এই মুহূর্তে

চাঁদের আলোয় চা বাগানে গাছের পাতা সংগ্রহ করে তৈরি হয় ‘ফুল মুন টি’

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার:বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল আর চা বাগানে ঘেরা আলিপুরদুয়ার জেলা। এই জেলায় মাঝারি ডাবরি চা বাগান (Dabri Tea Garden)এত অঞ্চলের বিখ্যাত একটি চা বাগান। বেশ কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন প্রকার চা প্রস্তুত করেন এই বাগান কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে,পিটিসি (কাটিং, টুইস্টিং, এন্ড কার্লিং) অর্থ ডক্স। ফার্স্ট ফ্ল্যাশ। গ্রিন টি। ব্লু-টি। ইত্যাদি। কিছুদিন আগের থেকে তাঁরা আরেকটি ভিন্নধর্মী চা(Tea) তৈরি করছে। যার নাম ‘ফুল মুন টি’। এই চায়ের প্রক্রিয়াটি একদমই ভিন্ন ধরনের। এই প্রক্রিয়াতে শুধুমাত্র রারাতের বেলাতেই  গাছের পাতা ছেঁড়া হয় এবং কারখানা জাত করা হয়। তারই সাথে সাথে চায়ের উৎপাদন শেষ করা হয়।

কারণ রাতের বেলায় চা গাছ ঘুমন্ত থাকে। সেই সময় চায়ের পাতা উত্তোলন করলে চায়ের গন্ধ তা নষ্ট হয় না এবং যথাযথ থাকে। দিনের বেলায় সূর্যের আলোতে গাছ জেগে থাকে এবং পাতা তোলার পর কারখানা জাত করার পর তার অনেকটাই গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়।সেই কারণে রাতের অন্ধকারে কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে যদি পাতা তোলা যায় এবং চা তৈরি করা হয় তবে তার গুণগত মান যথাযথ ভাবে পাওয়া যায়। অন্যান্য চায়ের থেকে এর সাজস সম্পূর্ণ আলাদা হয়। বিদেশের বাজারে এই চায়ের মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা কেজি। বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় কর জানান , তাঁরা বছরে তিনবার যেমন কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার পূর্ণিমা, বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং দোল পূর্ণিমা এই তিনটি পূর্ণিমাতেই চায়ের পাতা সংগ্রহ করেন এবং তার থেকে সুগন্ধি চা তৈরি করেন।

উনি আরও জানান, দিনের দিন এই চায়ের চাহিদা বাড়ছে বিদেশের বাজারে।আগামী থেকে আরও বেশি করে তৈরি করা যায় কিনা তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চা এর পাতা তোলার সময় আদিবাসী মহিলারা নৃত্যে মেতে ওঠেন। গান করতে করতে হাতে কৃত্রিম আলো নিয়ে চায়ের পাতা সংগ্রহ করেন তাঁরা। এই চা পাতা সংগ্রহের সময় সেখানে পুরুষরা মশাল নিয়ে চারদিকে পাহারা দেন। যাতে হিংস্র কোন জন্তু চা বাগানে এসে আক্রমণ করতে না পারে ।রাতের চা বাগানে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব দৃশ্যের। জোৎস্নার আলোয় ঝলমলিয়ে ওঠে, সেই চায়ের পাতা সংগ্রহের দৃশ্য। যা ভাষায় বর্ণনা করা সহজ ব্যাপার নয় বলে মনে করেন চা বাগানের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। তবে আগামী দিন যেভাবে বিদেশের বাজারে এই ‘মুন টি’- এর চাহিদা বাড়ছে তাতে বছরের চারটি ভরা পূর্ণিমা নয়, অন্য পূর্ণিমাগুলিতেও এই ধরনের পাতা সংগ্রহ করা যায় কিনা তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ওই চা বাগান কর্তৃপক্ষ।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

পরিত্যক্ত অবস্থায় গুচ্ছ গুচ্ছ আধার ও প্যান কার্ড উদ্ধার ঘিরে হবিবপুরে চাঞ্চল্য

বিহারের হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে সীমান্তে মায়ের হাতে তুলে দিল স্বরূপনগর থানা

রূপনারায়ণ নদীতে নতুন প্রজাতির মাছ,নাম রাখা হল ‘বুটিস বর্গভীমি’

শিশু মৃত্যু নিয়ে মেদিনীপুর হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা,ঘটনাস্থলে পুলিশ

বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন মমতা

২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার সময় থাকা ওসিদের তালিকা ডিজিকে দিতে নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ