এই মুহূর্তে

বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন মমতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে আলিপুরের ‘সৌজন্য’তে রাজ্য সরকারের অতিথিশালায় গিয়ে পদত্যাগী সাংবিধানিক প্রধানের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘ওনার প্রতি যা হয়েছে তা অন্যায়। উনি শিষ্টাচার দেখিয়ে রাজভবনে উঠতে চাননি। উনি হোটেলে উঠতে চেয়েছিলেন। আমিই বললাম, আপনি কেন হোটেলে উঠবেন? আমাদের এখানে বিশেষ অতিথিশালা রয়েছে। আপনি এখানে আমাদের অতিথি হিসাবে থাকুন।’

বাংলায় বিধানসভা ভোটের মুখে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আচমকাই রাজ্যপাল পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। আর বোসের ইস্তফার খানিকবাদেই এ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের আচমকা ইস্তফায় তিনি যে বিস্মিত তাও জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগের খবরে আমি হতবাক এবং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই মুহূর্তে তাঁর পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। তবে, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন তবে আমি অবাক হব না।’

রাজ্যপালের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি সি ভি আনন্দ বোস। তবে রাজভবন (বর্তমানে লোকভবন) থেকে নিজের জিনিসপত্র নিয়ে যেতে সম্প্রতি কলকাতায় এসেছেন তিনি। যদিও লোকভবনে পা রাখেননি। তাঁর স্ত্রী-ই লোকভবন থেকে জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার কাজ সামলাচ্ছেন। এক সময়ে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে খুশি রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে সরাসরি সঙ্ঘাতে জড়িয়েছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। তবে অতীতের সেই তিক্ততা ভুলে হাসিমুখেই বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষা‍ৎ করেন।

এদিন ধর্মতলায় এসআইআরের প্রতিবাদে চলা ধর্না প্রত্যাহারের ঘোষণার সময়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘আমাদের এখানে দীর্ঘদিন রাজ্যপাল ছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। উনি ‘সৌজন্য’-তে আছেন। আগামিকাল চলে যাবেন। প্রাক্তন রাজ্যপাল, যাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবিচার হয়েছে— আমি তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাব।’  ধর্মতলার মঞ্চ থেকেই সরাসরি চলে যান সৌজন্যতে। পরে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়নি। এখনও দেড় বছর বাকি। নির্বাচনের আগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওনার বাগডোগরাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে স্বাগত জানাতে যাওয়ার কথা ছিল। রাজ্য সরকারের তরফে উনিই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছিলেন। সেই মতো টিকিটও বুক হয়েছিল। কিন্তু দিল্লি থেকে তলব করা হয় আচমকা। বলা হয়, বাগডোগরা যেতে হবে না। দিল্লি চলে আসুন। ফলে উনি বাগডোগরায় থাকতে পারেননি।’

রাজ্যপাল থাকাকালীন বাংলার ভোটার হয়েছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। আগামী বিধানসভা ভোটে উনি বাংলায় ভোট দিতে আসবেন কিনা, জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিভাবে বলব? যদি ভোট হয়, তাহলে নিশ্চয়ই আসবেন।’

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

সহমর্মিতা জানাতে পদত্যাগী রাজ্যপাল আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করছেন মমতা

অভিষেকের আবেদনে সাড়া দিয়ে পাঁচ দিনের মাথায় ধর্না তুললেন মমতা

রান্নার গ্যাসের সংকট, বন্ধ কচুরি – নানপুরি – সিঙাড়ার দোকান

‘জন গণ মন জাতীয় গান’, জ্ঞানেশের ‘জ্ঞান’ নিয়ে কটাক্ষ তৃণমূলের

মমতার চেষ্টায় মাথার উপর ছাদ পেলেন শতাধিক গৃহহীন

‘ব্রাহ্মণ পরিবারের ২ কোটি ভোট দিদির কাছে যাবে’, বললেন ব্রাহ্মণ সমাজের প্রেসিডেন্ট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ