এই মুহূর্তে

‘নিজের চরকায় তেল দিন’, রুশ তেল কেনার ‘অনুমতি’ বিতর্কে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি কমল হাসানের

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। যুদ্ধ আবহে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে ভারতকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এমনটা দাবি করতেই বিশ্বব্যাপী আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ট্রাম্প সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ কমল হাসানও। তিনি জানিয়েছেন, কেন ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে অন্য দেশ থেকে তেল কেনার অনুমতি দেবে, ভারত অন্য কোনও দেশের আদেশ গ্রহণ করবে না।

রাজ্যসভার সাংসদ এবং ‘মাক্কাল নিধি মাইয়াম’ (MNM) প্রধান কমল হাসান মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে বিঁধে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘মিস্টার মার্কিন প্রেসিডেন্ট, আমরা, ভারতের জনগণ, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতির অন্তর্ভুক্ত। আমরা অন্য দেশের কোনও আদেশ গ্রহণ করব না। দয়া করে, আপনি নিজের চরকায় তেল দিন।’ এখানেই শেষ নয়। ইরান যুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের রণংদেহি মেজাজকে খোঁচা দিয়ে অভিনেতা লেখেন, ‘সার্বভৌম দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্ব শান্তির একমাত্র ভিত্তি। আমরা আপনার দেশ এবং দেশের জনগণের শান্তি কামনা করি।’ ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধের কারণে মুখ থুব্‌ড়ে পড়েছে তেল সরবরাহের পরিবহন ব্যবস্থা। ইরান বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালী, যেখানে দিয়ে বিভিন্ন দেশে তেল সরবরাহ হয়। ভারতও প্রয়োজনে এখান দিয়ে তেল আমদানি করে। কিন্তু সেটাই বন্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল আমদানি-রপ্তানিতে সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

এই মর্মে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি ও ট্রাম্পের সহযোগী স্কট বেসেন্ট একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমেরিকা ভারতকে রাশিয়ান তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে। ভারতীয়রা খুবই ভাল ভূমিকা পালন করেছে। আমরা তাদের রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে বলেছিলাম। তারা তাই করেছিল। কিন্তু এখন বিশ্বজুড়ে তেলের অস্থায়ী ঘাটতি কমাতে, আমরা ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছি। আমরা মনে করি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।’ এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের জন্যে তেলের কোনও ঘাটতি হবে না। আমাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে তেল মজুদ আছে।’ প্রসঙ্গত, রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারত এবং আমেরিকার টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সেসময়ে অবশ্য নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছিল, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে যেখান থেকে প্রয়োজন সেখান থেকেই তেল কিনবে ভারত। কিন্তু গতবছর রুশ তেল আমদানির শাস্তি হিসাবে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে একটাই শর্তে, যদি ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করে। কিন্তু যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ভারত প্রয়োজনের অর্ধেক তেলই ওই পথ দিয়ে আমদানি করে। তাই ৩০ দিনের জন্য ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবে বলে জানিয়েছে আমেরিকা। তাতেই ক্ষুব্ধ কমল হাসান। যদিও এই ‘অনুমতি’ বিতর্কে ভারত সরকার জানিয়েছে, ‘হরমুজ রুটে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও, ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ এবং স্থিতিশীল রয়েছে। ভারত একাধিক বিকল্প সরবরাহ রুট থেকে তেল আমদানি করছে। জাতীয় স্বার্থে, ভারত যেখান থেকেই হোক, সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল ক্রয় করবে। তাই ভারত রাশিয়ান তেল কেনার জন্য কখনও কোনও দেশের অনুমতির উপর নির্ভর করেনি করবে না।’

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

আমেরিকার হয়ে এবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপাল তুরস্ক, ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ

তথ্য লুকানোর দায়ে পদ গেল কংগ্রেস বিধায়কের, হেরো বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা হাইকোর্টের

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অভিনন্দন পুতিনের

সন্তানকে কোলে নিতেই থরথর করে কাঁপছে বাবার হাত, ২০৩ মিলিয়ন ভিউজ ছাড়াল ভিডিও

ইরানের হামলার আশঙ্কায় আবুধাবিতে বন্ধ হয়ে গেল হিন্দু মন্দির

লাদেন-মাদুরোকে কব্জা করা বিশেষ ফোর্সকে ইরান পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প, এবার টার্গেট কে?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ