এই মুহূর্তে

ইরান যুদ্ধের জের, গ্যাস সঙ্কটে বন্ধ মুম্বইয়ের ২০ শতাংশ হোটেল

নিজস্ব প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতে। দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে ইতিমধ্যেই গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গ্যাস হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (GAHAAR)-এর দাবি, গ্যাসের অভাবে শহরের প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী দু’দিনের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

তবে হোটেল বন্ধের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি স্তরে কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি হয়নি। ফলে আপাতত হোটেল খোলা রাখবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন হোটেল মালিকরাই। শুধু মুম্বই নয়, একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে চেন্নাইও। সেখানে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চেন্নাই হোটেল অ্যাসোসিয়েশন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যার ফলে রেস্তোরাঁ ও খাদ্য পরিষেবা শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে। পাশাপাশি ট্রেনযাত্রী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের খাবার সরবরাহেও হোটেলগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: কবে শেষ হবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, জানিয়ে দিলেন ট্রাম্প

চেন্নাই হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম. রবি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। বর্তমানে হোটেলগুলিতে মাত্র দুই দিনের মতো সিলিন্ডার মজুত রয়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বহু হোটেলকে পরিষেবা বন্ধ করতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে গেছে বেঙ্গালুরুতেও। সেখানে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় হোটেল শিল্পের সামনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শনিবার বেঙ্গালুরুতে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ১১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে অনেক হোটেলই বন্ধ হওয়ার মুখে পড়েছে। সমিতির মতে, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্র মারাত্মক সমস্যায় পড়বে। হোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত গ্যাসের শেষ মজুত রয়েছে ততদিন হোটেল খোলা রাখার চেষ্টা করবেন তারা। কিন্তু নতুন করে গ্যাস সরবরাহ না হলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধ শুরু হলেও অন্তত ৭০ দিন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সোমবার থেকেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। যদিও কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরি দাবি করেছেন, দেশে গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই। তবে বাস্তবে বেঙ্গালুরুসহ একাধিক শহরে ইতিমধ্যেই সংকটের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

কেন্দ্রের চাপে ইস্তফা দিলেন ইন্ডিগো’র সিইও পিটার এলবার্স

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের ফাঁদ পেতে লুট! ফ্যাশন ডিজাইনারের হানিট্র্যাপ কাণ্ডে চাঞ্চল্য

ভারতীয়রা চুলোয় যাক, বাংলাদেশকে বাঁচাতে ৫০০০ টন ডিজেল পাঠাচ্ছে মোদি সরকার

কৃষকের মেয়ের বিয়েতে হঠাৎ হাজির রাহুল গান্ধি, পাত পেড়ে খেলেন অনুষ্ঠান বাড়ির ভোজ

তিনবার বিষ দিয়েও মরেনি স্ত্রী! শেষে পরিকল্পিত খুনের ছক, গ্রেফতার স্বামী

একমাসে তিন বার ভিন্ন জনের কাছে বিক্রি, মহিলার সঙ্গে যা ঘটেছে শুনলে শিউরে উঠবেন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ