এই মুহূর্তে

দিদিমণিদের উৎসাহে ছোট্ট অনিরুদ্ধ ক্ষুদে শিল্পীর পাশাপাশি ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিনিধি,শান্তিপুর: মায়ের কানের দুল ভেঙে ফেলার অনুশোচনায়, স্কুলের ওয়ার্ক এডুকেশনে সৃজনশীলতার পরিচয়। দিদিমণিদের উৎসাহে ছোট্ট অনিরুদ্ধ এখন ক্ষুদে শিল্পীর পাশাপাশি ব্যবসায়ীও।নদিয়ার শান্তিপুরের(Santipur) সূত্রাগড় এম এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র অনিরুদ্ধ ঘোষ মাত্র এইটুকু বয়সেই স্কুলের গণ্ডি থেকে ব্যবসার শ্রী বৃদ্ধি ঘটিয়েছে বাইরের জগতেও। তবে এই ব্যবসা শিল্পকর্মের।আজ থেকে দু’বছর আগে যখন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তখন অনিরুদ্ধ আরো খানিকটা ছোটো। খেলতে খেলতে মাটির তৈরি মায়ের কানের দুল ভেঙে ফেলেছিলো, খুব বেশি বকাবকি না খেলেও ছোট্ট মনে অনুশোচনা হয়েছিল অনেকটাই। মাটি দিয়ে ভাঙ্গা অংশ দেখে তৈরি করেছিল হুবহু একজোড়া কানের দুল। যাতে শুধুমাত্র মা নয় খুশি হয়েছিলেন প্রতিবেশী অনেক মা কাকিমারাই। সে বছরই বিদ্যালয়ে ওয়ার্ক এডুকেশন পরীক্ষায় ওই কানের দুলের সাথে মিল করে হাতের কাজ হিসেবে বানায় একটি হার।

ছোট্ট এই ছাত্রের সৃজনশীলতা দেখে মুগ্ধ কর্মশিক্ষার দিদিমণি নমিতা বিশ্বাস কুন্ডু। তিনি অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য নিজের জন্য একটি হারের অর্ডার দেন, উপযুক্ত পারিশ্রম তুলে দেন অনিরুদ্ধার মা ঝুমা ঘোষের হাতে। একের পর এক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০-১২ জন দিদিমণি প্রত্যেকেই তাদের পছন্দ মতন ডিজাইন অনুযায়ী অনিরুদ্ধকে দিয়ে বানান নিজেদের নানান মাটির অলংকার। এভাবেই ব্যবসায় হাতে খড়ি হয় অনিরুদ্ধর। বর্তমানে অবশ্য বিদ্যালয়ের দিদিমণিরাও তাদের আত্মীয় পরিচিত দের কাছ থেকে অর্ডার(Order) এনে দেয় অনিরুদ্ধকে। অন্যদিকে ওই ছাত্রের পরিবারবর্গ প্রতিবেশী এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও অর্ডার আসতে থাকে। অনিরুদ্ধর বাবা নিরুপম ঘোষ(Nirupam Ghosh) পেশায় ছোটখাটো একজন রেডিমেড পোশাক বিক্রেতা, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংসারে খুব বেশি উপার্জন সম্ভব হয় না, তবে এরই মধ্যে মেয়ে অনয়াকে চাকদহ কলেজে গণিত বিভাগে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করাচ্ছেন।তবে ভাইয়ের পড়াশোনা যাতে ক্ষতি না হয় এবং সংসারে যাতে কিছুটা স্বচ্ছলতা আসে তার জন্য দিদি অনয়াও অলংকার তৈরিতে কিংবা তার ওপর আঁকি-বুকি অথবা নিত্যনতুন ডিজাইন করার ক্ষেত্রে হাত লাগিয়েছে ভাইয়ের সাথে। উচ্চশিক্ষায় ইচ্ছা থাকলেও বর্তমান চাকরির পরিস্থিতির কথা ভেবে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে, ব্যবসার বিষয়টি তারও বেশ পছন্দের।

এত ছোট বয়সে অর্থের সান্নিধ্য পাওয়া প্রসঙ্গে অবশ্য পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই মুহূর্তে অবসর সময়ে সে এ ধরনের কাজ করলেও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগে বেশ কিছুদিন বন্ধ রাখা হয় অলংকার তৈরি ।বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন শুধু পড়াশোনা নয় শিশুদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা সৃজনশীলতা খুঁজে বের করাই শিক্ষকদের কাজ সবাই যে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবে এমন নয়। এখন আগ্রহের বিষয় অনুযায়ী বিভিন্ন ভোকেশনাল(Vocational) পড়াশোনা শুরু হয়েছে অনিরুদ্ধ পড়াশোনাতেও যেমন ভালো ,তেমনি ভালো নাটক করে, ছবি আঁকতে ভালোবাসে আবার ফুটবলও খেলে ভালো । তাই ওর আগ্রহ অনুযায়ী বিদ্যালয়ে সমস্ত উপযোগী ব্যবস্থা করে দেওয়াই আমাদের কাজ।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

আউশগ্রামে ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ কলিতা মাজিকে প্রার্থী করল বিজেপি, প্রশ্ন তুলল তৃণমূল    

‘একতরফা সিদ্ধান্ত নেবেন না’, নন্দিনীদের অপসারণ নিয়ে জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

কলকাতায় শুরু তুমুল ঝড়-শিলাবৃষ্টি, বাড়িমুখো অফিস যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

কিছুক্ষণের মধ্যে ধেয়ে আসছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, কলকাতা-সহ চার জেলায় জারি লাল সতর্কতা

সাহিত্যসম্রাটের পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করল বিজেপি, ‘‌বঙ্কিম দা’‌ ড্যামেজ কন্ট্রোলে কৌশল

আবার মমতা বনাম শুভেন্দু, পরাজয়ের ভয়ে দুই আসনে প্রার্থী করল বিজেপি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ