মা দুর্গার পুজোতেই ব্রাত্য উমারা, জানেন কোন রাজবাড়িতে রয়েছে এমন অদ্ভুত রীতি?

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। তারপরই দেবীপক্ষের শুভ সূচনা, চারদিকে বেজে উঠবে ঢাকের বাদ্যি। শরতের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সারি সারি পেঁজা তুলোর মতো মেঘ। কাশফুলের দোল, শিউলির গন্ধ আর পুজোর নতুন জামাকাপড়ের গন্ধে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে বাংলার চেনা ছবি। শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গাতেই এখন মা দুর্গার আগমনের প্রস্তুতি তুঙ্গে।

কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোর কথা তো অনেকেই জানেন। কিন্তু বাংলার আনাচে-কানাচে এমন বহু প্রাচীন পুজো রয়েছে, যার রীতি-নীতি আজও বেশ অবাক করে। তেমনই এক পুজো হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের নাড়াজোল রাজবাড়িতে। কয়েকশো বছরের পুরনো এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক আশ্চর্য ইতিহাস। আর সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো বিষয়, মা দুর্গার পুজোতেই যেন ব্রাত্য উমারা। কারণ, এই রাজবাড়ির পুজোয় পরিবারের মহিলারা মায়ের অঞ্জলি দিতে পারেন না। দেবীর প্রসাদ কিংবা বেলপাতাও তাঁরা গ্রহণ করেন না। তবে পুজোর বিভিন্ন প্রস্তুতিতে তাঁদের অংশগ্রহণ থাকে। বিজয়ার দিন আবার সিঁদুর খেলাতেও অংশ নেন তাঁরা। 

 

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই পুজো?

নাড়াজোল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস কয়েকশো বছরের পুরনো। পরিবারে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, বাংলা ৮২০ সালে এই পুজোর সূচনা। সেই সময় বর্ধমান রাজার অধীনে কর্মরত ছিলেন উদয়নারায়ন ঘোষ। শিকারের উদ্দেশ্যে তিনি মেদিনীপুরের জঙ্গল এলাকায় এসেছিলেন। সেই জঙ্গলে একটি অস্বাভাবিক দৃশ্য তাঁর নজরে পড়ে। পরে সন্ধ্যা নেমে আসায় সেখানেই রাত কাটান তিনি। রাজপরিবারের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সেই রাতে স্বপ্নে দেবী দুর্গার দর্শন পান উদয়নারায়ন। দেবী তাঁকে জঙ্গলের মধ্যে থাকা তাঁর একটি অষ্টধাতুর মূর্তির কথা জানান এবং সেই মূর্তি উদ্ধার করে পুজো শুরু করার নির্দেশ দেন।

পরদিন জঙ্গলে খোঁজ চালিয়ে সেই অষ্টধাতুর মূর্তি উদ্ধার করা হয় বলে পারিবারিক কাহিনিতে রয়েছে। এরপর জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে বসতি গড়ে ওঠে। শুরু হয় দেবীর আরাধনা। সেই থেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নাড়াজোল রাজবাড়িতে চলে আসছে দুর্গাপুজো।

কেন এত বছর ধরে চলে আসছে এমন অদ্ভুত নিয়ম?

নাড়াজোলের পুজোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হল এর পুরনো রীতিনীতিগুলি। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, রাজপরিবারের সামাজিক অবস্থানও বদলেছে। কিন্তু পুজোর বহু নিয়ম এখনও একইভাবে মেনে চলা হয়। রাজপরিবারের বিশ্বাস, পুজোর শুরু থেকেই মহিলাদের সরাসরি পুজোয় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ ছিল। পরবর্তী প্রজন্মও সেই রীতি মেনে এসেছে। অর্থাৎ, কোনও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নয় এটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক প্রথা। তবে এই নিষেধাজ্ঞার পিছনে নির্দিষ্ট কোনও ঐতিহাসিক কারণ বা ঘটনার কথা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তাই এর পিছনে নানা লোকবিশ্বাস থাকলেও সেগুলিকে ইতিহাসের নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বলা যায়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা পারিবারিক রীতিই আজ এই নিষেধের মূল ভিত্তি।

 

আরও পড়ুনঃ

কেন মহিলারা মায়ের অঞ্জলি দিতে পারেন না?

এটাই নাড়াজোল রাজবাড়ির পুজোর সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন। যে দেবীকে হিন্দু ধর্মে নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, তাঁর পুজোয় রাজপরিবারের মহিলারাই সরাসরি অঞ্জলি দিতে পারেন না। পুজোর সময় তাঁরা মায়ের সামনে অঞ্জলি দেন না। দেবীর প্রসাদ বা বেলপাতাও গ্রহণ করেন না। তবে এর অর্থ এই নয় যে পুজোর সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। পুজোর বিভিন্ন প্রস্তুতিতে পরিবারের মহিলাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। আর দশমীর দিন দেবীর বিদায়ের আগে সিঁদুর খেলাতেও তাঁরা অংশ নেন। 

শুধু মহিলাদের অঞ্জলি না দেওয়াই নয়, নাড়াজোলের পুজোর আরও বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখানে দেবী অষ্টধাতুর স্থায়ী মূর্তিতে পূজিত হন। প্রতি বছর সেই মূর্তি বিসর্জন দেওয়া হয় না। দশমীতে হয় ঘট নিরঞ্জন। দেবীর সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক বা গণেশের মূর্তিও থাকে না। বৈষ্ণব মতে পুজো হওয়ায় পশুবলির রীতিও নেই। ফলে নাড়াজোল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুধু একটি প্রাচীন পুজো নয়। এর প্রতিটি রীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কয়েকশো বছরের পারিবারিক বিশ্বাস ও ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায় হয়তো এটাই মা দুর্গার আরাধনায় যেখানে নারীশক্তির বন্দনা হয়, সেখানেই নাড়াজোল রাজবাড়ির উমারাই আজও অঞ্জলি থেকে দূরে।

ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক হলেন স্মৃতি মান্ধানা

চিনি ছাড়া বাড়িতে বানিয়ে ফেলুন চিঁড়ের লাড্ডু, খেলেই ম্যাজিক বুঝতে পারবেন

ভারতীয় স্পিনারদের ভেল্কিতে ১৭১ রানেই থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ডায়াবেটিস রয়েছে? নিশ্চিন্ত মনে খেতে পারেন চার ধরনের রুটি

দুর্গাপুজোতে শহরবাসীর জন্য বিশেষ চমক, রেস্তরাঁয় খাবার পরিবেশন করবে রোবট

ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, নামল দাঙ্গা পুলিশ, চলছে লাঠি-কাঁদানে গ্যাস

পুজোয় স্টল তৈরিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, অশান্তিতে জড়াল সিপিএম ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চ

পাকিস্তানে পঞ্জাব-সিন্ধু সহ চার প্রদেশ ভাগ নিয়ে শাহবাজের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে সেনাপ্রধান

স্বামী-মেয়ের অকালমৃত্যুতে জুটেছিল ‘ডাইনি’ অপবাদ, আমলা হয়ে জবাব রোহিণী গুর্জরের

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! আহত ১১ ভারতীয় নাবিক, উদ্বিগ্ন দিল্লি

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

অভিষেক Z+ পাওয়ার যোগ্য? রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের

মোদির পর ইডেনে মহালয়ার অনুষ্ঠানে থাকছেন না অমিত শাহ, মুখ্য অতিথি রাজ্যপাল

আইন মেনেই ব্যবসা করতে হবে, গ্যালিফ স্ট্রিটের ব্যবসায়ীদের কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের