Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

‘গদ্দার’ রথীনকে আবারও হারিয়ে প্রসূণকে দিল্লি যাত্রার ছাড়পত্র দিতে প্রস্তুত হাওড়া

হাওড়া শহরে মমতার পদযাত্রায় সামিল জনসুমানির ঢল বলে দিচ্ছে, রথীনকে হারিয়েই প্রসূণকে আরও একবার দিল্লি পাঠাতে তাল ঠুকছেন এলাকার ভোটাররা।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের পুরাতন লোকসভা কেন্দ্র। ১৯৫২ সাল থেকে তার উপস্থিতি। বার বার এই কেন্দ্র হাতবদল হয়েছে বাম আর ডানপন্থীদের মধ্যে। মূলত কংগ্রেস আর সিপিআই(এম)’র মধ্যে। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকেই এই কেন্দ্র হয়ে উঠেছে তৃণমূলের(TMC) দুর্ভেদ্য দুর্গ। এবার সেই দুর্গেই বিজেপি(BJP) প্রার্থী করেছে ‘হেরো’ তথা ‘গদ্দার’ রথীন চক্রবর্তীকে(Rathin Chakrabarty)। আর এই রথীনকে হারিয়েই প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে(Prasun Banerjee) আরও একবার দিল্লি পাঠাতে তাল ঠুকছেন এলাকার ভোটাররা। সেই প্রত্যয় ২৪ ঘন্টা আগেই রাজপথে ফুটে উঠেছে অগ্নিকন্যার পদযাত্রায়। জনসুনামি আছড়ে পড়েছিল শহরের রাজপথে। নজরে হাওড়া লোকসভা কেন্দ্র(Howrah Constituency)। বালি, উত্তর হাওড়া, মধ্য হাওড়া, শিবপুর, দক্ষিণ হাওড়া, সাঁকরাইল ও পাঁচলা এই ৭টি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের গঠন।  এই কেন্দ্র থেকেই ২০১৩ সাল থেকে টানা সাংসদ হিসাবে কাজ করে চলেছেন তৃণমূলের এবারের প্রার্থী তথা প্রাক্তন ফুটবলার প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

হাওড়া লোকসভা কেন্দ্র কিন্তু সেই অর্থে কট্টর বামপন্থী বা ডানপন্থী কেন্দ্র নয়। ১৯৫২ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র গিয়েছিল কংগ্রেসের দখলে। কিন্তু তার ঠিক ৫ বছর বাদে ১৯৫৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র চলে যায় বামেদের দখলে। ১৯৬২ সালের লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে জিতেছিল বামেরা। অথচ রাজ্যে তখন কংগ্রেসি সরকার রাজত্বপাট করছে জাঁকিয়ে বসে। ১৯৬৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে অবশ্য হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয় কংগ্রেস। ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এই লোকসভা কেন্দ্র ফের নিজেদের দখলে রেখেছিল বামেরা। কিন্তু ১৯৮৪ সালে এই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আবারও এই কেন্দ্র চলে যায় বামেদের দখলে। ১৯৯৬ সালে এই কেন্দ্র বামেদের হাত থেকে ফের উদ্ধার করেছিলেন প্রিয়রঞ্জন। কিন্তু ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ধাক্কা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও বলা ভাল মমতা ধাক্কা দিয়েছিলেন প্রিয়রঞ্জনের পাশাপাশি কংগ্রেসকেও। কেননা সেই নির্বাচনে প্রথমবারের জন্য তৃণমূল জয়ী হয় হাওড়া থেকে। বাম আর কংগ্রেসের পাশাপাশি সেই প্রথম হাওড়ায় জয়ী হয়েছিল তৃতীয় কোনও রাজনৈতিক দল।

তৃণমূলের হাওড়া দখল এই কেন্দ্রে কংগ্রেসকে প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত করেছিল। তবে তৃণমূলও সেই দখল ধরে রাখতে পারেনি। ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ টানা ১০ বছর আবারও এই কেন্দ্র চলে গিয়েছিল বামেদের দখলে। কিন্তু ২০০৯ থেকে এই কেন্দ্র রয়েছে তৃণমূলের দখলে। অর্থাৎ টানা ১৫ বছর এই কেন্দ্র রয়েছে তৃণমূলের দখলে। ২০০৯ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূল জয়ী হয়েছিল ৩৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে। জয়ী হয়েছিলেন অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রাস্ত করেছিলেন বাম প্রার্থী স্বদেশ চক্রবর্তীকে। অম্বিকাবাবুর মৃত্যুতে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। সেই সময় থেকেই তৃণমূলের প্রার্থী এবং সাংসদ হিসাবে জয়ী হয়ে আসছেন প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৩ সালের সেই উপনির্বাচনে তৃণমূল জয়ী হয়েছিল ২৬ হাজার ভোটে। পরের বছরের লোকসভা নির্বাচনে সেই জয়ের মাত্রা বেড়ে হয় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অতিবড় মোদি ঝড়েও এই কেন্দ্র ধরে রেখেছিল তৃণমূল। তবে কমেছিল জয়ের ব্যবধান। প্রসূণ জয়ী হয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ভোটে। আর এবার তৃণমূলের দাবি জয় আসবে দুই লক্ষ ভোটেরও বেশি ব্যবধানে।

কেন এই দাবি তৃণমূলের? কেননা একুশের ভোটে এই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল। সেই সময়েই তৃণমূল এই কেন্দ্রে ২ লক্ষ ভোটের লিড তুলেছিল। আর এবার তো তৃণমূলের পালে হাওয়া তুলে দিয়েছে ‘গদ্দার’ রথীন চক্রবর্তীকে হারানোর পণ। রথীনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাওড়া পুরনিগমের মেয়র বানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রথীনই তৃণমূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে একুশের ভোটের আগে চাটার্ড বিমানে চেপে দিল্লি গিয়ে যোগ দেন বিজেপিতে। সেই থেকেই তৃণমূলের কাছে, হাওড়াবাসীর কাছে রথীন ‘গদ্দার’ হয়ে গিয়েছেন। বিজেপি তাঁকে একুশের ভোটে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও করেছিল। কিন্তু রথীনকে শিবপুরবাসী সজোরে প্রত্যাখান করেন। তৃণমূলের প্রার্থী মনোজ তিওয়ারির কাছে সেই সময় ৩২ হাজার ভোটে হেরেছিলেন রথীন। এহেন ‘হেরো’ ‘গদ্দার’কে আবারও প্রার্থী করেছে বিজেপি, সেটাও আবার লোকসভার যুদ্ধে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেমে নিতে পারেননি খোদ হাওড়া শহরের আদি বিজেপির নেতাকর্মীরা। তাঁরা কার্যত কেউই রথীনের হয়ে গা ঘামাচ্ছেন না। প্রসূণ কিন্তু গোটা তৃণমূলের পরিবারকে সঙ্গে নিয়েই নিত্যদিন মাঠে নামছেন প্রচারে।

তৃণমূলের পালে এবার বাড়তি হাওড়া এনে দিয়েছে শহরের উন্নয়ন ও লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প। সেই ছবি ধরা পড়েছে গতকালই হাওড়া শহরে হয়ে যাওয়া বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) পদযাত্রায়। মমতার সেই পদযাত্রা জনসুনামিতে ভেসে যায়। মধ্য হাওড়ার ইছাপুর জলের ট্যাঙ্ক মোড় থেকে শুরু হয়ে কদমতলা পাওয়ার হাউস, পঞ্চাননতলা রোড, জি টি রোড, ডবসন রোড, ডঃ অবনি দত্ত রোড হয়ে সেই পদযাত্রা শেষ হয় উত্তর হাওড়ার সালকিয়া চৌরাস্তায়। সেই পদযাত্রায় জনসুনামি দেখে অনেকেই মনে করতে পারছেন না মমতা ভিন্ন আর কোন নেতানেত্রীকে ঘিরে এহেন জনসুনামি শেষ কবে দেখেছে হাওড়া শহর। প্রসূণের সমর্থনে সেই পদযাত্রার ছবিই কার্যত বলে দিয়েছে, ৪ জুন সুখবর আসাটা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা মাত্র। মানুষের বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা সেই মিছিলে ধরা পড়েছে পদে পদে যা বলে দিয়েছে প্রসূণের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।

মমতার সঙ্গে গতকাল পদযাত্রায় হেঁটেছেন হাজার হাজার মানুষ। তার চেয়েও বেশি মানুষ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে। মিছিলে জনপ্লাবন এবং মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে আপ্লুত হাওড়ার তৃণমূল নেতাকর্মীরা। মমতার পদযাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গতকাল রাস্তার দু’ধারে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। ভিড়ের একটা বড় অংশ ছিলেন মহিলারা। নির্ধারিত পথে মিছিল যত এগিয়েছে, ততই দীর্ঘতর হয়েছে মিছিল। বাড়ির ছাদ থেকে বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বহু মানুষ হাত নেড়ে, কেউ ফুল ছুড়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। কোথাও কোথাও দেখা গিয়েছে, বয়সের ভারে জবুথবু বৃদ্ধও ছুটে এসেছেন মমতাকে দেখবেন বলে। চেয়ারে বসে বা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে  অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে বহু প্রবীণ মানুষকে। পদযাত্রার মধ্যেই অনেকবার রাস্তার ধারে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। আর এই ছবিই বলে দেয় ‘গদ্দার’ ‘হেরো’ রথীনকে আরও একবার হারিয়ে প্রসূণের দিল্লিযাত্রা নিশ্চিত করতে শুধু ২০ মে’র অপেক্ষায় রয়েছে গঙ্গাপাড়ের শহর হাওড়া।

আজকের রাশিফল: কাছের বন্ধুদের থেকে ধোঁকা খাওয়ার সম্ভাবনা, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ

বাংলাতেও ভোট চুরি হয়েছে, মমতাকে ফোনে জানালেন রাহুল গান্ধী

পাঁচ বছরের জন্য বাংলায় বিশেষ দায়িত্বে ‘সিংহম’ অজয় পাল শর্মা!

বিজেপি নয়, বামেদের প্রাপ্ত ভোটই টালিগঞ্জে অরূপের হারের মূল ফ্যাক্টর!

গেরুয়া ঝড়ে কুপোকাত রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রীরা, গড় ধরে রাখতে ব্যর্থ সুজিত-অরূপরা

ঝাড়গ্রামের ৪ আসনেই বিজেপির জয়, তৃণমূলের ঝুলিতে শূন্য

ঘরের মাঠে জ্বলে উঠলেন রোহিত, ৬ উইকেটে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারাল মুম্বই

৯ মে ব্রিগেডের মাঠে খোলা আকাশের নিচে শপথ নেবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী

D০ Or Die ম্যাচে মুম্বইকে বড় রানের টার্গেট দিল লখনউ সুপার জায়ান্টস

নন্দীগ্রামের পরে ভবানীপুরেও শুভেন্দুর কাছে হারলেন মমতা

‘পদ্ম ফুটেছে’, বঙ্গ জয়ের জন্য বিজেপি কর্মীদের শুভেচ্ছা মোদির

ফুটল না ‘জোড়া ফুল’, নন্দীগ্রাম থাকল শুভেন্দুরই হাতে

মহীরূহ পতন, নিজের গড়েই হেরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন

সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে মমতা-শুভেন্দু, দু’জনের ফোন নিয়ে নেওয়ার নির্দেশ কমিশনের