লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গিয়েছে এই সতীপীঠ, এখানে ভ্রামরী রূপে পুজো পান দেবী কালিকা

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: একবার স্বর্গে যজ্ঞের আয়োজন করলেন দক্ষ প্রজাপতি। নিমন্ত্রণ করলেন স্বর্গের সকল দেবতাদের। শুধু নিমন্ত্রণ পেলেন না দেবাদিদেব মহাদেব। তিনি সকল দেবতাদের প্রধান, পাশাপাশি দক্ষরাজের জামাই- কিন্তু তাঁরই নিমন্ত্রণ নেই। আসলে কন্যা সতী বিয়ে করেছিলেন শ্মশানচারীকে, এ মানতে পারেননি প্রজাপতি দক্ষ। এদিকে বাবা যজ্ঞ করছেন সেই খবর কন্যা সতীর কাছেও পৌঁছালো। তিনি তৎক্ষণাৎ গেলেন যজ্ঞস্থলে। জিজ্ঞাসা করলেন পিতার এমন ব্যবহারের কারণ কি? তখন দক্ষরাজ মহাদেবের নামে শুরু করলেন একের পর এক নিন্দা।

পতিনিন্দা সহ্য করতে না পেরে যজ্ঞস্থলেই প্রাণ বিসর্জন দেন সতী। স্ত্রীর মৃত্যুতে ক্রোধে অন্ধ হয়ে দেবাদিদেব শুরু করলেন প্রলয় নৃত্য। সতীকে কাঁধে নিয়ে রুদ্র রূপ ধারণ করলেন তিনি। তাঁর প্রলয় নাচনে সৃষ্টি প্রায় ধ্বংস হওয়ার সম্মুখীন হয়। বাধ্য হয়ে দেবতারা শরণাপন্ন হন শ্রী বিষ্ণুর। তখন বিষ্ণু নিজের সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহকে খন্ড খন্ড করলেন।  মনে করা হয় পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে সতীর দেহ খন্ড ছড়িয়ে পড়েছিল। যেখানে যেখানে দেহখন্ড ছড়িয়ে পড়ে সেই সকল স্থানে গড়ে ওঠে এক একটি পীঠ। ধূপগুড়ির শালবাড়িতে এমনই একটি পীঠ রয়েছে বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। তারা মনে করেন এখানে দেবী ভ্রামরীর মন্দির রয়েছে যা সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম। নদীর নির্জন তীরে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে ভ্রামরী মন্দির। কালী পুজোর সময় এখানে প্রচুর জনসমাগম হয়। 

স্থানীয় মানুষের মনে বিশ্বাস, সতীর বাঁ পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলী এই মন্দিরে পতিত হয়েছিল। সেই কারণেই এটি একটি সতী পীঠ হিসাবে গণিত হয়। বহু মানুষের মুখে শোনা যায় দেবী কালিকার বিশেষ বিশেষ পুজোর তিথিতে দেবী ভ্রামরী স্বয়ং এখানে আসেন, তিনি মন্দিরে ঘুরে বেড়ান। তাঁর নুপুরের শব্দ শুনতে পাওয়া যায় মন্দির চত্বরে। সেই নুপুরের নিক্কণ ধ্বনি একবার শোনার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে আসেন এই মন্দিরে। বেশ কিছু হিন্দু ধর্মগ্রন্থে এই মন্দিরটির বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। তবে কে কবে এর প্রতিষ্ঠা করেছিল সে সব কিছুই জানা যায় না। এলাকার বৃদ্ধ মানুষ যারা রয়েছেন তাঁরা তাঁদের পূর্বপুরুষের মুখে শুনেছেন, একসময় এই এলাকা ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল।

শ্বাপদ-সংকুল এই এলাকা দিয়ে চলাচল করত না কোনও মানুষ। সেই সময় এক সাধক এখানে সাধনা করতে আসেন। তিনি ছিলেন দেবী ভ্রামরীর উপাসক। ধীরে ধীরে তার জন্যই এই পীঠের নাম লোকসমক্ষে আসে। প্রতি বছর এখানে নিয়ম মেনে কালী পুজো করা হয়। ভক্তদের জন্য নানা রকম ব্যবস্থা রয়েছে। বসার ব্যবস্থা, জলের ব্যবস্থা করে দেওয়া আছে। মন্দিরে চণ্ডীপাঠ করা হয়, খিচুড়ি বিতরণ হয়। তবে আলাদা করে কারও কাছ থেকে কোনও চাঁদা নেওয়া হয় না। ভক্তরা যে যতটুকু এখানে দান করেন তাই দিয়েই পূজার্চনা হয়। বহু মানুষের দাবি শুধুমাত্র প্রচারের আড়ালে থাকার জন্যই ভ্রামরী দেবী কালীঘাট কামাক্ষ্যার মতো বিখ্যাত হতে পারেনি, অথচ এই মন্দির কোনও অংশে কম নয় অন্যান্য সকল পীঠের থেকে।

আজকের রাশিফল: কাউকে টাকা ধার দেওয়ার আগে সাবধান থাকবেন কারা?

পঞ্জাবকে হারিয়ে আইএসএলে জয়ের হ্যাটট্রিক মোহনবাগানের

কলার খোসা ফেলে না দিয়ে বাড়িতেই বানান প্রাকৃতিক হেয়ার টনিক

রাশি বদল দেবগুরু বৃহস্পতির, জানুয়ারি পর্যন্ত টাকার জোয়ারে ভাসবে ৩ রাশি

গর্ভস্থ ভ্রুণ কন্যা জানতে পেরে জোর করে গর্ভপাত, বেঘোরে প্রাণ গেল গৃহবধূর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষতা পদক পেলেন রাজ্যের আট পুলিশ আধিকারিক

অস্ট্রেলিয়াকে দুরমুশ করে ১১ বছর পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা

নিরামিষের বদলে চিকেন বিরিয়ানি! এয়ারপোর্টে হুলস্থূল কাণ্ড

বাড়িতে মধুচক্র-মাদকের আসর বসানোর দায়ে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি

টেস্টে নয়া মাইলফলক স্পর্শ কাগিসো রাবাদার, দ্রুততম ৩৫০ উইকেটের মালিক

‘জ্ঞানেশ কুমার ‘গদ্দার’, পদ ছাড়তেই হবে’, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তোপ খাড়গের

ইনস্টাগ্রাম আইডি চেয়ে না পেয়ে মাঝরাস্তায় শিক্ষিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গ্রেফতার দুই

CAA-তে আবেদনে আর লাগবে না বাংলাদেশি প্রমাণপত্র! বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে প্রথম টেস্টে ধরাশায়ী টাইগাররা, চার দিনেই শেষ খেলা