বাবাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে সম্পত্তি হাতিয়ে ২০ লাখ দেনা, শোধ না করতে পেরে মৃত্যুর নাটক ছেলের

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিবারের শান্তির জন্য বাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেছিলেন দীনেশ গুপ্ত। কিন্তু তিনি জানতেন না, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়েই শুরু হবে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র যা সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে। অভিযোগ, এক ব্যক্তি নিজের বাবাকে সরকারি কাগজে মৃত ঘোষণা করে তাঁর সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন এবং সেই জাল নথির ভিত্তিতে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণও গ্রহণ করেন। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পরে ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে তিনি নিজেকেও মৃত দেখানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

খিলচিপুরের বাসিন্দা দীনেশ গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে একটি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, প্রায় ৩৪ বছর আগে ববিতা গুপ্তার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলে-যশ ও পবন। সন্তানদের ভালো শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য তিনি সর্বস্ব উজাড় করে দিলেও সময়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। দীনেশের দাবি, বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। ধীরে ধীরে তাঁর স্ত্রীও ছেলেদের পক্ষ নিতে শুরু করেন। প্রতিদিনের অশান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি ২০২০ সালে বাড়ি ছেড়ে আলাদা ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তখনও তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁকেই নথিতে মৃত ঘোষণা করা হবে। ঘটনার সূত্রপাত একটি ফোন কল থেকে। ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল এক পরিচিত ব্যক্তি দীনেশকে জানান যে তাঁর ছেলে যশ বিপুল অঙ্কের ব্যাংক ঋণ নিয়েছে। খবরটি শুনে তাঁর সন্দেহ হয়, হয়তো পারিবারিক সম্পত্তিকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর ১৮ মে তিনি আগরের একটি ফাইন্যান্স ব্যাংকে যান এবং ঋণসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার আবেদন করেন। নথি হাতে পেয়ে তিনি অবাক হয়ে যান। সেখানে তাঁর নামের পাশে স্পষ্টভাবে ‘মৃত’ উল্লেখ ছিল।

আরও পড়ুন: ‘চাচা কি ডেয়ারিং তো দেখো!’ গোপনে প্রতিবেশীর ভিডিও তুলতে গিয়ে যা করলেন বৃদ্ধ…

তিনি সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি দেখিয়ে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও বিষয়টি দেখে বিস্মিত হয়। পরে তিনি পুরো ঋণ ফাইলের কপি সংগ্রহ করেন। তদন্তে জানা যায়, যশ গুপ্ত একাধিক সম্পত্তিকে নিজের বলে দাবি করে ব্যাংকের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন। খিলচিপুরের একটি বাড়ি এবং ইন্দোরের একটি দোকানকে নিজের সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়, যদিও সেগুলোর প্রকৃত মালিক অন্য ব্যক্তি। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের মামা রাকেশ অতীতে ওই সম্পত্তিগুলি ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পৌরসভার জাল সনদ, ভুয়ো সিলমোহর এবং নকল স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রথমে সম্পত্তি দীনেশ গুপ্তার নামে দেখানো হয়। পরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করে সম্পত্তির মালিকানা তাঁর স্ত্রী ববিতা গুপ্তা এবং ছেলে যশের নামে স্থানান্তর করা হয়। ঋণের নথিতে এমনকি অন্য ব্যক্তির দোকানের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছিল। সম্পত্তির বিবরণ ও বাস্তব তথ্যের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ঋণ অনুমোদিত হয়। ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট যশ ও তাঁর মা ব্যাংক থেকে ২০ লক্ষ টাকার ঋণ নেন। ১৫ বছরের এই ঋণের মাসিক কিস্তি ছিল ২৬ হাজার ৬৩৫ টাকা। মোট ২১টি কিস্তির মধ্যে মাত্র ১৪টি পরিশোধ করা হয়। দীর্ঘদিন কিস্তি বকেয়া থাকায় ঋণ হিসাবটি পরে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এছাড়া ২০২৩ সালে বেকারি ব্যবসার কথা বলে ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ধাবলি শাখা থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে মাত্র ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পর কিস্তি পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ব্যবসায় ক্ষতির অজুহাত দেখিয়ে ব্যাংকের কাছে আবেদনও করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ঋণের চাপ বাড়তে থাকায় যশ নতুন এক ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেন। অভিযোগ, তিনি বেওয়ারের একটি শ্মশানঘাট থেকে নিজের নামে জাল সংক্রান্ত রসিদ তৈরি করেন, যেখানে মৃত্যুর তারিখ হিসেবে ২০ মার্চ ২০২৬ উল্লেখ করা হয়। তবে এর মধ্যেই তিনি জানতে পারেন যে তাঁর বাবা পুরো বিষয়টি ধরে ফেলেছেন এবং ব্যাংক তদন্ত শুরু করেছে। এরপর তিনি নিজেকে মৃত দেখানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি ব্যাংকের কাছে আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে একটি আবেদন জমা দেন। দীনেশ গুপ্ত আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলের নামে দুটি ভিন্ন ঠিকানার আধার কার্ডও রয়েছে, যা নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এদিকে বেওয়ারের শ্রী মহাদেব মুক্তিধামের কর্মচারী ভূপেন্দ্র কুমার মিস্ত্রি দাবি করেছেন, যশের নামে দেখানো শ্মশানের রসিদটি তাদের রেকর্ডের সঙ্গে মেলে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অফিসিয়াল নথিতে রসিদ নম্বর ৩৭৪ পর্যন্ত রয়েছে, অথচ যশের ব্যবহৃত রসিদের নম্বর ছিল ৪০০। ফলে সেটি জাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

খিলচিপুর পৌরসভার প্রধান পৌর আধিকারিক দেব নারায়ণ ডাঙ্গি জানিয়েছেন, অভিযুক্তের ব্যবহৃত নথিগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো। পৌরসভার পক্ষ থেকে এমন কোনো আবেদন ইস্যু করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এফআইআর দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জাল নথির ভিত্তিতে হওয়া নাম পরিবর্তনের রেকর্ড বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খিলচিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমল সিং গেহলট জানান, পৌরসভা এবং দীনেশ গুপ্ত-উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কথিত জাল নথি, সম্পত্তি হস্তান্তর এবং ব্যাংক ঋণের কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আয়ুষ্মান ভারত কার্ড করতে কী কী নথি লাগবে? আবেদন করার আগে জেনে নিন

ফলতাকাণ্ডে নয়া মোড়, জাহাঙ্গির-পত্নীর বিরুদ্ধে অস্ত্র-বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের

‘প্লিজ আমার মা’কে তোলো’, হাতজোড় করে রাস্তায় বসে করুন আর্তি ৬ বছরের শিশুকন্যার

বর্ষার আমেজে পুষ্টির ছোঁয়া, বাড়িতেই বানিয়ে নিন স্পেশাল চিকেন স্ট্যু

কোহলির সমকক্ষ হয়ে উঠলেন গিল, অধিনায়ক হিসেবে লিখলেন নতুন অধ্যায়

‘অনুপ্রবেশে বদলেছে বাংলার জনবিন্যাস’, মমতার বিরুদ্ধে তোপ দেগে বললেন রাজ্যপাল

প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল ‘ধুরন্ধর’ এর চিত্রনাট্য? মুখ খুললেন রাকেশ বেদী

মহিলা কর্মীদের কু-প্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গ্রেফতার ৭৫ বছরের বৃদ্ধ

মেসি কাণ্ড: চাপে পড়ে অবশেষে হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস

‘এটা খুব সহজ ছিল না…’, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর যা বললেন ট্রাম্প

৫ বছরের শিশুকে গণধর্ষণের পর জলে ডুবিয়ে হত্যা, প্রমাণ লোপাটে কাদায় পুঁতে রাখল ধর্ষকরা

ষষ্ঠীতে স্পেশাল পদ, শেষ পাতে জামাইকে খাওয়ান আমের পায়েস

জোর ধাক্কা মমতার, ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, জানিয়ে দিল হাইকোর্ট

ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে গভীর খাদে গাড়ি উল্টে মৃত ৭