বরফে ঢাকা আর্কটিকের আইসল্যান্ড দ্বীপেও পৌঁছৈ গেল মশা

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: পৃথিবীর শেষপ্রান্তে মশার হানা! বরফে ঢাকা আর্কটিকের আইসল্যান্ড দ্বীপে কখনও মশার অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারেনি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই দ্বীপে এই প্রাণীর আগমন ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এই দ্বীপের রাজধানী রেইকিইয়াভিকেতে মশার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। আর্কটিক অঞ্চল পৃথিবীর অন্যান্য বরফাবৃত জায়গার তুলনায় অনেক দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে দেশটিতে ও প্রতিবেশী গ্রিনল্যান্ডে রেকর্ড গরম পড়েছে। দক্ষিণ দিক থেকে উষ্ণ বায়ু আসার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে যেসব প্রাণী বা পোকামাকড় আগে এই অঞ্চলে টিকে থাকতে পারত না, তারাও এখন ধীরে ধীরে উত্তর দিক থেকে এই জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। পর্যটন, জাহাজ চলাচল এবং মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধিও এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রভাব। তাপমাএার বৈষম্য ও ঘন ঘন তাপমাত্রা ওঠানামার কারণে পূর্বে মশার ডিম ও লার্ভা এই দ্বীপে পূর্ণাঙ্গভাবে বেড়ে উঠতে পারত না। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ গ্রীষ্মের কারণে সেই প্রাকৃতিক বাধা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রকৃতিপ্রেমী বিয়র্ন হ্যালটাসন সোশ্যাল মাধ্যম ‘ইনসেক্টস ইন আইসল্যান্ড’-এ জানান, তিনি কিয়োস অঞ্চলের কিডাফেল এলাকায় গোধূলির সময় মশা দেখেছেন। এর আগে আইসল্যান্ডে মশা দেখা গিয়েছিল শুধু আশির দশকে। তখন জীববিজ্ঞানী গিসলি মার গিসলাসন গ্রিনল্যান্ড থেকে আসা একটি বিমানে একটি মশা দেখতে পান। সেটি এখনও আইসল্যান্ডের প্রাকৃতিক ইতিহাস ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত রয়েছে। 

মশার আগমনকে অনেকেই ছোট ঘটনা ভাবলেও বিজ্ঞানীদের মতে, এর প্রভাব হতে পারে। ভাটনায়োকুল ন্যাশনাল পার্কের তথ্য অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে আইসল্যান্ডের হিমবাহের অর্ধেক বরফ গলে যেতে পারে। আর্কটিকের সূক্ষ্ম পরিবেশ ব্যবস্থায় পোকামাকড়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা উদ্ভিদের পরাগায়ন করে, আবার বহু পাখি ও প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও কাজ করে। নতুন প্রজাতির আগমন সেই ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে।

মশারা সাধারণত স্থির জলে ডিম পাড়ে। আর আইসল্যান্ডে এমন জলাশয় প্রচুর থাকলেও সেখানে আগে কখনও মশা দেখা যায়নি। এর প্রধান কারণ, মশা ঠান্ডা-রক্তের প্রাণী এবং উষ্ণ পরিবেশ এই প্রাণীদের জন্য সহায়ক। আইসল্যান্ডে মশার উপস্থিতি শুধু একটি দেশের পরিবেশগত পরিবর্তন নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী ও শীতল অঞ্চলগুলিও কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে, তারই একটি প্রতীকী সতর্কবার্তা। ইতিমধ্যেই আর্কটিক অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাণীর আচরণে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রেইনডিয়ার ও ক্যারিবুর মতো অঞ্চলে প্রাণীরা বাড়তি পোকামাকড়ের আক্রমণের মুখে পড়ছে। কিছু পাখির প্রজনন মৌসুমও ব্যাহত হচ্ছে, কারণ পোকামাকড়ের জীবনচক্র বদলে যাচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরুপ প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে আবহবিদরা ।

‘আগে দিতে হবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ’, নাগরিকত্ব মামলায় বড় বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

‘কান টানলে মাথা আসবে’, তীর্থঙ্কর গ্রেফতার হতেই বিস্ফোরক রত্না দেবনাথ

প্রয়াত ‘জুরাসিক পার্ক’ খ্যাত অভিনেতা স্যাম নীল, মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৮

ফুলশয্যার পর এবার চলন্ত ট্রেনেই শিবের রুদ্রাভিষেক, কী সাফাই রেলের?

বেলা গড়াতেই কলকাতা সহ আশেপাশের জেলায় শুরু ঝড়-বৃষ্টি

এসআইআর ফর্ম পূরণ করতে এসে গণধর্ষণের শিকার বিধবা মহিলা, অভিযুক্ত ৪

নরওয়েতে দীর্ঘদিনের প্রেমিকের সঙ্গে বাগদান সারলেন ইমতিয়াজ কন্যা ইদা

ডিম হামলা থেকে বাঁচতে মাথায় হেলমেট পরে আদালতে বারুইপুর গণপিটুনি কাণ্ডে ধৃত সিপিআইএম নেতা

ইউরোপে ৮ দিনের তাপপ্রবাহে প্রাণ হারালেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ

গা ঢাকা দিয়েও রেহাই পেল না! গ্রেফতার নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর

বরযাত্রীর গাড়িতে ২ ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১৩

ট্রলার থেকে বেরোচ্ছে একের পর এক লাশ! বকখালিতে মৎস্যজীবী মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯

সপ্তাহের শুরুতেই রক্তাক্ত শেয়ার বাজার, ৬০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ল সেনসেক্স, ধাক্কা নিফটিতেও!