এই মুহূর্তে

পূর্ব মেদিনীপুরে ৩ পুলিশ জেলার গঠনের প্রস্তুতি শুরু

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পালা শুরু হয়ে গেল। আইনশৃঙ্খলার ওপর নজরদারি বাড়াতে এবার পূর্ব মেদিনীপুরে(Purba Midnapur) তিন- তিনটি পুলিশ জেলা(3 Police Districts) তৈরির সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে হাঁটা দিচ্ছে বাংলায় ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) সরকার। একটি জেলার পুলিশ প্রশাসনকে ভেঙে ৩টি আলাদা আলাদা পুলিশ জেলা তৈরি হলে নজরদারিতে সুবিধা হবে বলে মনে করছে নবান্ন(Nabanna)। গত কয়েক বছর ধরে পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। এই অশান্তির জেরে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তাই রাজ্য সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আলাদা পুলিশ জেলা করতে চায়। কারণ, পূর্ব মেদিনীপুরকে ভাগ করে প্রশাসনিক জেলা করতে গেলে অনেক আইনি জটিলতা রয়েছে। সেই সব আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠা বেশ সময়সাপেক্ষ বিষয়। তাই রাজ্য সরকার ৪ হাজার ৭৮৫ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে এই জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামাল দিতে আর ১জন পুলিশ সুপার নয়, ৩জন পুলিশ সুপার নিয়োগ করতে চাইছে। আর সেই সূত্রেই ৩টি পুলিশ জেলা গঠনের কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন কলকাতা পুরনিগমের ৪৪টি ওয়ার্ডে বাড়ি বানাবার ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ জারি হল

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ প্রশাসনকে ভেঙে যে ৩টি পুলিশ জেলা গড়ে তোলা হচ্ছে সেগুলি হল – তমলুক(Tamluk), হলদিয়া(Haldia) ও কাঁথি(Contai)। পূর্ব মেদিনীপুরে এখন মহকুমার সংখ্যা ৪। তমলুক, হলদিয়া, এগরা এবং কাঁথি। এগরা মহকুমা হলেও এখনই তাকে পৃথক পুলিশ জেলার রূপ দেওয়া হচ্ছে না। কাঁথি পুলিশ জেলার মধ্যে থাকছে ৮টি থানা। এগুলি হল – কাঁথি, মরিশদা, এগরা, রামনগর, দিঘা, দিঘা কোস্টাল, মন্দারমণি কোস্টাল এবং জুনপুট কোস্টাল থানা। হলদিয়া পুলিশ জেলার মধ্যে থাকছে ৯টি থানা এলাকা। এগুলি হল – মহিষাদল, সুতাহাটা, দূর্গাচক, হলদিয়া, ভবানীপুর, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম, জনকা এবং তালপতিঘাট কোস্টাল থানা। তমলুক পুলিশ জেলার মধ্যে থাকছে পটাশপুর, ভূপতিনগর, ভগবানপুর, নন্দকুমার, ময়না, তমলুক, কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া – এই ৮টি থানা। একই সঙ্গে জেলায় বাড়ানো হচ্ছে সাইবার ক্রাইম ও মহিলা থানার সংখ্যাও।

আরও পড়ুন রবি সকালেই বঙ্গের উদ্বেগ বাড়িয়ে প্রায় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়লো ডিভিসি

উল্লেখ্য, বাম জমানার শেষদিকে ২০০৭ সালে জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। বামেদের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছিল ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি। সেই আন্দোলনের জেরে পুলিশ গুলি চালালে ১৪ জন নিহত হন। এরপর সেখানকার রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে। এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী যোগ দেন বিজেপিতে। সেবারের নির্বাচনে মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। ভোট পর্ব মিটে গেলেও তারপর থেকে দফায় দফায় অশান্তি ছড়ায় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। সরকার মনে করছে, এই জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে বিকেন্দ্রীকৃত পুলিশি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। যা সম্ভব পৃথক পুলিশ জেলা তৈরি করলেই সম্ভব হবে। তাই যেমন ভাবা তেমন কাজ।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

রাজ্যে হালকা শীতের আমেজ, লেপ-কম্বল তুলে রাখবেন? কী বলছে হাওয়া অফিস?

বালির প্রফুল্ল সমিতির পুজোয় মা সরস্বতী আবির্ভূত হচ্ছেন পুকুরের জলের নীচ থেকে

সরস্বতী পুজোর থিমে SIR, বিদ্যার দেবী হয়তো বলছেন, “আমাকেও ছাড়লি না তোরা!”

শুনানি কেন্দ্র তাণ্ডবের ঘটনায় ইআরওকে চিঠি দিলেন ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক, কী লিখলেন?

খুন হননি! বেলডাঙার সেই পরিযায়ী শ্রমিকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আনল ঝাড়খণ্ড পুলিশ

হাবড়ায় নেশামুক্তি কেন্দ্রে রহস্যমৃত্যু,ধৃত ৭, তদন্তে পুলিশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ