এই মুহূর্তে

যশোরে ভর সন্ধেয় ইসলামি জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হিন্দু ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাকিস্তানি ভৃত্য মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় হিন্দুদের বধ্যভূমি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এবার দেশ ছাড়তে রাজি না হওয়ায় ইসলামি জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারালেন এক হিন্দু ব্যবসায়ী। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কাপালিয়া বাজারে। নিহত হিন্দু ব্যবসায়ীর নাম রানা প্রতাপ বৈরাগী। যিনি বরফ কলের মালিক ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে ওই ঘটনা ঘটলেও কেউ সন্ত্রাসীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করেননি। প্রতাপকে খুন করে চলে যাওয়ার সময়ে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়েছে, বাংলাদেশে থাকা প্রত্যেক হিন্দুর একই দশা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই মহম্মদের বাংলাদেশি প্রধান তথা কুখ্যাত ইসলামি জঙ্গি শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পরেই কাপালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী প্রতাপ বৈরাগীকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার ফতোয়া দেয় জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসীরা। যদিও সেই হুমকিতে কর্ণপাত করেননি প্রতাপ। এদিন কাপালিয়া বাজারে নিজের বরফ কলের ভিতরেই বসেছিলেন তিনি। সন্ধে পৌনে ছয়টা নাগাদ একটি মোটরসাইকেলে চেপে তিন সন্ত্রাসী বরফ কলের সামনে আসে। এর পর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতাপের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পর পর তিনটি গুলি করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রতাপের। হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করার পরে বরফ কলের ক্যাশবাক্সে থাকা কয়েক হাজার টাকাও নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। আততায়ীরা চলে যাওয়ার পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মণিপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এমদাদুল হক ও মণিরামপুর থানার ওসি রাজিউল্লাহ খান। মৃতদেহ উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে মণিরামপুর থানার ওসি রাজিউল্লাহ খান জানিয়েছেন, ‘নিহত প্রতাপের মাথার কাছ থেকে তিনটি তাজা গুলি ও চারটি গুলির খোসা উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষেই বলা যাবে কী কারণে, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে হিন্দু নিধন যজ্ঞ শুরু হয়েছে। পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই মহম্মদের বাংলাদেশ শাখা ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পরেই হিন্দুদের নিশানা করে চলেছে ইসলামি জঙ্গিরা। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অপবাদে স্থানীয এক পোশাক কারখানার কর্মী দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে মেরে ফেলে ইসলামি জঙ্গিরা। তার পরে তাঁর নিথর দেহ উলঙ্গ করে গাছে বেঁধে ফের পেটানো হয়। শেষে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনা ঘটে পুলিশের চোখের সামনে। ওই নৃশংস ঘটনার কথা জানাজানি হতে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। এর পরে গত ২৫ ডিসেম্বর চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে পাংশার হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে মারা হয়। কয়েক দিন আগে এক হিন্দু আনসার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে তারই এক সহকর্মী। এর পরে গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর)শরীয়তপুরে খোকন দাস নামে ৫৫ বছর বয়সী এক হিন্দু চিকি‍ৎসক তথা ব্যবসায়ীকে মারধর করার পরে গায়ে পেট্রল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা চালায় ইসলামি জঙ্গিরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। গত শনিবার তিনি মারা যান।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাংলাদেশে চোর সন্দেহে হিন্দু যুবককে ধাওয়া, প্রাণ বাঁচতে খালের জলে ঝাঁপ দিতেই মৃত্যু

সেভেন সিস্টার্সকে আলাদা করার হুমকি দেওয়া ইসলামি জঙ্গির সঙ্গে তারেকের বৈঠক

এরশাদের পার্টিকে ভোটে লড়তে দেওয়া যাবে না, নতুন আবদার ইসলামি জঙ্গিদের

মুখে মারিতং জগ‍ৎ! ‘দুশমন’ ভারত থেকে ১.৮০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কিনছে ইউনূস সরকার

মোল্লা ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে হিন্দু নিধন যজ্ঞ, ৩৫ দিনে খুন ১১ জন

ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গে টক্কর দিতে পাকিস্তান থেকে JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ