দ্বিতীয় বিয়ের পণ বাগাতে প্রথম স্ত্রীকে গাড়ির চাকায় পিষে খুন পুলিশ কর্মীর

Published by:
https://www.eimuhurte.com/wp-content/uploads/2021/09/em-logo-globe.png

Srabanti Ghosh

17th October 2021 9:27 pm

নিজস্ব প্রতিনিধি: কার্যত দেশে খাতায় কলমে বাতিল করা হয়েছে তিন তালাক। এমনকি যদি কেউ সঙ্গীর অনিচ্ছায় তাঁকে তিন তালাকের মাধ্যমে ছেড়ে দিতে চায় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বেশ কয়েক বছর আগে এমনটাই জানানো হয়েছিল কেন্দ্রের তরফ থেকে। আর তাই প্রথমা স্ত্রীর হাত থেকে ‘মুক্তি’ পাওয়ার যখন সব রাস্তা বন্ধ, তখন তাঁকে গাড়ির চাকায় পিষে খুন করল হরিয়ানার পুলিশ সাব ইন্সপেক্টর। জানা গিয়েছে, মৃত ওই মহিলার নাম নাজমা। মৃত্যুর সময় তিনি পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যমুনানগর পুলিশের তরফ থেকে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর আফসার আলির প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অন্য জায়গায় বিবাহ স্থির হয়েছিল। সেই বিবাহের জন্য় ৫০ লক্ষ টাকা পণও ধার্য হয়েছিল। এত টাকার লোভ কোনওভাবেই সামলাতে পারেনি অভিযুক্ত ওই পুলিশকর্মী। আর তাই ঠান্ডা মাথায় তার প্রথম স্ত্রীকে খুন করার পরিকল্পনা করে সে।

যমুনানগর পড়ে স্টেশনের সুপারেন্টেন্ড কমলদেব গোয়েল এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই পুলিশ সাব- ইন্সপেক্টর আফসার আলি নিজেই তার স্ত্রীকে খুন করার পর দুর্ঘটনার গল্প ফাঁদে। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে ওই সাব ইন্সপেক্টর পুলিশকে জানায় গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে তার স্ত্রী নাজমার। কিন্তু কোনওভাবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তারা তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে দেখা যায় আফসার আলি নিজেই নিজের স্ত্রীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে।

জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে সাব-ইন্সপেক্টর আফসার আলির সঙ্গে নাজমার একপ্রকার জোর করেই বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের আগে নাজমার সঙ্গে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁর। কিন্তু তারপরেই হঠাৎ সে নাজমাকে বিয়ে করতে আপত্তি জানায়। শেষমেষ যখন নাজমার পরিবার আফসারের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকি দেন তখন বাধ্য হয়েই নাজমাকে বিয়ে করে ওই সাব-ইন্সপেক্টর। তার পরিকল্পনা ছিল বিয়ের কিছুদিন পরেই তিন তালাক দিয়ে সে নাজমাকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু ততদিনে নিষিদ্ধ হয়েছে তিন তালাক।

মৃত ওই মহিলার ভাই জানিয়েছেন, পণের জন্য প্রায় প্রত্যেক দিনই তাঁর বোনের উপর অত্যাচার চালাত অভিযুক্ত ওই অফিসার। ইতিমধ্যেই তাঁকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা পণ দিয়েছে নাজমার পরিবার। তার জন্য বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের বাবার ঘরবাড়ি। কিন্তু তারপরও আরও বেশি পণের আশায় সে দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে উদ্দত হয়। দ্বিতীয় বিয়ে করলে সে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা পণ পাবে জানতে পাড়ায় তৎক্ষণাৎ বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে অফসর আলি। এরপরেই পুলিশের দ্বারস্থ হয় তাঁর স্ত্রী নাজমা। দিন কয়েক আগেই প্রোমোশন পেয়েছেন ওই পুলিশের। কিন্তু নাজমা নিজের উপর হওয়া অত্যাচারের কথা যখন পুলিশ কর্তৃপক্ষকে জানান তখনই সাথে সাথে ডিমোশন হয়ে যায় অফসরের। আর এই সেই রাগেই সে নাজমাকে গাড়ির চাকায় পিষে খুন করেছে বলে জেরায় জানিয়েছে। 

More News:

Leave a Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

নজরকাড়া খবর

জেলা ভিত্তিক সংবাদ

Subscribe to our Newsletter

86
মিশন দিল্লি, পিকের চাণক্যনীতি কতটা কাজ দিল মমতার?