বিহারে দ্বিতীয় দফায় ভোট পড়েছে ৬৮.৬১ শতাংশ, ফল ঘোষণা ১৪ নভেম্বর

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটনা: বিহারে সরকার গড়ার নির্বাচনে ‘বাম্পার ভোটিং’। প্রথম দফায় যেখানে ভোট পড়েছিল ৬৫ দশমিক ০৮ শতাংশ সেখানে দ্বিতীয় দফায় ভোট পড়েছে ৬৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। অর্থা‍ৎ প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় তিন শতাংশেরও বেশি ভোট  পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কিশনগঞ্জে। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে নওয়াদায়। প্রতিবেদন প্রকাশের সময়েও বহু বুথে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে অসংখ্য ভোটার। ফলে ভোটের হার আরও বাড়বে বলেই জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক। ২৫ বছর আগে ২০০০ সালে বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ১৯৯৮ সালে লোকসভা নির্বাচনে পড়েছিল ৬৪ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোট। এবারের ভোট ওই দুই রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। বলা যেতে পারে নয়া ইতিহাস গড়েছে এবারের নির্বাচন।

মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে বিহারে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাজ্যের ২০ জেলার ১২২ আসনে ভোট দেওয়ার জন্য সকাল থেকেই বুথগুলিতে ভোটারদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম দু’ঘন্টায় অর্থা‍ৎ সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ১৪.৫৫ শতাংশ। প্রথম দফার নির্বাচনের দিন সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ১৩.১৩ শতাংশ। দুপুর ১টা পর্যন্ত  ভোট পড়ার হার ছিল ৪৭.৬২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কিশনগঞ্জ এবং গয়ায়। দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই ভোটের হার ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ ছাপিয়ে যায়। দুপুর ৩টে পর্যন্ত ভোট দানের হার দাঁড়ায় ৬০.৪০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কিশনগঞ্জে (৬৬.১০ শতাংশ)। তার পরেই রয়েছে পূর্ণিয়া (৬৪.২২ শতাংশ)। কাটিহারেও ৬৩.৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনেতারাও দাঁড়িয়েছিলেন ভোটের লাইনে। রোহতস জেলার করগহর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট দেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। পূর্ণিয়ায় ভোট দেন নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব। সুপৌলে ভোট দেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শাহনওয়াজ হোসেন। সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, বিকেল পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৬৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কিশনগঞ্জে (৭৬.২৬ শতাংশ)। তার পরে কাটিহার (৭৫.২৩), পূর্ণিয়া (৭৩.৭৯) ও আরারিয়ায় (৬৭.৭৯) সবচেয়ে বেশি ভোটদানের হার।   সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে নওদায়। সেখানে ভোট পড়েছে ৫৭.১১ শতাংশ। রাতে সাংবাদিক বৈঠকে বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)ম বিনোদ সিংহ গুনজিয়াল জানিয়েছেন, সন্ধে ছয়টা পর্যন্ত গড়ে ভোট পড়েছে ৬৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

প্রথম দফায় লখিসরাইয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিজয়কুমার সিনহার কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। কনভয় লক্ষ্য করে পাথর-গোবর ও চপ্পল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল আরজেডি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। প্রথম দফায় সেই অশান্তির কথা মাথায় রেখে দ্বিতীয় দফায় কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্থ করেছিল নির্বাচন কমিশন। চার লক্ষাধিক নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল। চলতি বিধানসভা ভোটে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়া নিয়ে শুরু হয়েছে কাঁটাছেড়া। ভোটের ময়দানে থাকা রাজনৈতিক দলগুলির তরফ থেকে বিপুল ভোটদানের পিছনে কারণ খোঁজা শুরু হয়েছে। সাধারণত প্রচুর পরিমাণে ভোট যদি পড়ে সে ক্ষেত্রে তা ক্ষমতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। তবে বিহারে আদৌ পরিবর্তনের জন্যই বাম্পার ভোটিং হল কিনা তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ওই দিনই ইভিএম খোলা হবে।

এদিন দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার পরেই বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। যদিও বুথফেরত সমীক্ষার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং বহু ক্ষেত্রেই বুথফেরত সমীক্ষায় প্রকাশিত ফলাফল মুখ থুবড়ে পড়েছে। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ গত বছরের লোকসভা ভোট। যদিও বিজেপি পন্থী গদি মিডিয়ার তরফে প্রত্যেক ভোট শেষেই এনডিএ’র জয়-জয়কার ঘোষণা করা হয় বুথফেরত সমীক্ষায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

বিজেপি-পন্থী হিসাবে পরিচিত ‘দৈনিক ভাস্কর’ এর বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী বিহারে ১৪৫ থেকে ১৬০টি আসন জিতে সরকার গঠন করছে এনডিএ। আরজেডির নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেতে পারে ৭৩ থেকে ৯১ আসন। প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির ঝুলিতে যেতে পারে ০-৩ আসন। নির্দল ও অন্যান্যরা জয়ী হতে পারে ৫-৭ আসনে।

‘জেভিসি’ নামে অন্য সমীক্ষা সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষায় আভাস দেওয়া হয়েছে, ১৩৫ থেকে ১৫০ আসনে জয় পেতে চলেছে এনডিএ। উল্টোদিকে মহাজোট পেতে পারে ৮৮ থেকে ১০৩ আসন। জন সুরাজের ঝুলিতে যেতে পারে মাত্র একটি আসন। অন্যান্যরা পেতে পারে ৩-৬ আসন।

‘চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস’ –এর সমীক্ষা বলছে, এনডিএ জিততে পারে ১৩০ থেকে ১৩৮ আসন। আরজেডির নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয়ী হতে পারে ১০০ থেকে ১০৮ আসনে। খালি হাতে ফিরবে প্রশান্ত কিশোরের দল। তিন থেকে ৫ আসন জিততে পারে অন্যান্যরা।

‘ম্যাট্রিজ’-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, এনডিএ জিততে চলেছে ১৪৭ থেকে ১৬৭ আসনে। মহাজোটের দখলে যেতে পারে ৭০ থেকে ৯০ আসন। প্রশান্ত কিশোরের দল সর্বাধিক পেতে পারে দুটি আসন। নির্দল ও অন্যান্যরা জয়ী হতে পারে ২-৮ আসনে।

‘পি-মার্ক’ বলছে, ১৪২ থেকে ১৬২টি আসনে জিতে ফের ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে এনডিএ। ৮০ থেকে ৯৮ আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে তেজস্বী যাদবের মহাজোটকে। প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ জিততে আরে ১-৪ আসনে। নির্দল ও অন্যান্যরা পেতে পারে ০-৩টি আসন।

সমীক্ষক সংস্থা ‘পিপলস ইনসাইট’ তাদের বুথফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে ১৩৩ থেকে ১৪৮ আসনে জিতে ফের পাটলিপুত্রের কুর্সিতে ফিরছে নীতীশ কুমারের এনডিএ। ৮৭ থেকে ১০২টি আসন নিয়ে ফের বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত বেঞ্চেই বসতে হবে মহাজোটকে। প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ জয়ী হতে পারে ০-২ আসনে। আর নির্দল ও অন্যান্যদের ঝুলিতে যেতে পারে ৩-৬টি আসন।

‘পিপলস পালস’ এর বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, ‘১৩৩ থেকে ১৫৯টি আসন জিততে চলেছে এনডিএ। ৭৫ থেকে ১০১ আসনে জিততে পারে মহাজোট। ০ থেকে ৫টি আসনে জিততে পারে জন সুরাজ। ২ থেকে ৮টি আসনে জিততে পারেন অন্যান্যরা।

পাঁচ বছর আগে বিহারে ৭৫টি আসনে জিতে একক বৃহত্তম দল হয়েছিল আরজেডি। পরে আসাউদ্দিন ওয়াইসির মিমের পাঁচ বিধায়ক যোগ দেওয়ায় তেজস্বীর দলের শক্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮০।

 

 

স্টেট ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের সুখবর, ধর্মঘটের তিনদিন এটিম থেকে টাকা তুললে চার্জ দিতে হবে না

পাকড়াও কুখ্যাত লেডি ডন পার্বতী, দিল্লিতে গড়ে তুলেছিল মাদক ব্যবসার সাম্রাজ্য

টলিউডে ফের শোকের ছায়া, মাকে হারালেন সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত

যাদবপুর কাণ্ডের জের, শমীকের টিম থেকে ছাঁটা হল শর্বরীকে, ঠাঁই পেলেন লকেট-সৌমিত্র

রাজ্যের সবুজ সঙ্কেত মিললে তিন মাসের মধ্যে টেট নিতে প্রস্তুত, জানিয়ে দিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ

জ্ঞানেশ কুমারকে পদ্মবিভূষণ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করলেন শমীক ভট্টাচার্য

হাইকোর্টে খোদ স্মিতা পাণ্ডে! বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কী বার্তা দিলেন প্রধান বিচারপতি?

এক বাইকে হেলমেটবিহীন সাত পড়ুয়া, কাণ্ড দেখে চোখ কপালে পুলিশের

নিউইয়র্কে নেতানিয়াহু বিরোধী বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অস্কারজয়ী অভিনেত্রী

সাঁড়াশি চাপে জ্ঞানেশ, এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের

জ্ঞানেশ পদত্যাগ না করলে গান্ধি জয়ন্তী থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক আরশোলাদের

দক্ষিণের দফারফা করে এবার উত্তরবঙ্গ ভাসাবে নিম্নচাপ, জারি সতর্কতা

এশিয়ান গেমসে অঘটন, আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিল নেপাল

ভাঁড়ে মা ভবানী, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের বেতন কমছে ২৫ শতাংশ