এই মুহূর্তে

অভিষেকের আবেদনে সাড়া দিয়ে পাঁচ দিনের মাথায় ধর্না তুললেন মমতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার নামে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে শুরু করা ধর্না কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে ধর্না তোলার কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

ভোটার তালিকা থেকে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) অছিলায় ৬৩ লক্ষ বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে গত ৬ মার্চ থেকে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে অবস্থানে বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ওই ধর্না পঞ্চম দিনে পড়েছিল। গত পাঁচ দিন ধরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাগাতার ধর্না দেওয়ার পাশাপাশি সভা পরিচালনার কাজও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে বক্তাদের মাঝে নিজে লাগাতার বলে চলেছেন। তীব্র গরমেও ক্লান্তি নেই। তার মাঝেই সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামাল দিচ্ছেন। ফোনে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন।

গতকাল সোমবারই (৯ মার্চ) মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দিদিকে অনুরোধ করব, চার দিন হয়েছে। আপনি মানুষের স্বার্থে রাস্তায় থাকতে চান। কিন্তু বাংলার ১০ কোটি মানুষের স্বার্থে আপনার সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরি। ঝড়-জল-বৃষ্টির মধ্যে আপনি নিজের শরীরের উপর এই অত্যাচার আর করবেন না। তৃণমূলের ছাত্র-যুব তো রাস্তায় আছে। আমরা তো ময়দানে আছি। ১ লক্ষ বিএলএ-টু আছে। ৩৩০০ অঞ্চল সভাপতি আছে। ১ লক্ষ বুথ সভাপতি আছে। সাড়ে তিন হাজার ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট আছে। বুথে বুথে তৃণমূলের প্রহরী আছে। আমরা বুঝে নেব। আমরা শুধু ভোটের সময় রাজনীতি করতে আসি না।’ তবে অভিষেকের অনুরোধে গতকাল সাড়া দেননি মমতা।

এদিন ধর্না প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করতে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘অনেকটা বিচার পাওয়া গিয়েছে। বিচারের দরজা যখন উন্মুক্ত হয়েছে। পাঁচ দিন তো আমরা রাস্তায় আছি। আমি দরকার হলে ৫০ দিনও থাকতে পারি। অভিষেকের যে প্রস্তাব, আমরা কি ধর্নাটি আজকের মতো তুলে নিতে পারি?’ মমতার প্রশ্নের পর মঞ্চ ও মঞ্চের সামনে থাকা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা  সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলেন। এর পরে ধর্না তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

সিঙ্গুরে কৃষকদের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে ধর্মতলায় টানা ২৬ দিন অনশনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মমতা বলেন, ‘আমি সিঙ্গুরের ব্যাপারে পণ করে এখানে ২৬ দিন অনশনও করে গিয়েছিলাম। দেখুন কী ভাবে ইতিহাস মিলিয়ে দিয়েছে। সিঙ্গুরের সময়ে যে লোকটা জোর করে চাষিদের জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন, সেই লোকটাকেই আজ নির্বাচন কমিশন এখানে ডেপুটি ইলেকশন কমিশন না কী যেন একটা পোস্ট দিয়ে পাঠিয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তৃণমূলের জয়যাত্রা এখানের মঞ্চ থেকেই শুরু হয়েছিল। আগামী দিনেও জেনে রাখবেন, ইতিহাসের কিন্তু পুনরাবৃত্তি হয়। ‘

 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন মমতা

সহমর্মিতা জানাতে পদত্যাগী রাজ্যপাল আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করছেন মমতা

রান্নার গ্যাসের সংকট, বন্ধ কচুরি – নানপুরি – সিঙাড়ার দোকান

‘জন গণ মন জাতীয় গান’, জ্ঞানেশের ‘জ্ঞান’ নিয়ে কটাক্ষ তৃণমূলের

মমতার চেষ্টায় মাথার উপর ছাদ পেলেন শতাধিক গৃহহীন

‘ব্রাহ্মণ পরিবারের ২ কোটি ভোট দিদির কাছে যাবে’, বললেন ব্রাহ্মণ সমাজের প্রেসিডেন্ট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ