এই মুহূর্তে

‘গো-মাংস খাওয়ায় বাধা নেই, কিন্তু…’, হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যে শোরগোল দেশজুড়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোট আবহে অসমের রাজনীতিতে গো-মাংসকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অসম জাতীয় পরিষদ প্রার্থী কুঙ্কি চৌধুরী এবং তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে গো-মাংস খাওয়ার অভিযোগ তুলে আক্রমণ আরও জোরদার করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি কুঙ্কির মা সুজাতা গুরুং চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বলেন, সুজাতা গো-মাংস খান, যা সনাতনী ঐতিহ্যের বিরোধী, তাছাড়া তিনি দেশদ্রোহীদের সমর্থন করেন। এরপরেই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। যদিও কংগ্রেসের জোটসঙ্গী এজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তোলা মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগগুলিকে ভুয়ো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে অস্বীকার করেছে। আগামী ৯ এপ্রিল অসমে বিধানসভা নির্বাচন, এবং ফলাফল ঘোষণা ৪ মে। বিতর্কের মুখে পড়ে অবশেষে মুখ খুললেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ভোটগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে গো-মাংস খাওয়া নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।

ডিগবাজি খেয়ে জানালেন, গো-মাংস খাওয়ায় তাঁর কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু এটা যেন ব্যক্তিগত পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ এর আগে একাধিকবার গো-মাংস ভক্ষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি এবং বলেছিলেন, ‘যাঁরা গরুর মাংস খায়, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না।’ কিন্তু ভোট আসতেই উল্টো সুর গাইলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। জানালেন, ‘মুসলিমরা গরুর মাংস খায়। এতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। কারণ অসমে মুসলিমদের একটি বড় সম্প্রদায় বসবাস করেন। যারা গরুর মাংস খান। আমরা তাদের খেতে নিষেধ করতে পারি না। আমরা শুধু তাদের বলতে পারি, বাড়িতেই গো মাংস খেতে, বাইরে নয়। বিশেষ করে, কোনও জনবহুল স্থানে বা কোনও মন্দিরের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নয়।’

তবে গো-মাংস বিতর্ক মন্তব্য করে আরও বিতর্ক উস্কে দিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মার। তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তাঁর মন্তব্য নিয়ে আম আদমি পার্টি ও সমাজবাদী পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) আক্রমণ করেছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছেন। এবং অসম বাসীদের “বিজেপিকে সরাতে ও গরুদের রক্ষা করতে” আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিষয়ে এক্স-এ একটি পোস্টে এসপি নেতা লিখেছেন, “ভজপা হটাও, গৌমাতা বাঁচাও”। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আপ বিজেপির সমালোচনা করে বলেছে, “এরা মা গরুকেও ছাড়ল না। মা গরুকেও নিয়েও নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। দাঙ্গা ও অশান্তি ছড়ানোর পথ তৈরি করছে।” এদিকে চলতি মাসেই জোরহাটে বিজেপির হয়ে প্রচার চালানোর সময় হিমন্ত বলেছিলেন যে, যারা গরুর মাংস খায়, তাদের তিনি ছাড়বেন না। তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করবেন। কিন্তু ভোট আসতেই ডিগবাজি খেলেন, গো মাংসের বিরোধিতার পরিবর্তে গো মাংস খাওয়ার জন্যে মানুষদের উৎসাহ দিলেন। প্রসঙ্গত, অসমে গবাদি পশু নিয়ন্ত্রণের একটি আইন আছে। প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার জন্য তিন বছরের জেলের বিধান রয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে গো-মাংস খাওয়া একটি অন্যতম প্রধান বিতর্কিত বিষয়।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

‘নৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান’, জ্ঞানেশের কমিশনকে নিশানা অখিলেশের

সাঙ্ঘাতিক! মাঠজুড়ে লাশের ছড়াছড়ি, একসঙ্গে ২৫ শকুনের মৃত্যুতে আতঙ্ক

রাত পোহালেই কেরল, অসম ও পুদুচেরিতে বিধানসভা ভোট, কারা এগিয়ে?

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে ‘‌ইন্ডিয়া’‌ জোট, চাপ কি বাড়ল?‌

তামিলনাড়ুতে নির্বাচনের আগেই ধাক্কা খেলেন বিজয়, নিখোঁজ প্রার্থী

শিমলার রামমন্দিরে মুসলিম মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান, বিতর্ক তুঙ্গে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ