এই মুহূর্তে

‘মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলাম না’, ৫৩ বছর বাদে ডিগবাজি জামায়াত ইসলামীর আমীরের  

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ‘আজি এ কী কথা শুনি, মন্থরার মুখে!’ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনার দোসর ছিল জামায়াত ‌ইসলামী তা সর্বজনবিদিত। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘আল শামস’, ‘আল-বদর’, ‘রাজাকার’ –এর মতো ভাড়াটে খুনি ও ধর্ষক বাহিনী গড়ে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের উপরে নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছিল জামায়াত ইসলামীর সন্ত্রাসীরা। যুদ্ধাপরাধের দায় শেখ হাসিনা জমানায় ফাঁসিও হয়েছিল গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আবদুল কাদের মোল্লার মতো জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের। অথচ স্বাধীনতার ৫৩ বছর বাদে ডিগবাজি খেয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কথা অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর শীর্ষ নেতা তথা আমীর শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না জামায়াত ইসলামী। শুধু ভারতের সহযোগিতায় স্বাধীনতা পেলে কতটা সুফল পাওয়া যাবে, তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন দলের নেতারা।’ জামায়াত আমীরের এমন ডিগবাজি নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছেন নেটা নাগরিকরা। অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

জামায়াত ইসলামী বরাবরই কট্টর ধর্মান্ধ দল হিসাবে পরিচিত। স্বাধীন বাংলাদেশে গত ৫৩ বছর ধরে হিন্দুদের উপরে চলা নির্যাতনের নেতৃত্বদানকারী। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানকে ভেঙে দু’টুকরো করার জন্য ভারতে নাশকতামূলক কাজকর্মও চালিয়ে চালানোর অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ৫ অগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বিড়াল তপস্বী সাজার চেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর শীর্ষ নেতা তথা আমীর শফিকুর রহমান। হিন্দুপ্রেমী সাজার চেষ্টাও চলছে।

এবার মুক্তিযুদ্ধের সময় দলের বিতর্কিত ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টায় কোমর কষে ঝাঁপিয়েছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতা। কুখ্যাত ব্যবসায়ী এ কে আজাদের মালিকানাধীন বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষা‍ৎকারে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক খান সেনাদের দোসর হয়ে আবির্ভূত হওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, ‘আমারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিলাম না। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, ভারতের সহযোগিতায় যদি দেশ স্বাধীন হয় তাহলে স্বাধীনতার সুফল পাওয়া যাবে না। এরপরেও এটা সঠিক যে- জামায়াত চেয়েছিল এক পাকিস্তান। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তাদের নিপীড়ন, নির্যাতন, খুন এবং বিভিন্ন ধরণের অপকর্মের কারণে সারা জাতি ফুসে উঠেছিল, মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশকে আমরা আমাদের প্রাণ (কলিজা) দিয়ে ভালবেসে স্বীকার (কবুল) করে নিয়েছি।’ মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকা বিচার করার ভার অবশ্য নব্য ‘বাঙ্গিস্তানের’ বাসিন্দাদের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দলকে মুছে দিতে আদা-জল খেয়ে নেমেছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। যদিও বিএনপি ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিরোধিতা করেছে। শেখ হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতের আমীর। তাঁর কথায়, ‘নিষিদ্ধের রাজনীতি আমাদের সমর্থনের বিষয় না। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়। অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা, সেটি জনগণই ঠিক করবে। যদিও আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় যায় তখন তাদের নিষিদ্ধের ঘোর পেয়ে বসে।’

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

ভয় দেখিয়ে তিন ছাত্রকে ধর্ষণ, গ্রেফতার নরপিশাচ মাদ্রাসা শিক্ষক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ