লালপার্টির একঝাঁক নেতারা দলবদলের পথে হাঁটেন, প্রতীকে দোষ কেন?‌ দেখুন দীর্ঘ তালিকা

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতীক উর রহমান সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। আর তাতেই লালপার্টির নেতারা তাঁকে বিশ্বাসঘাতক, দলবদলু, অধঃপতন হওয়া নেতা থেকে ধান্দাবাজ বলে গাল পাড়ছেন। কিন্তু বামপন্থী নেতাদের মধ্যে কি এই প্রথম কেউ দল ছাড়লেন?‌ উত্তর, না। তাহলে প্রতীক উর রহমানকে গালিগালাজ করা হচ্ছে কেন?‌ তাঁকে ছোট করে দেখানো হচ্ছে কেন?‌ এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ প্রতীক উর রহমান সরাসরি রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সংখ্যালঘু তরুণ মুখ সিপিএম ত্যাগ করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় বাড়তি ফায়দা পাবে ঘাসফুল শিবির। তাই প্রতীক উর রহমানকে আক্রমণ করে চলেছেন সিপিএমের নেতারা। ‌কিন্তু সিপিএম–সহ বামফ্রন্টের দলবদলু হেভিওয়েট নেতাদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। ফিরে দেখা যাক বিগত দলবদলুদের তালিকা।

এদিকে ১৯৭১ সালে মালদহ লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী উমা রায়কে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন দীনেশচন্দ্র জোয়ারদার। তারপর ১৯৭৭ সালে দীনেশচন্দ্র ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রণব মুখোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। তবে পরে যোগ দেন বিজেপিতে। এবার এই জেলার আর এক নেতা খগেন মুর্মু। যিনি ২০০১ সালে সিপিএমের টিকিটে হাবিবপুর কেন্দ্রে জয়ী হন। রাজ্যে ২০১১ সালে পালাবদল ঘটলেও খগেন ছিলেন অপরাজিত। আর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম ছেড়ে বিজেপি যোগ দেন। বিজেপির টিকিটে জয়ীও হন।

অন্যদিকে বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটতেই ২০১১ এবং ২০১৬ সালে পর পর দু’‌বার সিপিএমের হয়ে নবগ্রাম থেকে নির্বাচিত হন কানাইচন্দ্র মণ্ডল। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। রফিকুল ইসলাম মণ্ডল ২০১৬ সালে বসিরহাট উত্তর থেকে সিপিএমের বিধায়ক নির্বাচিত হন। আর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হন। এখানেই শেষ নয়, অশোক কুমার দিন্দা সিপিআই থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ময়না বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন। তাপসী মণ্ডল ২০১৬ সালে হলদিয়া থেকে সিপিএমের টিকিটে বিধায়ক হন। পরে ২০১৮ সালে যোগ দেন বিজেপিতে। আর এখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এমন নজির আরও আছে।

এছাড়া ধীরেন্দ্রনাথ লায়েক ছাতনা বিধানসভা কেন্দ্রের আরএসপি বিধায়ক ছিলেন। ২০২১ সালে দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। দীপালি বিশ্বাস ছিলেন গাজলের বাম বিধায়ক। সিপিএম থেকে তৃণমূল যোগ দেন এবং পরে বিজেপিতে চলে যান। ২০১৬ সালে দেবেন্দ্রনাথ রায় হেমতাবাদ থেকে সিপিএমের টিকিটে বিধায়ক হয়েও পরে বিজেপি যোগ দেন। ১৯৯১ সালে ফরোয়ার্ড ব্লকের টিকিটে মেখলিগঞ্জ বিধানসভা থেকে বিধায়ক হন পরেশনাথ অধিকারী। বাম আমলে খাদ্য দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। পরে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভায় প্রার্থী হয়ে হেরে যান। তবে আবার বিধানসভায় প্রার্থী হয়ে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন। রাধিকারঞ্জন প্রামাণিক বারবার মথুরাপুর থেকে জিতে সংসদে গিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে মগরাহাট পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র থেকেজয়ী হন।

আবার আবু আয়েশ মণ্ডল মন্তেশ্বর বিধানসভায় ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সিপিএম বিধায়ক ছিলেন। তবে ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে সাংসদ হন তিনি। আর ২০০৯ সালে সিপিএম তাঁকে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার করে। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। জ্যোতির্ময়ী শিকদার শুরুতে সিপিএমের টিকিটে কৃষ্ণনগর থেকে জয়লাভ করে সাংসদ হয়েছিলেন। পরে তৃণমূলে এবং এখন বিজেপিতে আছেন। ব্রতীন সেনগুপ্ত সিপিএম রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। পরে বিজেপিতে যোগ দেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন। দল তাঁকে বহিষ্কার করলে তৃণমূলে যোগ দেন। সিপিআই নেতা ওমর আলি টানা ৬ বার পাঁশকুড়া পশ্চিম থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে সিপিএমে যোগ দেন। নন্দনপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক হন। কিন্তু ২০১১ সালে দল বদলে তৃণমূলের টিকিটে পাঁশকুড়া পশ্চিম থেকে বিধায়ক হন। ২০১৯ সালে বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ সিপিএম ছেড়ে বিজেপি যোগ দেন।

তালিকা আরও দীর্ঘ। ১৯৮২–২০০৬ দীর্ঘ সময় ধরে দেগঙ্গা কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন ফরোয়ার্ড ব্লকের ডা. মোর্তজা হোসেন। রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন। পরে তৃণমূলে যোগ দেন। দশরথ তিরকে ফরোয়ার্ড ব্লক থেকে কুমারগ্রাম বিধানসভায় তিনবারের বিধায়ক হন। তারপর আলিপুরদুয়ার থেকে সংসদে যান। পরে তৃণমূলে যোগ দেন। মাহফুজা খাতুন ২০০১ এবং ২০০৬ দু’‌বার কুমারগঞ্জ থেকে সিপিএমের টিকিটে বিধায়ক হন। ২০১৯ সালে তিনি জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। ড. আবদুস সাত্তার বামফ্রন্টের মন্ত্রী ছিলেন। পরে বামফ্রন্ট থেকে কংগ্রেস এবং এখন তিনি তৃণমূলে রয়েছেন।

তাছাড়া ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন মইনুল হাসান। কিন্তু ২০১৮ সালে তৃণমূলে যোগ দেন মইনুল সাহেব। বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা ১৯৭৭–২০১১ সাল পর্যন্ত ক্যানিং পূর্ব থেকে সিপিএমের বিধায়ক ছিলেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে আবার জয়ী হন। নবীনচন্দ্র বাগ খণ্ডঘোষের সিপিএম বিধায়ক ছিলেন। পরে তৃণমূল যোগ দেন। অঙ্গদ বাউড়ি বাঁকুড়ার গঙ্গাজল ঘাঁটির তিনবারের সিপিএম বিধায়ক ছিলেন। তবে কালের গতিতে বিজেপি যোগ দেন। সুনীল মণ্ডল দু’‌বার বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএমের টিকিটে সাংসদ হয়েছিলেন। পরে বিজেপির প্রার্থী হয়ে ২০১১ থেকে ২০১৪ সালে গলসির বিধায়ক নির্বাচিত হন। আর তৃণমূলে যোগ দেন।

মাসের শেষে পকেট খালি? জানুন টাকা জমানোর দুর্দান্ত টিপস

এই বছর শ্রাবণ মাসে কয়টি সোমবার পড়বে? ভগবান শিবকে জল নিবেদনের পদ্ধতি জানুন

আজকের রাশিফল: আর্থিক উন্নতি, কর্মক্ষেত্রে তর্কে জড়াবেন না, বড় বিপদে পড়বেন

শ্রীরামপুরে ‘অত্যাচারিত’ তৃণমূল কাউন্সিরের বিরুদ্ধে পুরসভার গেটে বিক্ষোভ বাসিন্দাদের

মাছের ভেড়িতে লুটে বাধা, বসিরহাটে ১৫ বছরের পড়ুয়াকে এলোপাথাড়ি কোপ

‘আলবিদা সলিম কুমার’, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য মালায়ালি অভিনেতার

চুক্তি শেষ, মেট্রোপলিটনের ‘তৃণমূল ভবন’ খালি না হওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ বাড়ির মালিক

কবে রাজনীতি ছাড়বেন জানিয়ে দিলেন পদকজয়ী কুস্তিগির বিনেশ ফোগাট

শনিবার পর্যন্ত কত লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে গেল ৩ হাজার টাকা? জানালেন শুভেন্দু

যুদ্ধের দামামা, ভারত সীমান্তে আচমকা ৬০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন তারেক সরকারের

বিজেপি বিরোধিতার পথ থেকে সরছে সিপিআইএম, ‘ইন্ডিয়া’ জোট ছাড়ছে বেবির দল

বেহালার রায় বাহাদুর রোডের পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার কলকাতা পুরসভার লক্ষ লক্ষ বালতি

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল

তারাতলায় গাছ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত, উদ্ধার কাজে পুলিশ ও পুরকর্মীরা