ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় রাখা জিন্নার ছবি কুচিকুচি করে ছিঁড়লেন পড়ুয়া

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: এক সময়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় ঠাঁই হল না স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। অথচ ঠাঁই হয়েছিল দ্বি-জাতিতত্ত্বের হোতা তথা বাঙালির উপরে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়া মহম্মদ আলী জিন্নার। ওই খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পড়ুয়াদের একাংশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংগ্রহশালায় ঢুকে জিন্নার তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন এক পড়ুয়া। শুধু তাই নয়, জিনার ছবি পা দিয়ে মাড়িয়ে ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পর তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী তথা পাকিস্তানপ্রেমী মোল্লা মুহাম্মদ ইউনুস। ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হিসেবে পরিচিতদের উপাচার্য পদে বসান। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের নামে প্রহসন ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলি ‘রগকাটা শিবির’ হিসেবে পরিচিত ইসলামী ছাত্র শিবিরকে উপহার দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি-জিএস পদে আসীন হন রাজাকার সন্তান সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান রোহিঙ্গা জঙ্গির কন্যা ফাতিমা তাসনিম জুমা। ছাত্র সংসদ দখলের পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজাকার ও খুনিদের ছবি লাগাতে শুরু করে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারা।

গতকাল রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালা সংস্কারের পরে খুলে দেওয়া হয়। তাতে দেখা যায়, বাদ পড়েছেন স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অথচ ঠাঁই পেয়েছেন বাঙালি নিধনের হোতা মহম্মদ আলী জিন্না। বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়। ডাকসুর নেতৃত্বে থাকা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শিবিরের নেতাদের এমন বেআক্কেলে কাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন সাধারণ পড়ুয়ারা। ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের জনক মুহাম্মদ আলী জিন্না তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষাভাষী জনগণের উপর জোরপূর্বক উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায়  বলেছিলেন, ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন পাকিস্তানের ৫৬ ভাগ বাংলা ভাষাভাষী জনগণ এর  বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষার দাবি আদায় করেছিল। যেই ব্যক্তি বাঙালিদের উপর নিপীড়নের বীজ বপন করেছিলেন, তার ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় স্থান পাওয়ার মানে হল বাঙালীর মুক্তিসংগ্রামকে মুছে ফেলার চেষ্টা। অপরদিকে শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা। এদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস থেকে তাকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। স্বাধীনতার পর তার শাসনামল নিয়ে নির্মোহ পর্যালোচনা হতে পারে, কিন্তু তাকে জোর করে মুছে ফেলার চেষ্টা ইতিহাস বিকৃতির শামিল।’

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নার ‘বিতর্কিত’ ছবি সাঁটানোর নিন্দা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দল বিএনপির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, ‘শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে।’ এদিন দুপুর আড়াইটা নাগাদ ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নার তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। তাঁর কথায়, ‘এদেশের ভাষা আন্দোলনের আসল নায়কদের বাদ দিয়ে পাকিস্তানের জাঁদরেল জিন্নাহর ছবি কেন ডাকসু রেখেছে তার জন্য প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের জবাব দিতে হবে। যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ সব জায়গায় রক্তগঙ্গা দিয়েছে। এখানে থাকতে হবে ভাষা আন্দোলনের নায়ক আবুল কাসেমের (ছবি)। এখানে থাকবে শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ।’

কালীপুজোর ক্ষণ ও তিথি, দেখে নিন একনজরে

প্রকাশিত হল CBSE-র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ২০২৭ সালের পরীক্ষাসূচি

পাউরুটির বাদামি ধার ফেলে দিচ্ছেন? তা দিয়েই বানিয়ে ফেলুন এই ৩ সুস্বাদু পদ, রইল রেসিপি

যাত্রীদের সুবিধার্থে কালীপুজোয় অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যা

বাড়ি ও অফিসের বাইরে চরবৃত্তি করছে পুলিশ! ‘মারাত্মক’ অভিযোগ অভিষেকের

অজান্তেই ক্ষতি করছেন না তো? এই ৭টি অভ্যাসে বাড়ছে চোখের সমস্যা

রাজ্যের সব চিকিৎসকের ডিগ্রি খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য দফতর, বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আজ ধনতেরাসের সন্ধ্যায় এই ৫ জায়গায় জ্বালান প্রদীপ, মা লক্ষ্মীর কৃপায় আসবে সুখ-সমৃদ্ধি!

‘মা-বোনেদের দিকে আঙুল তুললে ভেঙে দেবে সরকার,’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

অমৃতসর-নিউ জলপাইগুড়ি কর্মভূমি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড, দাউদাউ করে জ্বলছে চারটি কামরা

লুঙ্গি ও বারমুডা পরে তারাপীঠ মন্দিরে ‘নো এন্ট্রি’, নির্দেশ কমিটির

সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও সপ্তম পে কমিশনের আওতায়, ঘোষণা নবান্নের

‘Maatrubhumi’ নিয়ে কেন্দ্র চাপ দিয়েছিল? সত্যিটা জানালেন সলমন

দীপাবলির আগে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ সূর্যকুমারের পরিবারের, খুদের ভজন শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী