বাঙালির অস্তিত্ব ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আক্রমণ বিজেপির, অভিযোগ বাংলা পক্ষ’র

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাঙালি বিদ্বেষী হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী বিজেপির চক্রান্ত — “বন্দে মাতরম্”-এর শব্দ বদলে বিকৃতি।“আমার সোনার বাংলা” গাইলেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হল বাংলা পক্ষ’র সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের তরফে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় (সাধারণ সম্পাদক), কৌশিক মাইতি (সাংগঠনিক সম্পাদক), অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় (শীর্ষ পরিষদ সদস্য), ), সম্রাট কর (শীর্ষ পরিষদ সদস্য), সৌম্য বেরা (কলকাতা জেলা সম্পাদক), সুরজিত সেনগুপ্ত (কলকাতা জেলা সহ সম্পাদক), সৌগত মজুমদার ( কলকাতা জেলা দপ্তর সম্পাদক), এবং সংগঠনের অন্যান্যরা।সভায় সংগঠনের নেতৃত্ব দ্ব্যর্থহীনভাবে অভিযোগ করেন, বর্তমান বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও তাদের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি সুপরিকল্পিতভাবে বাঙালির জাতীয় সত্তা, ভাষা-সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক চেতনার উপর আঘাত হানছে।
বিশেষ অভিযোগ ওঠে—ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত “বন্দে মাতরম্”, যা ভারত যুক্ত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় স্তোত্র রূপে স্বীকৃত ও সাংবিধানিক মর্যাদা প্রাপ্ত, তার শব্দ বিকৃতি ও বিকলন ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “আমার সোনার বাংলা” গান গাইলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করছে এবং মামলা করার হুমকি দেয়া হচ্ছে । যা ভারতে বাঙালির জাতীয় অস্তিত্ব, সম্মান, ও সাংবিধানিক অধিকারের উপর সরাসরি আক্রমণ।

বাংলা পক্ষ আরো দাবী করে —এই অপচেষ্টা আসলে ধারাবাহিক ভাবে চলে আসা হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক চিন্তা ও দুরভিসন্ধির প্রতিফলন।সভায় উপস্থিত বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়(Garg Chatterjee) বলেন, প্রথমত ‘আমার সোনার বাংলা’ গান গাওয়ার অভিযোগে যদি কোনো গায়কের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়, তবে যুক্তির ধারাবাহিকতায় গানটির স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও দেশদ্রোহী গণ্য করতে হয়।যা সম্পূর্ণ অবৈধ যুক্তিবোধের পরিচয়।দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’-এর যে দুটি নির্দিষ্ট অংশ বিকৃত করা হয়েছে, তা আসলে গানটির বাঙালি পরিচয়বাহী ও জাতীয় চেতনা নির্ভর অংশ। এই বিকৃতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাঙালি সত্তা ও আবেগকে আঘাত করার প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে তিনি আনন্দমঠে ব্যবহৃত বন্দে মাতরম্-এর প্রতিলিপি উপস্থিত সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেন।তিনি আরো বলেন যে, এই প্রক্রিয়া genocide-এর একটি ধাপ যার মূল উদ্দেশ্য বাঙালিকে সম্পূর্ণ ভাবে নিশ্চিহ্ন করা।কৌশিক মাইতি তাঁর বক্তব্যে বলেন ,বাংলা ভাষা ও বাঙালি পরিচিতির ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণ আজ স্পষ্ট। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে অপমান করা হচ্ছে। এমনকি ভাত-চিঁড়ে খাওয়ার মতো দৈনন্দিন বাঙালি খাদ্যসংস্কৃতিকেও ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি ব্যবহৃত হয়।এই যুক্তিকে অজুহাত করে ভারতের বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বিশ্বভারতীতে রবীন্দ্রসঙ্গীত সামান্য সুর পরিবর্তন করেও পরিবেশন করা হলে তীব্র প্রতিবাদ উঠত। অথচ আজ রবীন্দ্রনাথের গান বিকৃত, নিষিদ্ধ বা মামলা করা সত্ত্বেও শিল্পীসমাজ, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকেযথাযথ প্রতিবাদ ধরা পড়ছে না।যা উদ্বেগজনক নীরবতার ইঙ্গিত বহন করে।অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন এই বলে যে, প্রথমে শুরু হয় দৈনন্দিন আক্রমণ।বাঙালি খাদ্য ও অভ্যাসকে উপহাস করা, বাংলাভাষী হলে ‘বাংলাদেশি’ বলা, রবীন্দ্রনাথের গানকে নিষিদ্ধ বা মামলা করা এবং গানগুলোর বক্তব্য বদল করে দেওয়া। এরপরই এগোচ্ছে আরও এক ধাপ। ঐতিহাসিক গানগুলোকে বদলানোর দাবি ওঠা , এমনকী কিছু রাজনীতিবিদ দাবি করছেন যে এগুলি ব্রিটিশ শাসকদের তুষ্টির প্রতিফলন। তিনি সতর্ক করেন যে এসব পদক্ষেপ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,এগুলো গণহত্যার চিন্তাধারার পরিচিত ধাপগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং সুচারুভাবে একটি বৃহৎ নকশার অংশ হয়ে উঠছে।

বক্তা ব্রিটিশ শাসনকালে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করায় জেলের শাস্তি হওয়ার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—আজকের পরিস্থিতি কি সেই পথে ফিরে যাচ্ছে? তিনি দাবি করেন, এটি কয়েক বছরের ধারাবাহিক ঘটনাবলীর ফল; বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, বিশেষত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষী হওয়ায় ভিন্নভাবে লক্ষণীয় হেনস্থা ও প্রতিহিংসার ঘটনা বেড়েছে। তিনি সকল বাঙালিকে আহ্বান জানান—এই বাঙালি-বিদ্বেষী মনোভাব ও সাংস্কৃতিক আক্রমণের বিরুদ্ধে এক হয়ে দাঁড়াতে হবে, নাহলে জনসংখ্যাগত সূচকে বাঙালিদের স্থান হঠাৎ করে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। তাই এখনই দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ জরুরি।
সৌম্য বেরা, অভিযোগ করেন, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে অপমান, এমনকি হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাঙালিদের ওপর আক্রমণের প্রবণতা বাড়ছে। তারা দাবি করেন, বিভিন্ন অজুহাতে ভারতের বৈধ বাঙালি নাগরিকদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করা হয়েছে।তাঁর বক্তব্য, এগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,এ আচরণ বাঙালি পরিচয় ও অস্তিত্বের ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণের অংশ। বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে ১৯০১ সালের আদমশুমারিতে গোটা ভারতের ২৫–৩০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে বাঙালির সংখ্যা ছিল প্রায় সাত কোটি।অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ। অথচ আজ বাঙালির অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয় থেকে সাত শতাংশে।বক্তার অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে এই সংখ্যাতত্ত্ব বিকৃত করে “বন্দে মাতরম্”-এ সপ্ত কোটির বদলে ‘কোটি-কোটি’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রকৃত জনসংখ্যাগত পরিসর আড়াল থাকে। এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাঙালি সমাজকে জনসংখ্যাগতভাবে শূন্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

সম্রাট কর, তাঁর বক্তব্যে বলেন,“বিজেপি কোনোভাবেই বাংলাকে দখল করতে পারছে না। তাই তারা নানা উপায়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিহাসে আমরা দেখেছি, পাকিস্তানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল—কারণ বাঙালি জাতীয়তাবোধকে তারা ভয় পেত। আজ বিজেপি সেই একই পথে হাঁটছে। বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা ও পরিচয়কে নিজেদের স্বার্থে বিকৃত করে সাজিয়ে নিতে চাইছে, যাতে বাংলাকেও বিজেপির মতাদর্শের ছাঁচে ফেলা যায়। রাজনৈতিকভাবে বাংলায় তাদের প্রভাব স্থাপন করতে না পারায়, এখন তারা সাংস্কৃতিক এবং প্রশাসনিক আগ্রাসন চাপিয়ে দিচ্ছে। বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশী’ তকমা লাগানো হচ্ছে।হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাংলাভাষীকে অপমানিত করা হচ্ছে। এমনকি ভারতীয় নাগরিকদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে ঠেলে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।সুরজিত সেনগুপ্ত, তাঁর বক্তব্য বলতে উঠে, উদাহরণ দিয়ে জানান দেশ স্বাধীন হবার আগে অখণ্ড বাংলার বহু শিল্পী, সাহিত্যিক ও কবি তাঁদের রচনায় বাংলাদেশ বা বাংলার উল্লেখ করেছেন, তাহলে কি এবার সেই সব কবিতা ও গানের উপরও নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে চলেছ? তাই এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা প্রতিহত করতে হলে প্রতিটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, পরিচয়ের বিরুদ্ধে চালানো আক্রমণের জবাব রাস্তায়, সোশ্যাল মিডিয়ায়, সংস্কৃতিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নইলে আগামী প্রজন্মের সামনে থাকবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ইতিহাস, বিকৃত ভাষা, আর সংখ্যাহীন বাঙালি পরিচয়।বাংলা পক্ষ সর্বস্তরের বাঙালিকে এই বাঙালি-বিদ্বেষী মনোভাব ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।

ভারতের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের পাশাপাশি ঘুরে আসুন ‘বেলুম গুহা’ও, রইল খুঁটিনাটি তথ্য

ভরা বাজারে বন্দুকবাজের গুলিতে মৃত্যু হল তিনজনের, আহত ১২

সুজি কিংবা গাজর নয়, আপেল দিয়েই বানান সুস্বাদু স্বাদের হালুয়া! রইল সহজ রেসিপি

গোবর্ধন পুজো উপলক্ষ্যে সোমবারে কমবে মেট্রো পরিষেবা

‘জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে,’ বললেন অভিজিৎ দীপক

আতশবাজির ধোঁয়া থেকে চোখ বাঁচাবেন কীভাবে? সুরক্ষিত থাকতে মানুন এই ৫ নিয়ম

কালীপুজোর আগে স্কুলে মিড ডে মিল নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্যের

এগরোল-চাউমিনের দাম ১০ টাকা! সস্তায় মুখরোচক ফাস্টফুড খাওয়াচ্ছেন ছায়াদেবী

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে DLS নিয়মে জয়ী গিলরা, সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত

শর্তের বিনিময়ে দক্ষিণেশ্বরেও রিল শ্যুটের অনুমতি পেলেন ব্লগাররা

‘প্রেসিডেন্সি, যাদবপুর থেকে দেশবিরোধীদের হটাব,’ দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা শুভেন্দুর

মাত্র ৫ টাকাতেই চিকেন-ভাত! পেট ভরে খেল শান্তিপুরবাসী

‘কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে গেলেও জব কার্ড বাতিল নয়,’ ঘোষণা দিলীপের

‘পুলিশ বাধা দিলে কালীঘাট মন্দিরের সামনে পুজো করব’, হুঁশিয়ারি মমতার