সঙ্কটকালে তিনিই বাংলায় গরিবের ত্রাতা, মমতার ইমেজ ভাবাচ্ছে বিজেপিকে

গ্রামের মানুষ কী বলছে? ‘মমতা শুধু কথাই রাখেন না, সঙ্কটকালে তিনিই গরিবের ত্রাতা।’ এই ইমেজই এখন কপালে ভাঁজ ফেলছে বিজেপির নেতা থেকে প্রার্থীদের।  

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: কৃষকবন্ধুর টাকা দ্বিগুণ করা হবে, চালু হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। রেশন পৌঁছে যাবে মানুষের দুয়ারে। একুশের ভোটে এমনই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) প্রতিশ্রুতি। বিরোধীরা বলেছিল, সব ধাপ্পা। এত টাকা আসবে কোথা থেকে? মানুষের মধ্যেও ছিল সংশয়। কারণ এমন প্রকল্প আগে কখনও দেখেনি বাংলা(Bengal)। তবে, সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাতেই জন্মেছিল বিশ্বাস, কথা দিলে তা রাখেন মমতা। সেই বিশ্বাস আজও অটুট রয়েছে বাংলার বুকে। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের মজুরি বাবদ ৩৭৩২ কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) সরকার। সেই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা। তখন আবারও উঠেছিল প্রশ্ন, এত টাকা আসবে কোথা থেকে? তার উত্তর মুখ্যমন্ত্রী মুখে দেননি। মমতা কিন্তু সেটাও কাজে করে দেখালেন। শুরু হয়েছে শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে তাঁদের হকের টাকা পাঠানো। আর এসব দেখে গ্রামের মানুষ কী বলছে? ‘মমতা শুধু কথাই রাখেন না, সঙ্কটকালে তিনিই গরিবের ত্রাতা।’ আর এই ইমেজই এখন কপালে ভাঁজ ফেলছে বিজেপির(BJP) নেতা থেকে প্রার্থীদের।  

বাংলার বুকে অনেকেই মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দেওয়ায় আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে জোর ধাক্কা খাবে বিরোধীরা। গরিব মানুষের আটকে থাকা হকের টাকা মিটিয়ে দেওয়াকে তৃণমূল বিরোধীরা ‘ভোটের আগে নির্বাচনী ঘুষ’ হিসাবেই দেখছেন। আর এখানেই ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, ‘তাঁরা কী চাইছিলেন? ১০০ দিনের বকেয়া মজুরি না মিটিয়ে রাজ্য সরকার আদালতে যাক। আদালত থেকে নিয়ে আসুক মজুরি মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ। কিন্তু সেটা করলে গরিব, খেটেখাওয়া মানুষের দুর্ভোগ আরও কিছুটা লম্বা হতো। কিন্তু রাজনীতির ইস্যুটা জিইয়ে রাখা যেত। নিয়োগ প্রক্রিয়ার মতো বকেয়া মজুরির বিষয়টি ঝুলে থাকলে গরিবদের উস্কে দেওয়া কিঞ্চিৎ সহজ হতো।’ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দেওয়ায় সেই রাস্তাটা বন্ধ হয়ে গেল। এভাবে একের পর এক ইস্যু হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় হতাশা ক্রমশ বাড়ছে বিরোধী শিবিরে। শিবরাত্রির সলতের মতো জ্বলছিল সন্দেশখালি। মূল অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হওয়ায় সেটাও গেল।    

রাজনৈতিক মহলের বিশ্বাস, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি এবং ১০০ দিনের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার প্রভাব লোকসভা ভোটে(General Election 2024) পড়বেই পড়বে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দু’টি পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরকে অনেকটা এগিয়ে দেবে। এখনও হাতে আছে আবাস যোজনার ঘর। নরেন্দ্র মোদির দিকে তাকিয়ে আছে বাংলার ১১ লক্ষ পরিবার। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না দিলে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলাকে বঞ্চনার স্ট্যাম্পটা পাকাপাকিভাবে লেগে যাবে। হাজার ধুলেও তা উঠবে না। মমতা সেখানেও আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে শুধু আশ্বাসই নয়, মমতার টার্গেট আবাস যোজনায় নাম থাকা ৩৩ লক্ষ মানুষের মাথায় পাকা ছাদ গড়ে দেওয়ার। ঘোষণা শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আসলে বাংলা বুঝে গিয়েছে, মোদি না দিলে দেবে দিদি। আর সেটা ঘটলে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের বাংলায় ডেলি প্যাসেঞ্জারি করেও খুব একটা লাভ হবে না। কোভিড পর্বের পরে বিশ্বের তাবড় তাবড় অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর একটাই রাস্তা, টাকা দিতে হবে গরিবের হাতে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। কারণ অর্থনীতিবিদরা নোবেলজয়ী ঠিকই, কিন্তু মোদিজির তালে তাল ঠোকেন না। তাই ‘বিশ্বগুরু’ হেঁটেছিলেন উল্টোপথে। গোটা দেশে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছিলেন। আর বাংলায় তো বন্ধই করে দিয়েছেন। আসলে বাংলাকে বরবাদ করাই ছিল বরাদ্দ বন্ধের উদ্দেশ্য।  

১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর ধাক্কা লেগেছিল। আগে গ্রামের বাজারগুলি অনেক রাত পর্যন্ত লোকজনের ভিড়ে গমগম করত। তাসের ও গল্পের আড্ডা থেকে চা, তেলেভাজা-মুড়ির অর্ডারের খই ফুটত। হুজুগ উঠলেই হতো পিকনিক। কিন্তু ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হওয়ার পর একটু অন্ধকার হলেই সেইসব বাজারে মাছি তাড়ানোর অবস্থা। প্রয়োজন ছাড়া কেউ খুব একটা বের হয় না। ফাঁকা পকেটে জমে না আড্ডাও। বকেয়া মজুরি মেটানো ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধির ফায়দা তৃণমূল কতটা তুলবে, তার উত্তর দেবে সময়। তবে, বকেয়া টাকা মেটানোয় ও ৫০ দিনের কাজের গ্যারেন্টি রাজ্য দেওয়ায় ফের চনমনে হবে গ্রাম বাংলার অর্থনীতি। দোকানে, হাটে, ঘাটে বাড়বে ভিড়, ফিরছে সেই পুরনো ছবি। বাজারে ‘রোল’ হবে টাকা। সেই আশাতেই বুক বাঁধছে গ্রাম। আশায় বুক বাঁধছে তৃণমূলও। কেননা লক্ষ্য এবার ৪২-এ-৪২।

সাবধান! ভুল টুথপেস্ট আর এই খাবারগুলির জন্যই হতে পারে দাঁতের ক্ষতি

ধনতেরাসে তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ, ৪ রাশির বদলাতে পারে ভাগ্য!

বাজার থেকে শীতের সবজি কিনছেন? রান্নার আগে মানুন এই নিয়ম!

কলকাতা-সহ ৭ পুরসভার ভোটার তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে না, জানাল নির্বাচন কমিশন

দীপাবলির আগে করুন এই ২টি কাজ! সংসারে বাড়বে সুখ-সমৃদ্ধি

SRFTI-তে ঝুলল তালা, অশান্তির অভিযোগে আপাতত বন্ধ পঠন-পাঠন

প্রযুক্তির দুনিয়ায় চমক! ১১,০০০mAh ব্যাটারিসহ আসছে Redmi Turbo 6

SBI-তে ৭৭টি শূন্যপদে নিয়োগ, ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে আবেদন

দূষণের জেরে দিল্লি থেকে সরল ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার ওয়ান-ডে ম্যাচ

‘তোলাবাজির অভিযোগ জানালেই ১৫ মিনিটে গ্রেফতার,’ শিল্পপতিদের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

TATA-র বদলে সিঙ্গুরে অশোক লেল্যান্ডের গাড়ি শিল্প! ইঙ্গিত শুভেন্দুর

জোড়াফুল প্রতীক দ্বন্দ্বের মাঝেই ট্রাকভর্তি নথি নিয়ে কমিশনের দরবারে ঋতব্রতরা

নিলামের আগে ৬ কোটিতে ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডারকে হায়দরাবাদ থেকে কিনল চেন্নাই