এই মুহূর্তে




হাতে লেগে থাকা রক্তের দাগ মুছতে হিন্দুদের প্রার্থী করছে জামায়াতে ইসলামী!

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর দোসর হিসাবে হিন্দু নিধন যজ্ঞ চালিয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হিন্দু মেয়েদের গণধর্ষণের মতো পাশবিক ঘটনাও সংগঠিত করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশেও হিন্দুদের মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘর দখল করা থেকে নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাদ্যি বাজতেই ভোলবদল কট্টর মুসলিমপন্থী দলটির। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হাতে লেগে থাকা রক্ত মুছতে রাতারাতি হিন্দু দরদী সাজার চেষ্টায় মেতেছে। হন্দু ভোট কব্জা করতে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দু প্রার্থী করার মতো বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। শুধু হিন্দুদেরই প্রার্থী করা নয়, নারী-বিরোধী তকমা মুছতে মহিলাদেরও প্রার্থী করার চিন্তাভাবনা করছে।

দেশভাগের পর থেকেই হিন্দুরা নিজেদের দল হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগকে। তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা টলেনি হিন্দুদের। খুলনা, বাগেরহাট, গৌরনদী, রাঙামাটি, মাগুরা, বান্দরবানের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকে বেশিরভাগ সময়েই জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন হিন্দুরা। তবে গত বছরের ৫ অগস্টের পর পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। শেখ হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করেছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। ফলে আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটে লড়তে পারছে না হিন্দুদের দল হিসাবে পরিচিত আওয়ামী লীগ।

আর তাই হিন্দু ভোট কব্জা করতে আসরে ঝাঁপিয়েছে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতেও হিন্দুদের জন্য পৃথক শাখা তৈরি করেছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ঘুরে-ঘুরে হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধদের দলের সদস্যপদ নিতে বাধ্য করছে। ভয়ে অনেকেই জামায়াতে নাম লিখিয়েছে, দলের সভা-সমাবেশে হাজির হচ্ছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনগুলিতে জিততে হিন্দু ও উদারমনস্ক মহিলাদের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতা তথা আমির শফিকুর রহমান। গতকাল শুক্রবারই ফের তিন বছরের জন্য আমির হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর প্রথম ভাষণেই ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্ম হল সবার নিজস্ব ব্যাপার।

সূত্রের খবর, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত খুলনা-১ আসনে (দাকোপ-বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত) জামায়াতের প্রার্থী হতে পারেন খুলনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দী। বান্দরবান ও রাঙামাটিতেও দুই সংখ্যালঘু মুখকে প্রার্থী হিসাবে বেছে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের সময়ে রাজপথে থাকা চার তরুণীকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে বাছাই করা হয়েছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচন কবে? ঘোষণা বৃহস্পতিবার সন্ধেয়

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চিন্তায় ঘুম উড়েছে হাসিনার

ভোটে লড়তে বুধেই ইস্তফা দিচ্ছেন ইউনূসের দুই উপদেষ্টা আসিফ-মাহফুজ

চিন থেকে নয়, ইতালি থেকে ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

অন্ধকারে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন, ইন্দো-বাংলা বণিকসভার শীর্ষ পদে হিযবুত জঙ্গি‍!

ঘুম উড়েছে ইউনূসের, ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গোপন বৈঠক খালেদার দূতের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ