রাজসভায় বাঈজীর গান শুনে কেঁদে ফেলেছিলেন স্বামীজী – জানুন অজানা কাহিনী 

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সমাজে বরাবরই বাঈজীদের নিচু নজরে দেখা হয়। সে আজ হোক বা একশো-দু’শো বছর আগে। বিশেষত তা উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের লেখালেখি থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়। জানা যায়, তৎকালীন কলকাতার বিরাট নামি জ্ঞানী গুণীদের নামও বিভিন্ন বাঈজী ও পতিতাপল্লীর সাথে যুক্ত ছিল। দ্বারকানাথ থেকে শুরু করে অবনীন্দ্রনাথ, রাজা নবকৃষ্ণ দেব সকলেই খুব বাঈজী গান ভালোবাসতেন। তবে, বাঈজী প্রসঙ্গে এক বিরল নজির পাওয়া যায় বিশ্ববরেণ্য সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের জীবনে।

জানা যায়, বিবেকানন্দ তখন গিয়েছিলেন খেতড়ীর রাজা অজিত সিংয়ের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে। সালটা সম্ভবত ১৮৯১। খেতড়ী রাজসভায় ইতোমধ্যে মজলিশ বসে গেছে। শেষ অনুষ্ঠান বাঈগান। গান গাইতে এসেছেন তৎকালীন খেতড়ীর স্বনামধন্য বাঈজী ময়নাবাঈ, যাঁর গান শুনেই রাজপুতানার রাজা-মহারাজারা মুগ্ধ হতেন। স্বামীজি প্রথমে শুনতে চাননি, উঠে চলে যাচ্ছিলেন। সন্ন্যাসী হয়ে বাঈজীর গান শুনবেন কেন? যেই উঠে চলে যাচ্ছিলেন, বাঈজী তৎক্ষণাৎ তার আবেগী কণ্ঠে হৃদয় নাড়া দেওয়া সুরদাসের সেই ভজনটি ধরেছিলেন। গানটি ভৈরবী ঠুংরীতে লেখা।

প্রভু মেরে অবগুণ চিত ন ধরো।

সমদরশী হৈ নাম তিহারো, চাহে তো পার করো॥

ইক লোহা পূজা মে রাখত, ইক রহত ব্যাধ-ঘর পরো,

পারশ কে মন দ্বিধা নাহী হ্যায়, দুহঁ এক কাঞ্চন করো॥

ইক নদিয়া ইক নার কহাবত মৈলো নীর ভরো;

জব্ মিলি দোনো এক বরণ ভয়ে সুর সুরি নাম পরো॥

ইক জীব ইক ব্রহ্ম কহাবত সুরদাস ঝগরো,

অজ্ঞানোসে ভেদ হোবে, জ্ঞানী কাহে ভেদ করো॥

গান শুনে স্বামীজি আবার ফিরে এসেছিলেন আসরে ও সারারাত গান শুনেছিলেন। জানা যায়, এই গানটি স্বামীজির প্রিয় গানগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল। সেদিন ময়নাবাঈয়ের কণ্ঠে সেই ভজন শুনে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। তবে সেদিনের পর থেকে সেই বাঈজীর কি হয়েছিল,  সেই খবর কেউই জানেনা। এমনকী সেই রাতের পর ময়নাবাঈকে কেউ আর গান গাইতেও দেখেননি। কোথায় গেলেন ময়নাবাঈ? বহুবছর পর রামকৃষ্ণ মিশনেরই একজন সন্ন্যাসী খুঁজে খুঁজে বের করলেন সেই বাঈজীকে। সেই সন্ন্যাসী নিছক কৌতূহলের বশে খুঁজতে খুঁজতে রাজস্থানের একটি ছোট্ট গ্রামে সেই বাঈজীর সন্ধান পেলেন। তিনি তখন খুবই বৃদ্ধা। সন্ন্যাসী দেখলেন একটি ছোট্ট কুটীরের ঠাকুরঘরে গোপালের বিগ্রহের সাথে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি নিত্য পূজো করেন ও সেই ছবির সামনে বসে তন্ময় হয়ে গান করেন।

স্বামী পূর্ণাত্মানন্দের এক লেখা থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে জানা গিয়েছে, সেই সন্ন্যাসী বৃদ্ধা ময়নাবাঈকে সেই রাত্রির পরে আসরে গান না গাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বাঈজী জানিয়েছিলেন, সেদিন দেবতাকে গান শুনিয়ে তার জীবন ধন্য হয়েছিল। সেদিন থেকেই তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার করেছিলেন, যে তিনি আর কখনও মানুষের বিনোদনের জন্য গান গাইবেন না। তিনি শুধুমাত্র গাইবেন তার দেবতার জন্য। তাঁর ‘দেবতা’ হলেন স্বামী বিবেকানন্দ আর গিরিধর গোপাল। ময়না বলেছিলেন, তিনি তার বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন তার দেবতার সেবায়, দেবতাকে গান শুনিয়ে।

আমেরিকার হামলার পাল্টা জবাব দিল ইরান, মাশুল গুনছে কুয়েত-বাহারাইন

লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না, বহরমপুর থেকে গ্রেফতার শওকত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা

জনগণের স্বার্থে পাম্প থেকে ডিজেল বিক্রির উপর নিয়ন্ত্রণ তুলে নিল রাজ্য

শিয়ালদহ ফ্লাইওভার ও সুকান্ত সেতুতে ঝুলল নোটিস, ৭ দিনের মধ্যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা

জর্ডনের বিরুদ্ধে গোল করে বিশ্বরেকর্ড করলেন মেসি

জর্ডনকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা, নকআউটে মেসিদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই অ্যাকশনে পুলিশ, বাগনানে বিজেপি কর্মী খুনে গ্রেফতার আরও ১

উত্তরবঙ্গে বড় দুর্যোগের আশঙ্কা! বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণে

করাচিতে আধা সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ৪, খতম ছয় জঙ্গিও

বিয়েতে ১০০’র বেশি অতিথি হলে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করের প্রস্তাব বাংলাদেশ সংসদে

‘স্যাটা ভাঙা মার’ মন্তব্যের জন্য হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

নতুন টিভি কিনছেন? জেনে নিন সঠিক সাইজ নির্বাচনের সহজ পদ্ধতি

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় উরুগুয়ের, ‘শাস্তি’ হিসেবে ফুটবলারদের চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল

১০ হাজার টাকায় নতুন স্মার্টফোন কিনতে চাইছেন? রইল হদিশ