চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

দৈনিক মজুরিতেও এগিয়ে বাংলা, পিছিয়ে ডবল ইঞ্জিনের রাজ্যগুলি

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: কৃষি(Agriculture) হোক বা শিল্প(Industry)—দুই ক্ষেত্রে বাংলার(Bengal) শ্রমিকরা যে মজুরি(Wages of Workers) পান, তথাকথিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির তুলনায় তা অনেকটাই বেশি। এটা কোনও বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষা নয়! নয় কোনও মনগড়া রিপোর্টও। দেশের রাজ্যগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে RBI বা Reserve Bank of India সম্প্রতি যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেখানেই স্পষ্ট হয়েছে এই চিত্র। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের(West Bengal) শিল্পক্ষেত্রে কর্মীরা যে দৈনিক ভাতা বা মজুরি পান, তথাকথিত শিল্পসমৃদ্ধ এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি(BJP Rules States) তার চেয়ে ঢের পিছিয়ে। কৃষিক্ষেত্রে রোজগারেও ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলা। গত কয়েক বছর ধরেই এই সাফল্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Bannerjee) রাজ্য।

RBI’র রিপোর্ট অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে দৈনিক গড় মজুরি ছিল ৩২৪ টাকা। শিল্পক্ষেত্রে তা ছিল ৩৩৮ টাকা। গুজরাত বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে এই পারিশ্রমিক অনেকটাই কম। তবে পশ্চিমবঙ্গই যে এক্ষেত্রে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে, তেমন নয়। কেরল, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, হিমাচল প্রদেশ বা জম্মু-কাশ্মীরের মতো কয়েকটি রাজ্যে দৈনিক মজুরি বাংলার চেয়ে বেশি। কিন্তু একাধিক ডাবল ইঞ্জিন বা মহারাষ্ট্রের মতো ‘শিল্পবান্ধব’ রাজ্যে যেভাবে শ্রমিকরা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, তাতে রাজ্যগুলির সাফল্যের ঢক্কানিনাদই চ্যালেঞ্জের মুখে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কোন রাজ্যে কর্মীদের মজুরি কত হবে, তা মূলত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট শিল্পসংস্থা বা কর্মদাতা সংস্থার ওপর। এক্ষেত্রে অনেক সময় দ্রব্যমূল্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তবে বাংলায় কর্মীরা বেশি মজুরি পান বলে এমনটা ভাবার কারণ নেই যে এখানে জিনিসপত্রের দাম খুব বেশি।

২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এ রাজ্যের Consumer Price Index বা খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধির সূচক ছিল ৭.১। ওই বছর এই মূল্যবৃদ্ধির সূচক উত্তরপ্রদেশে ৭.১, ত্রিপুরায় ৭, মহারাষ্ট্রে ৭.৩ এবং মোদি-শাহের গুজরাতে ৬.৯ ছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয়, বাংলায় জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক কম। RBI’র তথ্য বলছে, গত ৫ বছর ধরে কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে মজুরির নিরিখে বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যের তুলনায় এগিয়ে আছে বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়শই দাবি করেন, এখানে শিল্পের ভিত্তি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলি। তাই কর্মসংস্থানের সুযোগও বেশি। এই পরিস্থিতিতে RBI’র সাম্প্রতিক রিপোর্ট শিল্পের বড়াই করা রাজ্যগুলির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্প নেই বা আসে না বলে দাবি করে রাজ্য সরকারকে নিয়মিত কাঠগড়ায় তোলে বিজেপি সহ বিরোধীরা। আসলে শিল্প এলেই কর্মীরা পর্যাপ্ত মজুরি পেয়ে যাবেন, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। কিন্তু সেটাই কর্মীদের জীবন-জীবিকার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বছরের পর বছর বাংলাই সামনের সারিতে।

ঘটনাচক্রে আগামিকাল থেকেই রাজ্যে বসতে চলেছে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আসর বা Bengal Global Business Summit 2023। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ঠিক তার আগেই সামনে এল RBI’র রিপোর্ট যা রাজ্যের ভাবমূর্তি যথাযথ ভাবে তুলে ধরেছে। এই রিপোর্ট কার্যত বুঝিয়ে দিচ্ছে বাংলায় শিল্প হোক বা কৃষিক্ষেত্রে শ্রমিক শোষণের ঘটনা ঘটে না। আর এই রিপোর্ট তুলে ধরে রাজ্য সরকারও বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আসর থেকে শিল্পপতিদের কাছে এই রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য আর্জি জানাতেই পারে। কার্যত RBI’র রিপোর্ট এখন বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আসরে দেশি বিদেশী শিল্পপতিদের কাছ থেকে বিনিয়োগ টানার অন্যতম বড় হাতিয়ার হয়ে উঠল রাজ্য সরকারের কাছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নির্বাচনের মুখে কলকাতায় ম্যারাথন তল্লাশি ইডি-র

শুক্রে ঝোড়ো প্রচারে মমতা-অভিষেক, রয়েছে জনসভা ও পদযাত্রাও

দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও কার্যালয়ে IT হানা, কী কারণে আয়কর তল্লাশি?

আগামী ২-৩ ঘন্টায় ৭০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, জেলায় জেলায় হবে শিলাবৃষ্টি

ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের, নিষ্পত্তি হওয়া নাম তুলতে হবে ভোটার তালিকায়

খাস কলকাতায় সিপিএমে ভাঙন, নির্বাচনের প্রাক্কালে একঝাঁক যুবনেতার যোগ তৃণমূলে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ