বিশ্বের প্রথম মহিলা গণিতজ্ঞকে টুকরো টুকরো করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল ধর্মান্ধরা

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি:  ‘মেয়েদের দ্বারা হবে না’, এই ধারণা এখন বদলে গিয়েছে। বর্তমানে পুরুষদের সমকক্ষ হয়ে উঠেছে মহিলারা। সংসার সামলানো থেকে যুদ্ধ করা কোন কাজই আর মেয়েদের কাছে কঠিন নয়। তবে আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এমন পরিস্থিতি একেবারেই ছিল না। কুসংস্কারে আচ্ছন সমাজে মেয়েদের ঘরের বাইরে বের হওয়া ছিল অকল্পনীয় ঘটনা।  তখন বিজ্ঞানকে জাদুবিদ্যা বা কালাজাদুর চোখে দেখা হত। সেই প্রতিকূলতাকে পিছনে রেখে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে আলো হয়ে ফুটে উঠেছিলেন  হাইপেশিয়া। যাকে  বিশ্বের ‘মহিলা গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী’ হিসেবে মনে করা হয়। তাঁর জীবন বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা। তবে তাঁর শেষ পরিণতি ছিল মর্মান্তিক।    

সম্ভবত ৩৫০ থেকে ৩৭০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে হাইপেশিয়ার জন্ম। তার বাবা  থিওন ছিলেন  আলেকজান্দ্রিয়া মিউজিয়ামের (যা তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল) শেষ জনপ্রিয় সদস্য ও বিখ্যাত গণিতবিদ। থিওন কেবল একজন  বাবা ছিলেন না, তিনি ছিলেন হাইপেশিয়ারকে গড়ে তোলার মূল কারিগর।  থিওন চেয়েছিলেন  তাঁর মেয়েকে একজন ‘নিখুঁত মানুষ’ হিসেবে গড়ে তুলতে। ঠিক এই কারণে  ছোট থেকেই হাইপেশিয়াকে গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও দর্শনের কঠিন সব পাঠ দিতেন  । কেবল পড়াশোনা নয়, হাইপেশিয়া সমানভাবে শরীরচর্চা, সাঁতার এবং অশ্বারোহণেও পারদর্শী ছিলেন। 

হাইপেশিয়া তাঁর বাবার সঙ্গে মিলে জ্যামিতির দিকপাল ইউক্লিডের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘এলিমেন্টস’ সম্পাদনা করেছেন। জ্যামিতির দিকপাল ইউক্লিডের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘এলিমেন্টস’। অনেকেই বলেন টলেমির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ‘আলমাজেস্ট’-এর যে জটিল ব্যাখ্যা এখনও আমারা পাই সেটার বড় অংশে রয়েছে হাইপেশিয়ার অবদান। জানা যায়, হাইপেশিয়া শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন এথেন্স ও ইতালিতে।   সেখান থেকে ফিরে আলেকজান্দ্রিয়ায় নিজের একটি দর্শন স্কুল খোলেন। সেই সময়ে বিশ্বের বহু মেধাবী মানুষ তাঁর   কাছে শিক্ষা নিতে আসতেন। তিনি কেবল মানুষকে গণিত নিয়ে শিক্ষাদান করতেন না পাশাপাশি  মানুষকে শেখাতেন কীভাবে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে হয়। 

জানা যায়, ধর্মের বিভেদ ভুলে জ্ঞান অর্জনে তাঁর কাছে যেতেন বহু মানুষ। এমনকি এটাও জানা যায়, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে ব্যবহৃত ‘অ্যাস্ট্রোলেব’ (নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয়কারী যন্ত্র) এবং তরলের ঘনত্ব মাপার ‘হাইড্রোমিটার’ তৈরিতেও হাইপেশিয়ার অবদান ছিল। জানা যায় পড়াশোনায় তুখোর হওয়ার পাশাপাশি হাইপেশিয়া ছিলেন অসামান্য সুন্দরী। তবে তিনি জাগতিক সৌন্দর্যের চেয়ে জ্ঞানের চর্চাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন। করেননি বিয়ে।  মানুষের কাছে প্লেটো বা অ্যারিস্টটলের কঠিন দর্শনকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা ছিল তাঁর কাছে। তার পরামর্শ নিতেন আলেকজান্দ্রিয়ার গভর্নর থেকে শুরু করে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদেরা।  

হাইপেশিয়ার করুণ পরিণতি 

তৎকালীন আলেকজান্দ্রিয়া ছিল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অস্থিরতার  অন্যতম কেন্দ্র।  শহরের গভর্নর ওরেস্টেস ছিলেন হাইপেশিয়ার বন্ধু। অন্যদিকে আলেকজান্দ্রিয়ার চার্চের প্রধান ছিলেন আর্চবিশপ সিরিল। যিনি পছন্দ করতেন না  হাইপেশিয়াকে।  সিরিল ও ওরেস্টেসের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হলে হাইপেশিয়াকে বলির পাঁঠা বানানো হয়।  হাইপেশিয়া একজন ‘ডাইনি’ এবং তিনি তার ‘জাদুবিদ্যা’ দিয়ে গভর্নরকে চার্চের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছেন বলে শুরু করা হয় মিথ্যা প্রচার। হাইপেশিয়া মানতেন না চার্চের অনুশাসন। সেটাই তাঁর জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই একজন  মেয়ে হয়েও  কেন তিনি পুরুষদের সভায় বক্তৃতা দেবেন, কেন রাজনীতিতে নাক গলাবেন এই নিয়ে তোলা হয় প্রশ্ন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘ধর্মদ্রোহিতা’র  প্রচার শুরু করা হয়।  

জানা যায়, খ্রিস্টীয় ৪১৫ সালের মার্চ মাসে একদিন হাইপেশিয়ার উপর আক্রমণ চালানো হয়।   ‘পিটার দ্য লেক্টর’-এর নেতৃত্বে একদল উন্মত্ত ধর্মান্ধ জনতা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।  তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে  ‘সিজারিয়াম’ নামের একটি চার্চে নিয়ে যাওয়া হয়। ছিঁড়ে ফেলা হয় তার গায়ের কাপড়। ধারালো ঝিনুক এবং ভাঙা টালির টুকরো দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তার শরীরের চামড়া ও মাংস তুলে নেওয়া হয়। মৃত্যুর পরেও থামেনি নৃশংসতা। নিথর দেহটিকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করা হয় এবং শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।  

‘‌এখন ডিজের বদলে তৃণমূল নেতাদের ঘরে হারমোনিয়াম বাজছে’‌, ফলতায় খোঁচা শমীকের

মস্কোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জেরে মৃত্যু হল এক ভারতীয়ের, জখম ৩

তৃণমূল নেতার দখল নেওয়া জমি মূল মালিককে ফিরিয়ে দিলেন বিজেপির উপপ্রধান

ইনইনস্টাগ্রামে চাহাল-মাহভাশের দূরত্ব! বিচ্ছেদের জল্পনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন আরজে

রাজ্যের ৭টি জাতীয় সড়ক কেন্দ্রের হাতে, বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাস্টারস্ট্রোক মুখ্যমন্ত্রীর

মাঝ আকাশে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড় যাত্রীর, তারপর যা ঘটল…

মাতৃহারা লিয়েন্ডার পেজ,  শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

কোহলি-ভেঙ্কটেশের দাপটে পঞ্জাবের সামনে বড় রানের লক্ষ্য রাখল আরসিবি

বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য! বাংলায় শুরু আরও একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প

ডার্বি ম্যাচে আমন্ত্রিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রবিবাসরীয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নয়া দৃশ্য!

মোল্লা ইউনূস-সহ তদারকি সরকারের উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে মামলা

রবিবার সন্ধ্যার পর কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ধেয়ে আসছে বৃষ্টি

রাত পোহালেই ডিএ ঘোষণা!‌ মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠক নিয়ে আশাবাদী সরকারি কর্মচারীরা

আবুধাবিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিশানায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র