এই মুহূর্তে

বারাসতে শমীকের উস্কানিমূলক ভাষণের পরেই তৃণমূলের অফিসে হামলা বিজেপি কর্মীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি ,বারাসত: উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসতে বিজেপির রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে তুলকালামকাণ্ড ঘটে। অভিযোগ বারাসতের হেলা বটতলায় অস্থায়ী মঞ্চে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhatatcharya)উস্কানি মূলক বক্তব্য চলাকালীন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা হেলাবটতলায় আইএনটিটিইউসি’র দলীয় অফিস ভেঙে চুরমার করে। পার্টি অফিসের সামনে থাকা বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেলে ভাঙচুর চালায় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) লাগানো ব্যানার ও ছবির উপরে ছোড়া হয় চেয়ার ,ইট- পাটকেল। একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশের সামনেই প্রায় এই ভাঙচুর চলে বেশ কিছুক্ষণ। সেই সময় বিজেপির রথ থেকে মাইকে কর্মীদের সেখান থেকে চলে আসার জন্য অনুরোধ করা হতে থাকে।

কিন্তু নেতৃত্বের কথা না শুনে একতরফা হামলা চালায় বিজেপি কর্মীরা। অধিকাংশ বিজেপি কর্মীদের গায়ে ছিল মোদির ছবি আঁকা গেঞ্জি।এরপরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা হেলাবটতলা এবং কলোনি মোড়(Colony More) চত্বর। খবর পেয়ে চারদিক থেকে তৃণমূল কর্মীরা ছুটে আসেন এবং রথযাত্রাকে দেখে ‘মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগান দিতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় Raf এবং আধা সেনা। বারাসত পুলিশের আধিকারিকরা রাস্তায় নামেন। দুপক্ষকে সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া হয়।পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে বারাসত তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রতিবাদ জানিয়ে কলোনি মোড়ে বেশ কিছুক্ষণ পথ অবরোধ করে। তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর। তবে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিলে তৃণমূল কর্মীরা অবরোধ তুলে নেয়।

এই অবরোধের দরুণ সপ্তাহের প্রথম দিন ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় বারাসত শহরে। এর আগে বারাসতে রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে এসে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন,যতক্ষণ না এসআইআরের(SIR) কাজ সব সম্পন্ন হবে ততক্ষণ নির্বাচন হবে না। জ্ঞানেশ কুমার যতই বলুন ,যা হয়েছে নির্বাচন হয়ে যাক ।ও বললে হবে না।নো এসআইআর, নো ভোট।সোমবার নির্বাচন কমিশনারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এমনটাই বললেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, ‘বিজেপির দেওয়া ফর্ম সেভেন যা জমা পড়েছে, পুলিশ যা বাজেয়াপ্ত করেছে প্রত্যকটা খুঁটিয়ে দেখতে হবে।’ জ্ঞানেশ কুমারকে রবিবার রাতে এবং সোমবার সকালে কাল পতাকা দেখানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকে আমরা বলে এসে ছিলাম আপনি আসুন। এসে দেখুন। উত্তর ২৪ পরগনা যান। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা যান । বীরভূম যান। মুর্শিদাবাদ যান। সরজমিনে এসে দেখুন। এতদিন এসে দেখেননি এখন বুঝুন।’ রবিবারই রাষ্ট্রপতি শাসনের জল্পনা ওড়ান সিইও মনোজ আগরওয়াল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিইও বলেছিলেন নির্দিষ্ট সময়েই নির্বাচন হবে। আশঙ্কার কিছু নেই। ৫ টা রাজ্যে নির্বাচন হবে। বাকি ৪ জায়গায় হবে আর বাংলায় কেন হবে না ? চিন্তার কোনও কারণ নেই। 

অন্যদিকে, কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চ থেকে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারকে নিশানা করেছেন তৃণমূল সংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন ভ্যানিশ কুমার আগে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করুন। নাগরিকত্ব দেখান। আপনি ভারতের নাগরিক কিনা প্রমাণ দিন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করে দিল্লি ফিরিয়ে দিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন জ্ঞানেশ কুমার। 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

পরিবর্তন যাত্রায় আদিত্যনাথের প্রিয় ‘বুলডোজারে’ চেপে মঞ্চে গেলেন সুকান্ত

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে,প্রেমিকাকে হাঁসুয়ার কোপ মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা প্রেমিকের

প্রচণ্ড গরমেও টানা চারদিন ধর্নায়, মমতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত অভিষেক

নিজেরটা ‘বিচারাধীন’ এবং দুই ছেলের নাম বাদ পড়ে যাওয়ায় মানসিক চাপে আত্মঘাতী গৃহবধূ

কমিশনের বৈঠকে হাজির হলেন না জাভেদ, ক্ষেপে লাল জ্ঞানেশ

‘বাদ যাওয়া ভোটারদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করবে মোদি সরকার’, বিস্ফোরক দাবি অভিষেকের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ