক্যাল জার্নাল The Lancet-এ প্রকাশিত  এই গবেষনায় বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলিতে HPV (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকাকরণ এবং জরায়ুমুখ ক্যানসারের স্ক্রিনিং কর্মসূচি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সফল। তার ফলেই সেখানে আক্রান্তের হার দ্রুত কমছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)  নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি এক লক্ষ নারীর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৪  এর নিচে নামলে তাকে ‘elimination’ বা নির্মূলের পর্যায়ে ধরা হয়। উচ্চ আয়ের বহু দেশ সেই লক্ষ্যপথেই এগোচ্ছে , অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলির ছবিটা একেবারেই আলাদা। WHO ২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ,  ১৫ বছর বয়সের আগেই ৯০ শতাংশ কিশোরীকে HPV টিকা দেওয়া, ৭০ শতাংশ মহিলার স্ক্রিনিং করা, এবং আক্রান্ত বা প্রি-ক্যানসার অবস্থায় থাকা ৯০ শতাংশ নারীর চিকিৎসা নিশ্চিত করবে । গবেষকদের দাবি, এই লক্ষ্য পূরণ করা গেলে আগামী ১০০ বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ সার্ভিক্যাল ক্যানসারের ঘটনা আটকানো সম্ভব  হবে ।

 

অপরদিকে,  দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলিতে চিত্রটা ভিন্ন। পর্যাপ্ত টিকার অভাব, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, সচেতনতার ঘাটতি এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের অভাবে সেখানে সার্ভিক্যাল ক্যানসার এখনও বড় স্বাস্থ্যসঙ্কট। গবেষকদের আশঙ্কা, দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে এই দেশগুলিতে আগামী কয়েক দশকেও রোগের বোঝা তেমন কমবে না। কম দামের টিকা, এক ডোজের ভ্যাকসিন কৌশল, বহু বয়সভিত্তিক টিকাকরণ এবং ছেলেদেরও টিকাকরণের আওতায় আনা গেলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজন সরকারের বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জনস্বাস্থ্য নীতিতে দ্রুত পদক্ষেপ। কারণ সার্ভিক্যাল ক্যানসার এমন এক ক্যানসার, যা চাইলে প্রতিরোধ করা সম্ভব, কিন্তু সুযোগের অসম বণ্টনই বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় বাধা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘ব্যর্থতা শেষ কথা নয়’, ছেলে জুনায়েদ  পাশে দৃঢ় আমির খান

সন্ধের আড্ডায় বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন  ক্রিস্পি-ক্রিমি ‘দই কে শোলে’

ঘরেই বানান রেস্তোরাঁর মতো মেথি মালাই পনির, তেতো নয় একদম ক্রিমি স্বাদে

ডিম ছাড়াই অমলেটের স্বাদ, সয়াবিন-পাঁপড় দিয়ে বানান এই নিরামিষ কারি

প্ল্যাটফর্মে ঘুমন্ত যাত্রীর পকেট থেকে চুপিসারে মোবাইল নিয়ে চম্পট, ক্যামেরায় ধরা পড়ল চোর!

‘কিং কোবরা’র সঙ্গে খেলতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় নেটদুনিয়া

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ