এই মুহূর্তে

WEB Ad Valentine 3

WEB Ad_Valentine




পুজোর ভ্রমণ: অফবিট দার্জিলিং, তিন চুল্লির পাহাড় তিনচুলে




নিজস্ব প্রতিনিধি: পুজোর ছুটি মানেই অনেকের কাছে পাহাড়ের হাতছানি। যদিও এই করোনাকালে ভ্রমণের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখন বড় ট্যুর প্ল্যান করার ঝুঁকি কেউ নিতে চাইছেন না। তাই, আমাদের রাজ্যের অফবিট জায়গা বা লুকোনো কোনও গন্তব্য খুঁজছেন অনেকেই। আজ সেরকমই এক অফবিট জায়গার কথা শোনাবো আপনাদের। দার্জিলিংয়ের ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে চলুন তিনচুলে। যারা খুব ঘোরাঘুরি করে থাকেন, তাঁরা এর নাম অবশ্যই শুনেছেন। তবে যারা শোনেননি, তাঁদের বলে রাখি তিনচুলে কোনও কালেই বিখ্যাত ট্যুরিস্ট স্পট ছিল না। পাহাড়ের গায়ে ছোট্ট একটা জনপদ মাত্র। তবে ছবির মতো সাজানো গোছানো জায়গা। নির্জনতা ও পাখির কূজন সঙ্গী করে সপর্ষদ কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করতে এই তিনচুলে আসতেই পারেন কয়েকদিনের পুজোর ছুটি কাটাতে।

কি ভাবছেন? কোথায় থাকবেন, কি কি দেখবেন আর কিভাবেই বা যাবেন? তবে আগে বলি কেন যাবেন তিনচুলে? কংক্রিটের জঙ্গল এড়িয়ে স্নিগ্ধ মনোরম ও নির্জন পরিবেশে বিছানায় গা এলিয়েই জানলা দিয়ে দেখুন স্লিপিং বুদ্ধ বা স্বপার্ষদ কাঞ্চনজঙ্ঘা। সারাদিন পাখির কিচিরমিচির শুনতে শুনতে ছায়া সুনিবিড় পাহাড়ি পথে হারিয়ে যাওয়া আর ওই সহজ সরল পাহাড়ি মানুষগুলোর আতিথেয়তা। এটাই হবে আপনার বাড়তি পাওনা। আগেই বলেছি, এখানে নির্জনতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরিসীম, তাই সেই অর্থে সাইট-সিইং খুব একটা নেই। তবুও এখানে দুই-তিন দিন কাটিয়ে দেওয়া যায় অনায়াসে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়িতে কালিঝোরার (Kalijhora) পথ ধরবেন। নামটা নিশ্চই শুনেছেন অনেকে, ওই যে অমিতাভ বচ্চনের বিখ্যাত অনুসন্ধান সিনেমার শুটিং এখানেই হয়েছিল। বিগ-বি অমিতাভ বচ্চনও এখানে দিন ১৫ ছিলেন।

খানিকটা সময় এখানে কাটিয়ে এবং প্রাতরাশ করে নিয়ে রওনা দিন তিস্তা বাজারের দিকে। তিস্তা বাজার হয়ে পেশক হয়ে তাগদা হয়ে পথ সোজা চলে গিয়েছে তিনচুলের দিকে। হিমালয়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে দুপুরের দিকে পৌঁছে যাবেন আপনাদের গন্তব্যে তিনচুলে। এখানে কয়েকটি রিসর্ট ও গেস্ট হাউস রয়েছে আপনাদের আথিতেয়তা দেবার জন্য়। যা আপনারা ইন্টারনেট ঘাটলে সহজেই পেয়ে যাবেন। এই এলাকার মানুষজন সম্প্রতি ইকো ট্যুরিজমের দিকে ঝুঁকেছেন। দার্জিলিং থেকে তিনচুলের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। কলিংপঙ থেকেও বেশি দূরে নয় তিনচুলে। পাহাড়টি একসময় তিনটি চুল্লি অর্থাৎ উনুনের মত দেখতে ছিল বলে এর নাম তিনচুলে।

পাহাড়ের কোলে এই ছোট্ট জনপদে ভালোই চাষবাস হয়, যার বেশিরভাগই ভেজষ পদ্ধতিতে। গ্রামের যেকোনও জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন দেবে আকাশ পরিস্কার থাকলে। তবে এখানে একটা সানরাইজ ভিউ পয়েন্ট আছে বৈকি। সেখানে হেঁটেই যাওয়া যায়। এছাড়া আছে গুরুদ্বারা ভিউ পয়েন্ট। আর এই পাহাড়ের গায়ে ঝুলে থাকা পাহাড়ি গ্রামটির বহু নীচে বয়ে যাচ্ছে সুন্দরী অথচ উত্তাল তিস্তা। যার গর্জন আপনি বহু উঁচু তিনচুলে গ্রামে বসেই শুনতে পাবেন।

জানেন? তিনচুলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইতিহাসের হাতছানিও রয়েছে। যা যথেষ্টই রোমাঞ্চকর। স্থানীয় গুরুদ্বারাটি প্রায় দুশো বছরের পুরোনো। প্রাচীনকালে দুর্ধর্ষ শকদের আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে এখানকার গুরুদ্বারা রকে আশ্রয় নিতেন স্থানীয় লামারা। এখানেই তাঁরা অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিতেন। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশরাও আসতেন এই গুরুদ্বারা রকে। জায়গাটি বেশ, হিমালয়ের বড় একটা অংশের ভিউ পয়েন্ট এই গুরুদ্বারা রক। আকাশ পরিস্কার থাকলে দেখা দেবে ঝলমলে কাঞ্চনজঙ্ঘা। আরেকটু হাঁটাহাঁটি করে চলে আসুন বড় কমলালেবুর বাগানে। পুজোর সময় গাছে গাছে ঝুলবে কমলা, চাইলেই হাত বাড়িয়ে পেরে নিতে পারেন। তবে বাগান মালিকের অনুমতি নেবেন। এই অঞ্চলে ভালো কমলালেবু, স্কোয়াশ চাষ হয়। বেশ কয়েকটি জ্যাম-জেলির কারখানাও আছে, একটু সময় নিয়ে দেখে আসুন সেগুলি। সেটাও একটা বড় পাওনা।

কিছুটা দূরেই রয়েছে চা বাগানের হাতছানি। ফলে তিনচুলে আপনাকে একটা অন্য জগতে নিয়ে যাবে একথা বলাই বাহুল্য। লকডাউন, করোনার ভয়, অফিস ও সংসারের চাপ থেকে কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে অনায়াসে চলে আসুন উত্তরবঙ্গে হিমালয়ের কোলে এই ছোট্ট জনপথে। আর হারিয়ে যান প্রকৃতির মাঝে নির্জনতা এবং পাখিদের কলতানে। এছাড়া কাছেপিঠে দেখে আসতে পারেন তাগদা অর্কিড গার্ডেন, লোকাল ফার্মিং, পেশক টি গার্ডেন, লামাহাট্টা, তিনচুলে মানাস্ট্রি এবং তিস্তা আর রঙ্গিতের মিলনস্থল ত্রিবেণী সঙ্গম।

কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন?

হাওড়া-শিয়ালদা ও কলকাতা স্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গগামী যেকোনও ট্রেন ধরে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে যান। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে সোজা তিনচুলে। স্টেশনের বাইরে টুরিস্ট গাড়ি আছে, দরাদরি করে নিতে পারেন। তবে যেখানে থাকবেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আগেভাগেই গাড়ি বুক করে রাখলে ভালো হয়, এতে ঠকার সম্ভাবনা কম।

তিনচুলে গ্রামে থাকার জন্য় বেশ কয়েকটি হোম স্টে এবং রিসর্ট রয়েছে। এখানে প্রশাসনিক স্তরে ইকো-ট্য়ুরিজম এবং ভিলেজ ট্য়ুরিজমে জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনচুলে গেলে খোঁজ করুন গুরুং গেস্ট হাউজ, অভিরাজ হোম স্টে, গুরুংস হোম স্টে, ইস্ট হিমালায়ন হোম স্টে। এছাড়া রয়েছে রাই রিসর্ট।




Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

উচ্ছের তেতোভাব কাটাবেন কী করে ? রইল টিপস

জামাইষষ্ঠীতে মিষ্টির গাছ তৈরি করলেন এক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী

জেনে নিন বাদাম কী শরীরের জন্য ভাল ?

ওজন কমাতে চাইলে ভুলেও খাবেন না যেসব ফল

তীব্র গরমে কনট্যাক্ট লেন্স পরে এই ৫ ভুল করছেন না তো ?

নির্জলা একাদশী কবে ? জেনে নিন তিথি, সময় ও মাহাত্ম্য

Advertisement




এক ঝলকে
Advertisement




জেলা ভিত্তিক সংবাদ

দার্জিলিং

কালিম্পং

জলপাইগুড়ি

আলিপুরদুয়ার

কোচবিহার

উত্তর দিনাজপুর

দক্ষিণ দিনাজপুর

মালদা

মুর্শিদাবাদ

নদিয়া

পূর্ব বর্ধমান

বীরভূম

পশ্চিম বর্ধমান

বাঁকুড়া

পুরুলিয়া

ঝাড়গ্রাম

পশ্চিম মেদিনীপুর

হুগলি

উত্তর চব্বিশ পরগনা

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

হাওড়া

পূর্ব মেদিনীপুর